তুমি কে নির্বাচন নিয়ে কথা বলার

প্রশান্তি আন্তর্জাতিক ডেক্স॥ ড. কামালের হোসেনের সাথে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ঘন ঘন বৈঠক আর বি এন পি’র হুমকী ধামকীর আসল তথ্য ফাঁস হয়ে গেছে। নির্বাচন বানচালের যড়যন্ত্র অনেক পুরাতন তা অভিজ্ঞদের জানা। এ কারণেই নানা সময় ড. কামাল গংরা একই মঞ্চে বসে ভিন্ন ভিন কথা বলেন।tomi kota bolar kea
জানা যায় যে, গত ২০ মে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নটরডেম করে ড. কামাল হোসেনকে সম্মানসূচক ডিগ্রি প্রদান করে। নিউইয়র্কে অবস্থানকালে কয়েকজন সিনেটর এবং কংগ্রেসম্যানকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ব্রিফ করেন ড. কামাল হোসেন।
বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতিকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরে নিজের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি। পরদিন ২১ মে লন্ডনের উদ্দেশে রওনা দেন গণফোরাম নেতা ড. কামাল হোসেন। জানা গেছে, বিএনপির পলাতক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে গোপন বৈঠক করার জন্যই তড়িঘড়ি করে লন্ডন গিয়েছিলেনন ড. কামাল হোসেন। তখন থেকেই বাংলাদেশের নির্বাচন বাঞ্চাল করে একটি সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি করে তাবেদার সরকারকে ক্ষমতায় এনে বাংলাদেশের মাটিতে সামরিক ঘাঁটি তৈরী বা বিশেষ কিছু না জায়েজ ফায়দা নিতে অনেকটাই বেপরোয়া হয়ে চেষ্টা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
তাদের আসল টার্গেট চীনকে সাইজ করা।
তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তিনমাস পিছিয়ে দেয়ার প্রস্তাব করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। চারদিনের ঢাকা সফরে এসে উপসহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিস ওয়েলস বাংলাদেশের বিভিন্ন মহলে এরকম একটি প্রস্তাব নিয়ে কথা বলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে নির্বাচনে বিএনপিসহ তার শরীকরা অংশগ্রহণ নাও করতে পারে। সেক্ষেত্রে তিনমাস নির্বাচন পিছিয়ে দিয়ে একটি রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে এই নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করা যায় কিনা এ বিষয়টি বিভিন্ন মহলের কাছে জানতে চেয়েছেন এলিস ওয়েলস।
বাংলাদেশের সংবিধানের ১২৩(৩) (ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মেয়াদ অবসানের আগের নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে। আবার (খ)-তে সংসদ ভেঙে যাবার পরের নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে। ২৮ জানুয়ারি বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হবে। ওই সময়ের মধ্যে নির্বাচন না হলে, সংসদ ২৯ জানুয়ারি আপনা আপনি ভেঙে যাবে। সংসদ ভেঙে গেলে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, নির্বাচন ৩০ এপ্রিল পেছালে, বিরোধী দলগুলোর বেশ কিছু দাবী আপনা আপনি পুরণ হয়। সম্প্রতি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যে ৭ দফা দাবী দিয়েছে তাঁর প্রথম দাবীই হলো বর্তমান সংসদ তফসীল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে দিতে হবে।
মার্কিন উপ সহকারী পররাষ্ট্র মন্ত্রী ঢাকা সফরে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ন একজন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে এই প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন। ঐ উপদেষ্টা সরাসরি ঐ প্রস্তাব নাকচ করে দেন। ঐ উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচন পেছানোর কোনো ভাবনা সরকারের নেই।’ তবে, বিএনপি, ঐক্যফ্রন্ট এবং সুশীল সমাজের একাধিক প্রতিনিধি মার্কিন প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে। ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন মনে করেন, নির্বাচনের কোনো পরিবেশই এখন দেশে নেই। এতো স্বল্প সময়ের মধ্যেও নির্বাচন করাও সম্ভব নয় বলে তিনি মার্কিন উপ সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছেন। ড. কামাল মনে করেন, এখন থেকে আলাপ আলোচনা করে একটি সমঝোতায় এসে মার্চের মধ্যে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করা সম্ভব।
অন্য একটি সুত্রে বলেছে যে, এলিসের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানও এই প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়েছেন। তার মতে. ২৯ জানুয়ারি সংসদ ভেঙ্গে গেলে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে একটি গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের পথ উম্মুক্ত হতে পারে। সূত্র মতে, সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপকালে এলিস ওয়েলস বলেছেন, আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টি ছাড়া সব রাজনৈতিক দলই সংসদ ভেঙ্গে নির্বাচন চায়। মার্কিন ঐ কর্মকর্তা মনে করেন, সংসদ ভেঙ্গে নির্বাচন করলেই বিরোধি দলের একটি দাবী মানা হবে, সেক্ষেত্রে তারাও নির্বাচনে যেতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে। তবে আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মনে করেন ‘নির্বাচন পেছানো নির্বাচন বানচালের একটি ষড়যন্ত্র। আওয়ামী লীগ সেই ষড়যন্ত্র সফল হতে দেবে না।’
বাংলাদেশের একজন প্রবীণ রাজনীতিক উপসহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিস ওয়েলস উদ্দেশ্য করে বলেছেন যে, ‘তুমি কে বাছা বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন আগাবে না, পিছাবে, তা বলার বা পরামর্শ দেবার! আমরা জানি মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশী হলে, মাসি পরবর্তীতে হয় ডায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.