স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে যা বললেন সংসদীয় কমিটি

প্রশান্তি ডেক্স॥ গোটা দেশ এখন ডেঙ্গু ঝুঁকিতে। প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা।ডেঙ্গুর ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিকের বিদেশ সফর নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছে সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি।shato montre
বৈঠকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত প্রতিশ্রুতি নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনার এজেন্ডাভুক্ত না হলেও ডেঙ্গু পরিস্থিতি আলোচনায় ওঠে।
গত বুধবার (৩১ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সভাপতি আলী আশরাফসহ একজন সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে বৈঠকে অংশ নেওয়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও জবাব দেওয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
কমিটির সভাপতি মো. আলী আশরাফের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য মো. দবিরুল ইসলাম, মো. মুজিবুল হক, মইনউদ্দীন খান বাদল, আব্দুল মান্নান, ফখরুল ইমাম ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা অংশ নেন।
সূত্র জানায়, ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অবহেলা রয়েছে এমন অভিযোগ করে বৈঠকে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়।
সূত্র জানায়, বৈঠকে কমিটির সভাপতি আলী আশরাফ ও বাংলাদেশ জাসদ কার্যকরী সভাপতি মইনউদ্দীন খান বাদল সারাদেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহ পরিস্থিতিতির মধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন। তারা জানতে চান, এ সময়ে মন্ত্রী কেন বিদেশ সফরে গেলেন?
এ ব্যাপারে কোনও জবাব না দিলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। তারা কমিটিকে বলেছে, মশা নিয়ন্ত্রণ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়। এটা সিটি করপোরেশনের করার কথা। তবে, কোন কোন এলাকায় মশার ঘনত্ব বেশি ও ডেঙ্গুর আশঙ্কা ছিল, তা আগেই সিটি করপোরেশনের ২ মেয়রকে জানানো হয়েছিল। সরকারি হাসপাতালগুলো তাদের সাধ্যমতো সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ডেঙ্গুরোগীদের সেবা দিচ্ছে বলেও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, বৈঠকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কমিটির ২ জন সদস্য বলেছেন, এই মুহূর্তে মন্ত্রী বিদেশে থাকলে কীভাবে হবে। তবে মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে চুপ ছিল। অবশ্য ডেঙ্গু নিয়ে তারা একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে। তবে তাতে আমরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট হইনি। কমিটি তদারকি বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গুর পাশাপাশি চিকিৎসার সেবার মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দেখা যায়, একটি সরকারি হাসপাতাল কোথাও স্থাপন করা হলে তার কাছাকাছি একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল গড়ে ওঠে। চিকিৎসকদের বেলা ১টার পর আর হাসপাতালে পাওয়া যায় না। এজন্য আমরা সরকারি হাসপাতালগুলোতে সারপ্রাইজ ভিজিটে যাওয়ার কথা বলেছি।
উল্লেখ্য, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৬ জন। সরকারি হিসেবে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার সংখ্যা দাঁড়াল ১৪ জনে। তবে ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যান নি কেউই।
বুধবার (৩১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের দৈনিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে (৩০ জুলাই) সকাল ৮ থেকে (৩১ জুলাই) সকাল ৮ পর্যন্ত এই ২৪ ঘণ্টার হিসাব তুলে ধরা হয়। ৩০ জুলাই দেওয়া দৈনিক পরিসংখ্যানে জানানো হয় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ৮ জন।
এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদনে জানানো হয় গত ২৪ ঘন্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৪৭৭ জন। এর মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ৯২৮ জন। আর ঢাকা শহর বাদে ঢাকা বিভাগীয় এলাকায় রোগীর সংখ্যা ১১২ জন। ঢাকার বাইরে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৫৪৯ জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.