প্রশান্তি ডেক্স॥ রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিসানে হামলার ঘটনায় করা মামলায় আরও তিনজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। তারা হলেন ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত সিকদার, সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরী ও ডা. দীলিপ কুমার সাহা। গত মঙ্গলবার ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমানের আদালতে সাক্ষ্য দেন তারা। এ নিয়ে ২১১ জনের মধ্যে ১০৬ জনের সাক্ষ্য শেষ হলো। আদালত পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ১১ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন। আদালত সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত ২৯ আগস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের তিন শিক্ষক সাক্ষ্য দেন। এর আগে গত মঙ্গলবার আদালতে সাক্ষ্য দেন ইউনাইটেড হাসপাতালের দুই চিকিৎসক ও এক পুলিশ পরিদর্শক।
২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিসানে হামলা চালিয়ে বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। তাদের গুলিতে দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। পরে অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। ওই ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গুলশান থানায় একটি মামলা করে পুলিশ।
২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
মামলার আসামিরা হলেন জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, রাকিবুল হাসান রিগান, রাশেদুল ইসলাম ওরফে র্যাশ, সোহেল মাহফুজ, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, হাদিসুর রহমান সাগর, শরিফুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ। এছাড়া বিভিন্ন অভিযানে ১৩ জন নিহত হওয়ায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে মামলা থেকে তাদের অব্যাহতি দেয়া হয়।
হলি আর্টিসানে সেনাবাহিনীর অপারেশন থান্ডারবোল্টে নিহত পাঁচ হামলাকারী হলেন রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল।
এছাড়া এ মামলায় আসামিদের মধ্যে বিভিন্ন ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযানে নিহত আটজন হলেন- তামীম আহমেদ চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মারজান, তানভীর কাদেরী, মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম ওরফে মুরাদ, রায়হান কবির তারেক, সারোয়ান জাহান মানিক, বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট ও মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান।