আবুল বাশার নূরু॥ গত বুধবার গাজীপুরের শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় তার সঙ্গে ছোটবোন শেখ রেহানাও উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যখন প্রথম সরকার গঠন করি তখন থেকেই দেশের স্বাস্থ্য সেবার প্রতি সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিয়েছি। এজন্য ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসেই প্রান্তিক জনগোষ্ঠির মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য আমরা কমিউনিটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করি। সাতটি নার্সিং ইন্সটিটিউটকে কলেজে উন্নীত করে সেখানে বিএসসি কোর্স চালু করি। আরও ১৫টি কলেজ প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।
তিনি বলেন, নার্সিং হলো সবচেয়ে সম্মান জনক পেশা। একজন মানুষকে সেবা করার মাধ্যমে সুন্দর জীবনে ফিরিয়ে আনার মতো আনন্দ আর কি হতে পারে? এই মহৎ পেশায় যুক্ত হতে মানুষ যেন আগ্রহবোধ করে এজন্য আমাদের সরকার নার্সদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে।
শেখ হাসিনা অভিযোগ করে বলেন, ১৯৯৬ সালে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করার পর ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে এই সেবা বন্ধ করে দেয়। এর যুক্তি হিসেবে তারা বলে, কমিউনিটি ক্লিনিকে মানুষ সেবা নিয়ে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে দিবে। অথচ প্রতি ছয় হাজার মানুষের জন্য চালু করা এই স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রমটি খুব দরকারি। এখানে দরিদ্র মানুষেরা সহজেই সেবা পেয়ে থাকে। সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয় প্রসূতী নারী ও শিশুরা। এরা পায়ে হেঁটে এসে ডাক্তার দেখাতে পারেন।
নার্সিং পেশা নিয়ে সরকার আন্তরিক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগে ডিপ্লোমা নার্সিংয়ের ট্রেনিং দেয়া হতো। কিন্তু আমরা চাকরি ক্ষেত্রে নার্সের মর্যাদা বাড়িয়ে দিয়েছি। দেশে প্রথম নার্স মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন করেছি। আমরা এরই মধ্যে ৫ হাজার ১০০ নার্স নিয়োগ দিয়েছি। বর্তমানে দেশে ৩৩ হাজার নার্স কর্মরত আছে বিভিন্ন হাসপাতালে। আমরা ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক তৈরি করেছি।
চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পেশাদারিত্ব ও মানবিকতার সঙ্গে মানুষের চিকিৎসা সেবা দিন। শ্রমিক ও অবহেলিত মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে যা যা প্রয়োজন, তা সব করতে আন্তরিক সরকার।
বিশ্বমানের চিকিৎসা সেবা দেয়ার লক্ষ্যে ২০১৩ সালের ১৮ নভেম্বর যাত্রা শুরু করে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজ। এরপর থেকে বেশ সুনামের সাথেই এই হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। যাত্রা শুরুর ছয় বছর পর প্রথমবারের মতো সমাবর্তন হলো এই কলেজের।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ৪ বছরের স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করা ৭৯ জন কৃতি শিক্ষার্থীর হাতে সনদ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
এই গ্রাজুয়েশন অনুষ্ঠান দেশের আরো ছেলে মেয়েকে মহান সেবামূলক নার্সিং পেশায় আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই এই হাসপাতাল এবং নাসিং কলেজে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা সেবা রোগীরা পাবে এবং যা সারাদেশের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। জরুরি রোগী আনা নেয়ার জন্য তাঁর সরকার এখানে একটি আন্ডারপাস নির্মাণ করে দিয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে মানুষকে সেবা দেয়া।প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে প্রাজুয়েটদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করেন। তিনি রুবিনা জেসমিন (২০১৪ ১৫ শিক্ষাবর্ষ), পোষ্ট বেসিক’র শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার (২০১৪-১৫ শিক্ষা বর্ষ) এবং রীনা আক্তার (২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ) কে প্রধানমন্ত্রী পদক প্রদান করেন।
৭৯ জন শিক্ষার্থী, এরমধ্যে ৫৭ জন পোষ্ট বেসিকের শিক্ষার্থী ১ম ব্যাচে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
মালয়েশিয়ার কেপিজে হেলথ কেয়ার ইউনিভার্সিটি কলেজের উপাচার্য এবং স্কুল অব মেডিসিন বিভাগের ডীন অধ্যাপক ড. দাঁতো লোকমান সাইম অনুষ্ঠানে গ্রাজুয়েমন বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন। শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজের সিইও অধ্যাপক তৌফিক বিন ইসমাইল অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন।
গ্রাজুয়েশন অর্জনকারী শিক্ষার্থীগণের মধ্য থেকে ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী খায়রুল ইসলাম ও অনুষ্ঠানে নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তব্য দেন। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত সঙ্গীতের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী এবং শেখ রেহানা গ্রাজুয়েশন অর্জনকারি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ফটো সেশনে অংশগ্রহণ করেন।
এনার্জি প্যাক লিমিটেড শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজের জন্য দুটি অ্যাম্বুলেন্সের চাবি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।
২০১৩ সালের ১৮ নভেম্বর মালয়েশিয়ার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী দাঁতোসেরি মোহাম্মদ নজিব বিন তুন আব্দুল রাজাক বাংলাদেশ সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ট্রাস্টের সহ সভাপতি শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে এই হাসপাতাল উদ্বোধন করেন এবং ৮ এপ্রিল ২০১৫ সালে বর্তমান নার্সিং কলেজটির যাত্রা শুরু হয়।