মাস্ক কিনে বব্যহার করছেন কনস্টেবল পুলিশরা

প্রশান্তি ডেক্স ॥ আমার মুখে যে মাস্ক দেখছেন তার দাম ৩০ টাকা। এই মাস্ক নিজের টাকায় কিনেছি। আমার মত অনেক কনস্টেবল নিজের টাকায় মাস্ক কিনে করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ডিউটি করছেন।’ রাজধানীর কাওরানবাজারে সার্ক ফোয়ারা মোড়ে দায়িত্ব পালনের সময় এক নি:শ্বাসে এভাবেই বলছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) একজন কনস্টেবল। কোনো রকম ভনিতা ছাড়াই এই কনস্টেবল বলেন, ফার্মগেটে ফুটপাত থেকে তিনি মাস্কটি কিনেছেন। এই ধরনের সাধারণ মাস্ক পড়ে অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে আমরা সাধারণ মানুষের সেবা দিচ্ছি। তবে ভয় পাই না। এভাবেই দেশের সেবা করে যাব। এদের মত গত কয়েকদিনে সরেজমিনে মাঠ পর্যায়ে কাজ করা পুলিশ কনস্টেবলদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ব্যক্তিগত উদ্যোগে মাস্ক সংগ্রহ করা ছাড়া করোনা ভাইরাস মোকাবেলা করার কোন কার্যকরি সরঞ্জাম নেই তাদের। বিশেষ করে হ্যান্ড সেনিটাইজার, হ্যান্ড গ্লাভস ও সার্জিক্যাল মাস্ক তাদের সরবরাহ করা হয়নি। যদিও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পুলিশকে বিপুল পরিমান মাস্ক দেওয়া হয়েছে। এরপরও মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কনস্টেবলদের মাস্ক কিনে ব্যবহার করতে হচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে পুলিশের সদস্য সংখ্যা দুই লাখ ৬০ হাজার। এর মধ্যে এক লাখ ৮০ হাজার কনস্টেবল। এর মধ্যে পুলিশ কর্মকর্তা পর্যায়ের সদস্যদের বেশিরভাগ বাসায় অবস্থান করলেও বেশিরভাগ পুলিশ কনস্টেবল অবস্থান করেন জেলার পুলিশ লাইন্সে। করোনা ভাইরাস বিস্তার ঠেকাতে চিকিৎসকদের পরই সব চেয়ে বেশি দায়িত্বশীল ভূমিকায় রয়েছে পুলিশ। করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সারাদেশে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি লকডাউন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষনের জন্য পুলিশ সদস্যরা ‘অসাবধানতাবশ’ সাধারণ মানুষের সংস্পর্শে এসে করোনায় সংক্রমিত হচ্ছে। কখনো পালিয়ে থাকা করোনা রোগীকে ধরে হাসপাতালে পাঠানো, করোনা আক্রান্তের বাসা, ভবন ও এলাকা লকডাউন করা এবং ত্রাণ বিতরণসহ করতে গিয়ে পর্যাপ্ত পরিমান সুরক্ষাসামগ্রী না থাকায় সংক্রমিত হচ্ছেন তারা। এছাড়া রাস্তায় জীবানুনাশক তরল ছিটনোর কাজও করছে পুলিশ।পুলিশ সদর দপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, করোনা সংক্রমনের ঝুকি থাকায় বর্তমানে ৬৩৩ জন পুলিশ সদস্যকে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে সারাদেশে পুলিশের ৬৫ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের ৩০ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। ঝুঁকিতে থাকা পুলিশ সদস্যদের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন ১৪৩ জন। আর কোয়ারেন্টেন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৮৫ জন। এ ব্যাপারে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, সারাদেশে যেসব পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন তাদের বেশিরভাগ মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী। তাদের চিকিৎসা চলছে। আমরা মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের সাধ্যমত সুরক্ষামূলক সরঞ্জামাদি দেওয়ার চেষ্টা করছি। এই মূহুর্তে এসব সরঞ্জামের যথেষ্ঠ ঘাটতি রয়েছে। এরপরও সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে মাস্ক পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। মাস্কগুলো পরিষ্কার করে কিভাবে একাধিকবার ব্যবহার করা যায়- সেই কৌশলও পুলিশ সদস্যদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.