ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার সৈয়দাবাদ গ্রামে আমার জন্ম। তাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সোদা মাটির গন্ধে এবং নদিবিধৌত স্বচ্ছ পানির প্রবাহেই আমার বেড়ে উঠা। এই ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে নিয়ে অনেক গর্ব করার এবং স্মৃতিচারকমূলক গল্প, কাহিনী ও ইতিহাস খ্যাত সাক্ষীমূলক কথা শুনেছি আবাল বৃদ্ধ বনিতার মাধ্যমে এমনকি নিজ শৈশব, কৌশর এবং যৌবনের উন্মাদনার নিষকলুষ আনন্দমাখা দিনগুলি পৌড়ে এসেও ঝলমল করে যাচ্ছে সেই সুখময় স্মৃতি এবং গর্বের ও প্রশান্তির গুণে। পুরো বাংলাদেশ ঘুরে যেন আজ নিজ জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়াকেই আপন করে হৃদয়ের গহীণে স্থান দিয়ে রেখেছি। এই ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে বাংলাদেশ এর অন্য অঞ্চল তথা পৃথিবীর অন্য কোথাও খুজে পাওয়া যায় নি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে শীর উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য স্মৃতিময়তা নিয়ে। কি নেই আমার এই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। সার্বজনিন সংস্কৃতির ধারক ও বাহক এমনকি মৌলবাদি আচরণের আবেগঘন সম্মিলন, খুনীর বসবাস এমনকি জাতিয় বেঈমান ও বিপথগামি কুলাঙ্গারসহ উগ্রবাদী চিন্তার ধারক ও বাহক; পাশা-পাশি রয়েছে হিংসা ও বিদ্ভেশে ভরপুরতা থেকে হানা-হানি, মারামারির মহড়া; কৃষক, কামার, কুলি, জেলে, শ্রমিক, নাবিক, শিক্ষক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সচিব, সংবিধান প্রণেতা, রাষ্ট্র চালনায় ভুমিকা রাখার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগবর্গ; পীর মুরশীদ, অলী-আওলিয়া, গাউস-কুবুত, দ্বীণি আলেম, শিক্ষক, সমাজ সেবক, গায়ক, নায়ক, লেখক, কথক, কবি, ওষধ আবিস্কারক, দর্শণীয় স্থান, ইতিহাসের স্বাক্ষীসূলভ স্বাধীনতার গৌরভগাথা নিদর্শন, প্রাচীন পৌড়ের ঐতিহ্য, সু ও স্বমানধন্য বিখ্যাত তিতাস অববাহিকা, প্রাকৃতিক খনিজ খ্যাত বহুলাংশে ব্যবহৃত সেই তিতাস গ্যাস, কৃষির যোগানে উর্বরায়ন বর্ধক সার উৎপাদন কেন্দ্র, আলোকিত আলের জগতে ধারাবাহিক দৃশ্যমানতা রক্ষায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, বধ্যভূমি, পাহাড় এবং সমতল ও নদীর মিলনে উর্বর এক কৃষির অভয়ারন্য, বিদেশী অর্থ আনয়নের চালিকা শক্তির উৎস, রেলওয়ে জংশন, স্থল ও নৌ বন্দর, বিভিন্ন জেলায় যাতায়তের সহায়তাকারী সংযোগস্থল, সীমানা পিলারের মহড়ায় পরিপূর্ণ দুই দেশ (ইন্ডিয়া এবং বাংলাদেশ), সৌহাদ্য ও সম্প্রীতির ফলশ্রুতিতে সিমান্তহাট, স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়সহ আর অগণিত ইতিহাসের ইতিবাচক খনি।
এই ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে নিয়ে লিখতে ও বলতে গেলে আমাকে আরো পড়তে ও জানতে হবে তাই পড়া ও জানার জন্য লিখার ব্যাপ্তি বা কলেবড় বৃদ্ধি না করে বরং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকের লিখায় এবং লাইভ প্রচারনায় মনোনিবেশ করে নিজের জানাকে আরো সমৃদ্ধি করার চেষ্টা করছি। তবে আপনাদেরকেও বলছি ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে জানুন এবং গর্ব করার মত মানসিকতায় সমৃদ্ধ হউন। ইদানিং কিছু বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রচারণা লক্ষ্য করছি। তবে এই সকল প্রচারক এবং প্রচারণার কোনটিরই বিরুদ্ধচারী আমি নই। বরং প্রচারনার মাধ্যমে সত্যটুকু ফুটে উঠে আর মিথ্যাটুকু ঝড়ে পড়ে। তবে এইখানে আমার অনুরোধ সমৃদ্ধ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গর্বীত সন্তানরা নেতিবাচক এবং বিশ্রী ভাষার ব্যবহারের লাগাম টেনে ধরা উচিত। কারণ ব্রাহ্মণবাড়িয়া গুনান্বীত হবে আপনার আমার মার্জিত এবং সাবলিল ইতিবাচক গঠনমূলক আলোচনা ও সমালোচনা এবং সঠিক ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে জাতিকে এমনকি বিশ্ববাসীকে জ্ঞানে সমৃদ্ধিকরণে সহযোগীতা করার মাধ্যমে। তবে একজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গর্বিত সন্তান হিসেবে জাতির কাছে এমনকি বিশ্ব বিবেকের কাছে ক্ষমা চাওয়ার যথেষ্ট কারণও রয়েছে। আর সেই কারণে আমি সকলের পক্ষে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। খুন, মারামারি, চুরি, ডাকাতি, আত্মসাৎ এবং ধর্মীয় উম্মাদনা ও আবেগ সমবরণে অপরগতা এমনকি জাতির পিতার খুণি কুখ্যাত শাহারিয়ারের কারণে।
একটি দেশকে শক্তিশালী করতে হলে যা যা প্রয়োজন তার সবটুকুই রয়েছে আমার এই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। তবে ইদানিং আরেকটি বিষয় নিয়ে অতি কথন হচ্ছে যা হলো জোবায়ের সাহেবের জানাজা। এটি বড় কোন অন্যায় বা পাপ নয়। এটি ধর্মীয় অনুভুমি এবং একজন আলেমের প্রতি ভালবাসা। যে ভালবাসা মৃত্যুভয়কেও জয় করেছে। এখন কথা হলো আমার আপনার জানাযার ক্ষেত্রে মানুষতো দুরের কথা পশু পাখিও পাওয়া যেত কিনা সন্দেহ? চারিদিকের পরিস্থিতি এবং মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচারিত বিষগুলো পড়লে হয়তো আরো জ্ঞানের পরিসিমা বৃদ্ধি পাওয়া যেত। ইসলামের ভালবাসা এবং ধর্মীয় আবেগ থেকে যে কাজটুকু হয়েছে এর জন্য কেউ দায়ী নয় এবং কেউ এর ব্যত্যয় ঘটাতেও পারতো না। কারণ সাধারণ মানুষ মৃত্যুকে নিশ্চিত জেনেই জোবায়ের সাহেবের জানাযায় অংশ নিয়েছেন। এতে পুলিশ প্রশাসনের ব্যর্থতা বলা যাবে না তবে জাতিয় গোয়ান্দাদের (এনএসআই, এসবির) ব্যর্থতা বলা যায়। যদি আগে থেকেই মোবাইল যোগাযোগ থেকে অবস্থার আচ করা যেত তাহলে হয়ত বুদ্ধপূর্ভক এই সমাগম এড়ানো যেত। যা হওয়ার তাতো হয়েই গেছে। এতে সরকার’র আইন অমান্য করা হয়েছে তাই সরকার আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেয়ার তাই নিবে এবং নিয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ হিসেবে ঐ জেলাকে নিয়ে কটাক্ষ করার কোন অধিকার কেউ দেয়নি। আর যে সকল মানুষগুলো ঐ জেলাকে নিয়ে মন্তব্য করে যাচ্ছেন তাদের নিজ চরিত্রের যেমন ঠিক নেই তেমনি করে কারো জন্মেরও ঠিক নেই। তাই আপনারা জাতির এই ক্রান্তিকালে আর নতুন কোন অশনি সংকেতের কারণ হতে যাবেন না। কারণ ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং একটি স্বনামধন্য জেলা তথা জেলাবাসির অসম্মানের কারণ হয়ে নিজেকে বিপদে জড়ানো থেকে বিরত থাকুন। ইতিমধ্যে যারা ঐসকল কাজে জড়িয়েছেন তারা নিশর্ত ক্ষমা চেয়ে নিজেদেরকে শুধরিয়ে নেন এবং জাতিকে শান্ত থেকে করোনা মোকাবেলায় মনোনিবেশ করতে সহায়তা করুন।
ডাক্তারদের পেশা হলো সেবাদান এবং সেবকের ভুমিকায় অবতির্ণ হওয়া। কে হিন্দু, কে মুসলিম, কে বৌদ্ধ আর কে জানাযায় অংশগ্রহণ করেছেন তা তার বিবেচ্য বিষয় হতে পারে না। বরং রোগীর রোগ সারানো এবং মানষিক শক্তি বৃদ্ধিই মূল লক্ষ্য। তাই দয়া করে ডাক্তারদের বলছি অপনারা এই দুর্যোগে নিজেদেরকে সেবার মনোভাবে পুরোপুরি বিলিয়ে দিয়ে জাতিকে স্বস্তি দিন। নিজেরা অহেতুক কোন জামেলায় নিজেও জড়াবেন না এমনকি জাতিকে ফেলবেন না। এই করোনা মোকাবেলায় রাষ্ট্র, সরকার, সরকারের বিভিন্ন বাহিনি এবং জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ঐক্যের ভিত গড়–ন এবং সকলে মিলে একযোগে কাজ করে অগ্রসর হউন। তাহলেই এই দুর্যোগ কাটিয়ে ওটা সম্ভব হবে। নতুবা কারো একক প্রচেষ্টায় এই দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠা কোনক্রমেই সম্ভব নয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে একজন স্বনামধন্য ডাক্তার রোগীকে যেভাবে ফিরিয়ে দিয়ে অপমান করেছেন সেই ক্ষত পুষিয়ে নিতে পদক্ষেপ নিন এবং আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গর্বকে আরো বাড়িয়ে তুলুন। সকল অন্যায়, অভিযোগ এবং অবোঝ আচরণের জন্য ক্ষমা চেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গর্বকে আরো সুউচ্চ স্তরে পৌঁছে দিতে সকলে একযোগে কাজ করি এবং সরকার প্রধানকে দুর্যোগ মোকাবেলায় যার যার অবস্থান থেকে সহযোগীতা করি। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে আরো বেগবান করতে অতিতের ন্যায় আরো শক্তিশালী ভুমিকা রাখি।