প্রশান্তি ডেক্স॥ ইউক্রেইনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভে রুশ বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৬ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। রুশ বাহিনী মারিউপোলের প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি করার পর ইউক্রেইনের অন্যান্য শহরেও হামলা চালিয়েছে।

ইউক্রেইনীয়দের প্রতিরোধের মুখে উত্তরাঞ্চল থেকে সরে এসে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী দেশটির দনবাস নামে পরিচিত দুটি পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ স্থল হামলা জোরদার করেছে। পাশাপাশি রাজধানী কিইভসহ অন্যান্য শহরেও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, বন্দরনগরী মারিউপোলের দখল রাশিয়ার জন্য বড় ধরনের কৌশলগত সাফল্য বয়ে নিয়ে আসতে পারে, এই শহরটি ইউক্রেইনের পূর্বাঞ্চলের রাশিয়াপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোর সঙ্গে দক্ষিণের ক্রাইমিয়াকে সংযুক্ত করবে, যে উপদ্বীপটি ২০১৪ সালেই রাশিয়া নিজেদের ভূখণ্ডভুক্ত করে নিয়েছে।
গত সোমবার লভিভ অঞ্চলের গভর্নর মাক্সিম কোজিয়াৎস্কি জানান, লভিভের একটি সামরিক স্থাপনা ও একটি গাড়ির টায়ার সার্ভিস পয়েন্টে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।
লভিভ শহরের মেয়র আন্দ্রি সাদোভি জানিয়েছেন, হামলায় ৬ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছে আর বিস্ফোরণের ধাক্কায় একটি হোটেলের জানালাগুলো ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে।
ইউক্রেইনের বিভিন্ন অংশ থেকে পালিয়ে আসা লোকজন এই হোটেলটিতে আশ্রয় নিয়ে আছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
কিয়েভে নিপ্রো নদীর কাছে ধারাবাহিক কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন রয়টার্সের একজন সাংবাদিক। দক্ষিণাঞ্চলীয় নিপ্রোপেত্রভস্কে বোমা হামলায় দুজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যম সসপিলনা জানিয়েছে।
রাশিয়া বেসামরিকদের লক্ষ্যস্থল করার কথা অস্বীকার করে শান্তি আলোচনার অবমূল্যায়ন করতে তারা নৃশংসতা চালাচ্ছে, ইউক্রেইনেরে এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
প্রায় দুই মাস আগে ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেইনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। ইউক্রেইনকে নিরস্ত্রীকরণ ও নব্যনাৎসী মুক্ত করতে দেশটিতে তারা ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ চালাচ্ছে বলে দাবি করে আসছে মস্কো।
অপরদিকে পশ্চিমা দেশগুলো ও কিইভের অভিযোগ, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিনাউস্কানিতে দেশটিতে আগ্রাসন চালাচ্ছেন।
সোমবার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতে তারা ইউক্রেইনের চারটি অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের গুদাম ধ্বংস করে দিয়েছে এবং ৩১৫টি ইউক্রেইনীয় লক্ষ্যে হামলা চালিয়েছে।
মারিউপোলের লড়াই

ইউক্রেইনের প্রধানমন্ত্রী দেনিস সুমাইহাইল জানিয়েছেন, রাশিয়ার আত্মসমর্পনের দাবি সত্ত্বেও বিধ্বস্ত মারিউপোলে ইউক্রেইনীয় সেনারা রোববারও লড়াই অব্যাহত রেখেছিল।
“এখনও শহরটির পতন হয়নি,’ এবিসি নিউজের ‘এই সপ্তাহ’ অনুষ্ঠানকে বলেছেন তিনি। ইউক্রেইনীয় সেনারা পূর্বদক্ষিণাঞ্চলীয় শহরটির কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণ এখনও ধরে রেখেছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
শনিবার রাশিয়া বলেছে, তারা মারিউপোল শহর এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, যদিও কিছু ইউক্রেইনীয় যোদ্ধা আজভস্তাইল ইস্পাত কারখানায় এখনও অবস্থান নিয়ে আছে।
আজভ সাগরের তীরবর্তী ১১ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়ানোর আজভস্তাইল ইউরোপের সবচেয়ে বড় ইস্পাত কারখানাগুলোর একটি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মারিউপোলের রাস্তাগুলোতে ভেঙ্গে পড়া গাছ ও পুড়ে ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনগুলোর মাঝে রঙিন কম্বলের নিচে অনেকগুলো ছোট ছোট দলে বিভক্ত করে লাশের সারি রেখে দেওয়া হয়েছে। শহরটির বাসিন্দারা, তাদের কেউ কেউ সাইকেলে চড়ে, ধ্বংস হয়ে পড়ে থাকা ট্যাংক ও বেসামরিক যানগুলোর মধ্য দিয়ে পথ করে এগিয়ে যাচ্ছিলেন আর রুশ সেনারা গাড়িতে থাকা লোকজনের কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখছিলেন। তবে সর্বশেষ খবরানুযায়ী পুতিন মারিউপোল দখলে নিয়েছেন এবং তাঁর বিজয়ের ঘোষণা তিনি দিয়েছেন। তিনি এও দেখিয়েছেন যে, পশ্চিমারা বা আমেরীকার বাড়াবাড়ি যে বড় ধরণের বিপর্যয় ডেকে আনছে তার ফলস্বরূপ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর আর্ন্তদেশীয় ক্ষেপনাস্ত্র সফল পরিক্ষা চালিয়ে বিশ্বের একমাত্র প্রযুক্তিনির্ভর মরনাস্ত্রের প্রকাশ ঘটিয়েছেন। তবে বিশ্ব এখন এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসার জন্য পুতিনের সঙ্গে আলোচনা এবং বৃহৎ স্বার্থে ক্ষুদ্র স্বার্থের জলাঞ্জলী দেয়া উচিত।