একদিনে ১৪ইউনিয়নে বিএনপির পকেট কমিটি গঠনের অভিযোগ, তৃণমূলে ক্ষোভ

প্রশান্তি ডেক্স ॥ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় একদিনে ১৪টি ইউনিয়নে বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ঢাকায় কেনদ্রীয় এক নেতার বাসায় বসে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব অর্থের বিনিময়ে এসব কমিটি গঠন করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

গত ২ মার্চ রাতে ১৪টি ইউনিয়নে বিএনপির কমিটির অনুমোদন দেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাবুল আহমেদ ও সদস্যসচিব মাহমুদুল হাসান। কোনও ধরনের সভা-কাউন্সিল এমনকি তৃণমূল নেতাকর্মীর সিদ্ধান্ত ছাড়াই কমিটি অনুমোদনের বিষয়টি প্রকাশের পর থেকে শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা।

অনেকে কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। পদবঞ্চিত একাধিক নেতাকর্মীর অভিযোগ, শীর্ষ এই দুই নেতা অর্থ বাণিজ্যের মাধ্যমে পছন্দের লোকজনকে পদে রেখে এসব ইউনিয়নে কমিটি অনুমোদন করেন। শুধু তাই নয়, অনুমোদিত এসব কমিটিতে বিগত সময়ে বিতর্কিত আওয়ামী লীগের চিহ্নিত অনেকে পদ পেয়েছেন।

তাদের দাবি, বিগত সময়ে নির্যাতিত ও ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগীদের কমিটিতে জায়গা দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী বিভিন্ন ইউনিয়ন নেতাকর্মীদের সঙ্গে কর্মী সমাবেশ করে কমিটি গঠনের কথা বলা হলেও তা উপেক্ষা করে পকেট কমিটি করা হয়েছে। এতে দলের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন সময় অপকর্মে জড়িত থাকা নেতাদের দেওয়া হয়েছে দায়িত্বশীল পদ। এতে ত্যাগীরা বঞ্চিত হয়েছেন।

একাধিক ত্যাগী নেতাকর্মী জানান, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন হয়েছিল তিন বছর আগে। দলীয় নিয়ম অনুযায়ী এসব কমিটির মেয়াদ তিন মাস পর্যন্ত থাকতে পারে। কিন্তু বিগত তিন বছর ধরে আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন বাবুল আহমেদ ও সদস্যসচিব মাহমুদুল হাসান প্রামাণিক। মেয়াদোত্তীর্ণ আহ্বায়ক কমিটির এই দুই নেতা সম্প্রতি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তৃণমূলের অন্তত ছয় জন নেতা জানিয়েছেন, দলের পেছনে থেকে বিগত সময়ে আমরা বিভিন্ন হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। বিগত স্বৈরশাসকের সময়ে হয়রানির অসংখ্য মামলায় জেলে যেতে হয়েছে। কিন্তু যারা কখনও রাজপথে ছিলেন না তাদের পদ দেওয়া হয়েছে। ঢাকায় বসে একসঙ্গে এতগুলো কমিটি অনুমোদন দেওয়া বিএনপির কোন গঠনতন্ত্রে আছে? তারা তো প্রতিটা ইউনিয়নে কর্মী সভা করে সবার মতামতের ভিত্তিতে কমিটি করবে। সেটা না করে একক সিদ্ধান্তে কমিটি অনুমোদন দিয়ে ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়েছেন। এসব পদ-পদবি আগেই বিক্রি করে দিয়েছেন নেতারা।

এ বিষয়ে বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য বেলায়েত হোসেন সবুজ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন মামলার আসামি হয়ে পলাতক ছিলাম। বিএনপি করার জন্য নির্যাতনের শিকার হয়েছি। হঠাৎ করে শুনি ইউনিয়ন আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন হয়েছে। কিন্তু সেই কমিটিতে আমার মতো ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে বিভিন্ন দলের সুবিধাভোগীদের পদে রাখা হয়েছে।

দহবন্দ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক নেতা আহসান হাবীব ডলার বলেন, ‘আমি বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের হয়রানিমূলক মামলার শিকার হয়েছি। আমাকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। আজকে তারা আমাকে বাদ দিয়ে ঢাকায় বসে কমিটি গঠন দিয়েছেন।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা বিএনপির শীর্ষ এক নেতা বলেন, ‘ইউনিয়ন কমিটিগুলো ঢাকায় বসে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একসঙ্গে ১৪ ইউনিয়নের আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন ঢাকায় কেন, কোথাও বসে দেওয়ার সুযোগ নাই। তৃণমূলের সঙ্গে সভা করে কমিটি দিতে হয়। তবে একটা আশ্চর্যের বিষয় হলো আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টির নেতাদেরও পদে রাখা হয়েছে। আসলে এগুলো পদ বাণিজ্যের কারণে এভাবে কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন নেতারা।’ তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মাহমুদুল ইসলাম প্রামাণিক। তিনি বলেন, ‘সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৪টি ইউনিয়নে বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে। এসব কমিটি গঠনে অনিয়ম হয়নি। এ ছাড়া অর্থ বাণিজ্য কিংবা আওয়ামী লীগের কেউ পদ পাওয়ার প্রশ্নই উঠে না। আমরা গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মী সমাবেশ করেছি। এরপর জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশ মোতাবেক বিশেষ আংশিক কমিটি অনুমোদন করা হয়। তবে পুরো কমিটিতে অনেকের পদ পাওয়ার সুযোগ আছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.