প্রশান্তি ডেক্স ॥ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই শেখ হাসিনার বিচার করতে হবে এমন হুঁশিয়ারি দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, ‘যে সময়টুকু এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আছে…, নির্বাচনের আগেই খুনি হাসিনাকে বাংলাদেশে নিয়ে এসে ফাঁসির মঞ্চে নিতে হবে। যত দিন না পর্যন্ত খুনি হাসিনাকে ফাঁসির মঞ্চে দেখছি, তত দিন যেন কেউ ভুলক্রমেও নির্বাচনের কথা না বলে।’

গত মঙ্গলবার (৪ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের কবর জিয়ারত ও দোয়া শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
সারজিস আলম এসময় বলেন, ‘খুনি হাসিনা শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকতে একের পর এক খুন করতে দ্বিধা করেনি। এমন অনেক ভাই আছেন, যাদের হত্যার পর তাদের লাশ কোথায় নেওয়া হয়েছে; সেটাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। যে ঘটনা আমরা শাপলাতে (শাপলা চত্বরে) দেখেছিলাম যে, শতশত লাশ খুনি হাসিনা ফেলেছে। কিন্তু লাশগুলো পাওয়া যায়নি।’
এসময় জুলাই আন্দোলনে এক শহীদের মা সেখানে ছেলের ছবি নিয়ে উপস্থিত ছিলেন। তার দিকে ইঙ্গিত করে সারজিস বলেন, ‘এই মা তার সন্তানের লাশের জন্য, শেষবার একটু দেখার জন্য এখনও আহাজারি করছেন। এই মাকে সেদিন বায়তুল মোকাররমের সামনেও দেখেছি।প্রত্যেকটা জায়গায় এই মা এভাবে আহাজারি করে ছুটে বেরিয়েছেন। আমরা হয়তো আমাদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টাটুকু করতে পারি, কিন্তু এটা (নিশ্চিত করে) বলতে পারি না যে— কখনও পাবো কি পাবো না।’
জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে অনেকেই নিখোঁজ রয়েছেন, অনেক বেওয়ারিশ লাশও রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। তাদের ডিএনএ স্যাম্পল কালেকশন করা হয়েছে। শিগগিরই তাদের পরিচয় শনাক্ত করা যাবে উল্লেখ করে সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা আমাদের ভাইদের পরিচয় হয়তো শনাক্ত করলাম, সেটা একটা বিষয়।… কিন্তু খুনি হাসিনা ও তার দোসরদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত কোনও মানুষ, কোনও রাজনৈতিক দল যেন অন্য কোনও বিষয় নিয়ে এই বাংলাদেশে কথা না বলে। আগে খুনি হাসিনার বিচার হতে হবে, তারপর বাংলাদেশ অন্য কিছু চিন্তা করবে।’
তিনি বলেন, ‘যে খুনির নির্দেশে আমার ভাইগুলোকে হত্যা করা হলো, সে খুনির বিচার না দেখা পর্যন্ত কীভাবে এই বাংলাদেশে অন্য কিছু চিন্তা করি? এই খুনি হাসিনাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসতে হবে একটা কারণেই— খুনি হাসিনা আসবে, বিচারের মঞ্চে দাঁড়াবে, এরপর ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়াবে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি এই খুনি হাসিনার বিচার দৃশ্যমান করে যেতে না পারে, তাহলে সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইন মন্ত্রণালয়ের দুই উপদেষ্টা সারা জীবন এই দায় বয়ে বেড়াবেন উল্লেখ করে সারজিস বলেন, ‘এই দায় বহন করার মধ্যে সবশেষ না। এই বিচার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েই করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যারা জুলাইয়ে রাজপথে ছিলাম, আমার যে ভাইয়েরা রাজপথে জীবন দিয়েছে, যে মায়েদের চোখ দিয়ে এখনও কান্না ঝরছে, পানি পড়ছে; আমরা যেন মরার আগে অন্তত খুনি হাসিনার বিচারটা দেখে মরতে পারি।’
কবর জিয়ারত ও দোয়ার সময় জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদসহ নতুন দলটির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তারা।