প্রশান্তি আন্তর্জাতিক ডেক্স ॥ ইরানের কাছ থেকে আমদানি করা বিদ্যুৎ ও গ্যাসের কোনও তাৎক্ষণিক বিকল্প না থাকায় ইরাকের বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির তিন শক্তি কর্মকর্তা। গত রবিবার (৯ মার্চ) তারা জানান, বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে দেশটির বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে পড়বে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

ইরাকের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘মার্কিন সিদ্ধান্তের প্রভাব কমাতে ইরাক সরকার জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে।’
তিনি আরও বলেছেন, ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন ইরাককে ইরান থেকে বিদ্যুৎ আমদানির অনুমতি দেওয়া ছাড়পত্র বাতিল করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র গত শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ কৌশলের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইরাক ইরান থেকে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করে, যা দেশটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ২০ শতাংশ। এ ছাড়া ইরান থেকে গ্যাসও আমদানি করে ইরাক, যা তাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো চালানোর জন্য অপরিহার্য।
বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানের জ্বালানি রফতানি বন্ধ হলে ইরাকের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ব্যাপকভাবে হ্রাস পাবে। এর ফলে গ্রীষ্মকালে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ও অন্যান্য চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে পড়বে।
ইরাকের সরকার এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর জন্য জরুরি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দেশীয় গ্যাস ক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলন এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর দক্ষতা বাড়ানো। তবে এসব পদক্ষেপের ফল পেতে সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ২০১৮ সালে। এরপর থেকে ইরাককে ইরান থেকে জ্বালানি আমদানির জন্য কয়েক দফা ছাড়পত্র দেওয়া হয়। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে ইরাকের বিদু্রৎ খাতে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।