যুক্তরাষ্ট্রের জবরদস্তি সমঝোতা মেনে নেবে না ইরান

প্রশান্তি আন্তর্জাতিক ডেক্স ॥ ইরানকে অন্যায় আধিপত্য দেখিয়ে সমঝোতার টেবিলে বসানো যাবে না বলে দাবি করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চিঠি পাঠানোর ঘোষণার পর গত শনিবার (৮ মার্চ) এ কথা বলেছেন তিনি। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আলোচনা প্রস্তাবের নেপথ্যে রয়েছে তাদের দাবিদাওয়া ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা।

খামেনিকে উদ্ধৃত করে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, কিছু দেশ আছে, যারা আলোচনার নামে আসলে নিত্যনতুন দাবি দাওয়া চাপানোর ফন্দি খুঁজে বেড়ায়। আমাদের পারমাণবিক কর্মসূচিতেই তাদের আবদার সীমাবদ্ধ থাকবে না। তেহরান তাদের ইচ্ছা পূরণের সুযোগ দেবে না।

বক্তব্যে কোথাও সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথা উল্লেখ করেননি তিনি।

ফক্স নিউজকে ট্রাম্পের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারের জবাবে সম্ভবত এই কথা বলেছেন খামেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, ইরানকে বাগে আনার জন্য তার সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ কার্যক্রম চলমান থাকবে। বিশ্ব অর্থনীতি থেকে তেহরানকে একঘরে করে তাদের তেল রফতানিকে শূণ্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেছেন, ইরানকে সামলানোর কেবল দুটো উপায় আছে। হয় তাদের সামরিক উপায়ে শায়েস্তা করতে হবে নতুবা পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আকাঙ্‌ক্ষা বাদ দিয়ে চুক্তি করতে হবে।

ইরান সবসময়ই দাবি করে এসেছে, অস্ত্র তৈরির জন্য নয় বরং শান্তি মূলক কার্যক্রমের জন্য (যেমন বিদ্যুৎ উৎপাদন) তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি চলমান আছে।

জবরদস্তির বিরুদ্ধে ইরান মাথা নত করবে না দাবি করে খামেনি বলেছেন, দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ও আন্তর্জাতিক প্রভাবের মতো বিষয় নিয়ে তারা চাপ প্রয়োগ করছে। তাদের এসব দাবি ইরান কোনওভাবেই মেনে নেবে না।

ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকেও কেবল আত্মরক্ষামূলক বললেও, তাদের এই দাবিকে খুব একটা পাত্তা দেয় না পশ্চিমা বিশ্ব। তাদের দৃষ্টিতে, অস্থিতিশীল মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের অস্ত্র হুমকি বৈ কিছু নয়।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান তার সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো ড্রোনবাহী জাহাজ এবং একটি ভূগর্ভস্থ নৌঘাঁটির ঘোষণা দিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে দেশটির ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ইঙ্গিত দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.