ইরানের সঙ্গে বৈঠকে বসছে ইউরোপীয় শক্তিগুলো, নিষেধাজ্ঞার হুমকি

প্রশান্তি আন্তর্জাতিক ডেক্স ॥ ইরানের সঙ্গে ইউরোপের শীর্ষ তিন শক্তির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বৈঠকে বসবেন। পশ্চিমাদের দাবি নিয়ে গত মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) জেনেভায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পশ্চিমাদের দাবি অনুযায়ী ইরান যদি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ না কমায় এবং পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ)পরিদর্শকদের সঙ্গে সহযোগিতা না করে, তাহলে ২০১৫ সালের চুক্তির আওতায় প্রত্যাহার করা নিষেধাজ্ঞার মুখে আবারও পড়বে তেহরান। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

ফ্রান্স, ব্রিটেন ও জার্মানিকে সম্মিলিতভাবে ‘ই-থ্রি’ বলা হয়।  বহুদিন ধরেই এই তিন শক্তি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে নিষেধাজ্ঞা ‘স্ন্যাপব্যাক মেকানিজম’ সক্রিয় করার হুমকি দিয়ে আসছে।

২০১৫ সালে ইরান এবং প্রধান শক্তিগুলো (যেমন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, চীন, রাশিয়া) একটি পারমাণবিক চুক্তি (জেসিপিওএ) স্বাক্ষর করেছিল। ১৮ অক্টোবর চুক্তিটির ১০ বছর পূর্ণ হবে এবং যদি চুক্তিটির কোনও নবায়ন বা দীর্ঘায়ন না হয় তাহলে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি অকার্যকর অবস্থায় শেষ হয়ে যাবে।

এক ই-থ্রি কর্মকর্তা বলেছেন, আমরা দেখতে চাই ইরানিরা সত্যিই চুক্তি নবায়নের ব্যাপারে আন্তরিক কিনা। আমরা দেখতে চাই তারা আমাদের শর্তগুলোতে কোনও অগ্রগতি ঘটিয়েছে কিনা?

এর আগে গত ২৫ জুলাই ইস্তাম্বুলে ইরান ও ইউরোপীয়দের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক আলোচনাগুলো উত্তেজনাপূর্ণ। কারণ ই-থ্রি’র মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমাবর্ষণ করায় তেহরান ক্ষুব্ধ।

পশ্চিমা শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে আইএইএ’র পরিদর্শন পুনরায় শুরু করা, কূটনীতিতে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়া এবং ইরানের বৃহৎ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুতের হিসাব দেওয়া। তবে ইরান বারবার ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করেছে।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাতে বাধ্য হয়েছিল তারা। কারণ ইরান খুব দ্রুতগতিতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সামর্থ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল।

তেহরান অস্বীকার করেছে যে তারা পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে চায় : ইরান ৬০ শতাংশ পযন্ত বিশুদ্ধতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে। তবে তা প্রায় ৯০ শতাংশ অস্ত্র মানের মাত্রা থেকে এক ধাপ দূরে।

এদিকে আইএইএ বলেছে, যদিও তারা নিশ্চিত করতে পারে না যে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, তবুও তাদের কাছে কোনও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই যে ইরান একটি সমন্বিত অস্ত্র কর্মসূচি চালাচ্ছে।

ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। তবে ইরান আইএইএকে ওই স্থাপনাগুলোতে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। তাদের যুক্তি পরিদর্শকদের জন্য তা নিরাপদ নয়। ইরানের বৃহৎ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুতের বর্তমান অবস্থা ও অবস্থানও অস্পষ্ট।

এক ইরানি কর্মকর্তা বলেছেন, আমাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ক্ষতির কারণে আইএইএ’র সঙ্গে নতুন পরিকল্পনায় সম্মত হতে হবে। বিষয়টি আমরা সেটা আইএইএ কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।

পশ্চিমা কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা সন্দেহ করছেন ইরান আবারো এমন এক আলোচনা কৌশল গ্রহণ করেছে যার উদ্দেশ্য সময় নষ্ট করা ও আলোচনা দীর্ঘায়িত করা। গত মঙ্গলবারের আলোচনায় ই-থ্রি চেষ্টা করবে সেটি নির্ধারণ করার।

তবে তেহরান সতর্ক করেছে, যদি নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা হয় তবে ‘কঠোর প্রতিক্রিয়া’ জানানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.