ডিসি মাসুদকে বহিষ্কারের দাবি প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের

প্রশান্তি ডেক্স ॥ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশের হামলার প্রতিবাদে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলমের বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

গত বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাত সোয়া ৮টার দিকে রাজধানীর মৎস্য ভবন মোড়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান। তারা বলেন, গত (বুধবার) শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদ ও তাদের দাবি তুলে ধরেছেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পুলিশ তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে এবং কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন।

এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান শিহাব বলেন, ‘প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জারি করা কমিটি পুনর্গঠন করা উচিত। কমিটির আলোচনার একটি রোডম্যাপ এবং প্রিলিমিনারি রিপোর্ট আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রকাশ করা জরুরি। যতক্ষণ পর্যন্ত নতুন প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা না হবে, দশম গ্রেড থেকে নবম গ্রেডে যেকোনও প্রমোশন বন্ধ রাখতে হবে। এবং দশম গ্রেডে কোনও নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া যাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘কমিটির রিপোর্ট প্রকাশ এবং আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’

প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানজীদ আশরাফ অভিযোগ করে বলেন, ‘গতকাল আমাদের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী নাহিদ হাসানকে পুলিশ মারধর করেছে। এই ঘটনায় ডিএমপি দাবি করেছে, ছবিটি এআই প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি। আমরা প্রত্যক্ষদর্শী। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

তিনি আরও বলেন, ‘ডিসি মাসুদের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের ওপর যে হামলা হয়েছে, তার জন্য তাকে অবিলম্বে বহিষ্কার করতে হবে।’

শিক্ষার্থী তানজীদ আরও উল্লেখ করেন, ‘ডিসি মাসুদ বলেছেন আমরা চাকু নিয়ে ঘুরি। তাকে তার বক্তব্যের প্রমাণ দিতে হবে। না হলে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। আমরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত থামবো না।’

এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘হারুন গেছে সেই পথে, ডিসি মাসুদ যাবে সেই পথে’সহ বিভিন্ন প্রতিবাদী স্মোগান দিতে থাকেন।

বুয়েটের শিক্ষার্থী ফারদীন বলেন, ‘গতকাল আন্দোলনে বুয়েট, চুয়েটসহ দেশের সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু ডিসি মাসুদ আমাদের কথা শোনেননি এবং শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে নির্মমভাবে হামলা চালিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশের হামলায় আমাদের অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। একজন শিক্ষার্থীর পেটে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। তার পেটে তিনটি ছিদ্র হয়েছে। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে জরুরি অপারেশন করতে হয়েছে। অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। আমরা তার জন্য দোয়া চাই।’

ফারদীন আরও বলেন, ‘ডিসি মাসুদকে বহিষ্কার না করা হলে আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাবো। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।’

শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি:  শিক্ষার্থীরা সরকারের কাছে পুনরায় তিন দফা দাবি তুলেছেন:

১. নবম গ্রেডের নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখতে হবে।

২. দশম গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হবে।

৩. বিএসসি ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীদের প্রকৌশলী বা ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে বৈধ স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমরা চাই দেশের মেধা ও শিক্ষাগত মর্যাদা রক্ষা হোক। আমাদের মেধা দেশের মধ্যে থাকুক। মেধার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হোক।’

এর আগে আন্দোলনকারী প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বিকালে তাদের দাবি আদায় ও গত বুধবার শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানাতে ডিএমপি সদর দফতরের অভিমুখে যাত্রা করেন। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে পুলিশ তাদের মৎস্য ভবন মোড়ে আটকে দেয়। পরে শিক্ষার্থীরা সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এরপর রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিক্ষার্থীরা সড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে পরবর্তী কর্মসূচি পরে জানিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা

Leave a Reply

Your email address will not be published.