ভুটানে ওষুধ রফতানির প্রস্তাব বাংলাদেশের

প্রশান্তি ডেক্স ॥ ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় এসেছেন গত শনিবার (২২ নভেম্বর)। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের আমন্ত্রণে তিনি গত সকালে ঢাকায় এসে পৌঁছান। এদিন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিনের সঙ্গেও তিনি সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ভুটানকে জিটুজি ভিত্তিতে ওষুধ সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে। উভয় পক্ষই স্বীকার করেছে, এই সহযোগিতা ভুটানে সাশ্রয়ী মূল্যের এবং গুণগত মানের স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেবে। ভুটানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক যৌথ বিবৃতিতে এ কথা জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উভয় সরকার প্রধান আন্তরিক উষ্ণতা এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করেছিলেন, যা দুই দেশের মধ্যে কালোত্তীর্ণ বন্ধুত্বের প্রতিফলন ঘটায়। উভয় নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চমৎকার অবস্থা সম্পর্কে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং বাণিজ্য, যোগাযোগ ও মানুষে মানুষে যোগাযোগসহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সব দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন।

এছাড়া উভয় পক্ষই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বেসরকারি ক্ষেত্রের সহযোগিতা জোরদার করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার নতুন পথ খুঁজে বের করতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। বাংলাদেশ ভুটানের রাজার গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি (জিএমসি) গড়ে তোলার আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেছে এবং ভুটানে জিএমসির উনয়নে সহযোগিতা প্রসারে তার আগ্রহের কথা জানিয়েছে। এছাড়া কুড়িগ্রামে ভুটানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (এসইজেড) উন্নয়নে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডব্লিউজি) গঠনের বিষয়ে উভয় পক্ষই সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং চলতি সহযোগিতামূলক প্রয়াসকে স্বাগত জানিয়েছে। বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বড়িমারী স্থলবন্দর পর্যন্ত পণ্য পরিবহনের পরীক্ষামূলকভাবে কাজ শেষ হওয়ায় উভয় নেতা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

বৈঠকে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোতে ভুটানের ছাত্রছাত্রীদের জন্য বার্ষিক এমবিবিএস/বিডিএস আসন সংখ্যা ৩০-এ উন্নীত করার জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান। ২০২৪ সালে ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুকের রাষ্ট্রীয় সফরের সময় এটি ঘোষণা করা হয়েছিল।

ভুটানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মানবসম্পদ উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা, পর্যটন ও সংস্কৃতির মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার ক্ষেত্রে উভয় পক্ষই সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

বৈঠকের পর দুই নেতার উপস্থিতিতে দুটি সমঝোতা স্মারক সই করা হয়। এছাড়া দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে আরও জোরদার করতে বাংলাদেশ ভুটানের শিক্ষার্থীদের প্রকৌশল অধ্যয়নের জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি বছর দশটি আসন বরাদ্দ করা হবে এবং বাংলাদেশ স্পোর্টস এডুকেশন ইনস্টিটিউশনে (বিকেএসপি) স্পোর্টস সায়েন্সে ডিপ্লোমা করার জন্য ভুটানের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ডেডিকেটেড আসন এবং ভুটানের ক্রীড়া দলগুলোর জন্য হোম গ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া হবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ভুটানের বিশেষজ্ঞদের জন্য বিশেষ পেশাদার প্রশিক্ষণ কর্মসূচির প্রস্তাবও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া অভিন্ন মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বোঝাপড়া, সহযোগিতা এবং শান্তি ও সমৃদ্ধির অভিন্ন আকাঙ্ক্ষার ওপর ভিত্তি করে সার্ক এবং বিমসটেকের মতো আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক মঞ্চে সহযোগিতার পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার বিষয়ে উভয় নেতা তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে তাকে এবং তার প্রতিনিধিদলের সদস্যদের উষ্ণ অভ্যর্থনা ও উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে ভুটান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। উভয় নেতা দুদেশের মানুষের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক ও সহযোগিতার বিষয়ে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.