ভূমিকম্পের ঝুঁকি বিবেচনায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কূপগুলোতে খনন বন্ধ

প্রশান্তি ডেক্স ॥ ভূমিকম্পের ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে দেশের তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কূপগুলোতে ৪৮ ঘণ্টার জন্য খননকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। গত রবিবার (২৩ নভেম্বর) বিদ্যুৎ জ্বালানি উপদেষ্টা ফওজুল কবির খান এ তথ্য জানান।

জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, খননকাজ করাটা এমনিতেই ঝুকিপূর্ণ। এরমধ্যে পর পর কয়েকটা ভূমিকম্প হয়েছে। আপাতত ৪৮ ঘণ্টার জন্য সব খননকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উপদেষ্টা বলেন, চারবার ভূমিকম্প হয়েছে মানে এই ক্ষেত্রে রিগের (খনন) নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। খননকাজ করার সময় এমনিতেই কম্পন অনুভূত হয়, যারা কাজ করছেন তাদের নিরাপত্তার বিষয়টিও আমরা বিবেচনা করেছি। এ জন্য এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে দুপুরের পরে পেট্রোবাংলা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দেশে ভূমিকম্পজনিত সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোর লক্ষ্যে পেট্রোবাংলার আওতাধীন কোম্পানিগুলোর কূপ খনন ও সাইসমিক জরিপ সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিরাপত্তা এবং সর্বসাধারণ তথা জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আগামী ৪৮ ঘণ্টা (২৫ নভেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত) সব ধরেনের কূপ খনন ছাড়াও সাইসমিক জরিপ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে ২৫ নভেম্বর সকাল ৮টার পর আবার কূপ খনন ও জরিপ কার্যক্রম শুরু করা হবে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে শ্রীকাইল-৫, হবিগঞ্জ-৫, কৈলাশটিলা-১, বিয়ানীবাজার-২, সিলেট-১১, সিলেট-১০ এক্স ও রশিদপুর-১১ নম্বর কূপে অনুসন্ধান ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়াও, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও-এ জরিপ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

প্রসঙ্গত, শনিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিটে একটি ভূ-কম্পন হয়, যার মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৭, এটির উৎপত্তি স্থল ছিল রাজধানীর বাড্ডা, পরে আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, প্রায় একই সময়ে এক সেকেন্ডের ব্যবধানে আরও একটি কম্পন হয়েছে, যার মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৩, এর উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদী। এছাড়া গত শনিবার সকাল ১০টা ৩৬ মিনিট ১২ সেকেন্ডে নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় ৩ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। তারও আগে গত শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সারা দেশে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প অনূভূত হয়। এ ঘটনায় ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় মারা গেছেন ১০ জন। আহত হয়েছেন কয়েকশ’ মানুষ। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদী।

এতগুলো ভূমিকম্পের পর সারা দেশে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অনেকে অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.