প্রশান্তি ডেক্স ॥ গাইবান্ধা সদর উপজেলায় বসতবাড়ির সীমানায় থাকা একটি গাছ কাটার সময় চাপা পড়ে দুই শিশু বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দুই বোনের এমন করুণ মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই গাছ কাটায় জড়িত গাছের মালিক মতিয়ার রহমান এবং তার সহযোগী মধু মিয়া ও সাত্তার মিয়াসহ অভিযুক্তরা গাঁ ঢাকা দিয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খামার রঘুনাথপুর (আব্বাসের মোড়) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত দুই বোন হলো ফিয়া মনি (১১) ও দেড় বছর বয়সি খান্নাতি খাতুন। তারা ওই গ্রামের ফরিদ মিয়ার মেয়ে। ফিয়া মনি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খামার রঘুনাথপুর গ্রামের মতিয়ার মিয়ার বাড়ির সীমানা সংলগ্ন ঝোপঝাড়ে ঘেরা বিভিন্ন গাছের মধ্যে একটি বড় ও পুরোনো চাগুয়ার গাছ ছিল। গত বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে গাছের মালিক মতিয়ার রহমান, মধু মিয়া ও সাত্তার মিয়াসহ তিন থেকে চারজন মিলে গাছটি কাটতে শুরু করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গাছ কাটার সময় কোনো ধরনের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গাছ কোন দিকে পড়বে, তা নির্ধারণ করা হয়নি; গাছে কোনও রশি বাঁধা ছিল না এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতাও অবলম্বন করা হয়নি। একপর্যায়ে সন্ধ্যার দিকে গাছের গোড়া কাটতেই প্রায় ৪০ ফুট উচ্চতার গাছটি হুড়মুড়িয়ে দক্ষিণ দিকে ভেঙ্গে পড়ে। এতে বাড়ির সীমানা ঘেরা টিনের বেড়া ভেঙ্গে গাছটি পাশের ফসলি জমির ওপর আছড়ে পড়ে।
ওই স্থানটি চলাচলের রাস্তা ও ফাঁকা জমি হওয়ায় সেখানে অবস্থান করছিল দুই শিশু বোন। মুহূর্তের মধ্যেই তারা গাছের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়।
নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করা হয়। গাছের ডালপালা ও পাতা দিয়ে চাপা পড়া স্থান ঢেকে রাখা হয়। সন্ধ্যার পর শিশু দুটিকে দেখতে না পেয়ে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে গাছের নিচে তাদের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর গাছ কাটায় জড়িতরা শিশুদের ফেলে রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। এ সময় দা ও কুড়াল দিয়ে টিনের বেড়া ও ডালপালা কেটে রক্তাক্ত অবস্থায় দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের সময় স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘গাছের চাপায় ১১ বছর ও দেড় বছরের দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে এবং মরদেহ থানায় আনা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। লিখিত অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিররুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
দুই মেয়েকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ বাবা ফরিদ মিয়া বলেন, ‘অভিজ্ঞ লোক ছাড়া এভাবে গাছ কাটার কারণেই আমার দুইটা ফুল ঝরে গেল। এটা স্পষ্ট অবহেলা। আমি মতিয়ার, মধু ও সাত্তারসহ জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
এদিকে, দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা অবহেলা ও অসাবধানতার দায়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।