ব্যাংকিং খাতে তারল্য স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৯ হাজার কোটি টাকা বাজারে ছাড়লো

প্রশান্তি ডেক্স ॥ দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অর্থসংকট যেন আর না তৈরি হয়, সে জন্য বিভিন্ন আর্থিক উপকরণের মাধ্যমে ৯ হাজার ১৭৮ কোটি টাকার বেশি তারল্য বাজারে সরবরাহ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে। এতে ব্যাংকগুলোর দৈনন্দিন লেনদেন, আমানত উত্তোলন এবং গ্রাহকের চাহিদা মেটানো সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশিশ্লরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত পরিচালিত রেপো, ইসলামী ব্যাংকগুলোর জন্য বিশেষ তহবিল এবং স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি কার্যক্রম থেকে এ অর্থ বাজারে প্রবাহিত হয়েছে।

একদিনের রেপোতে ৭ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা : কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, ব্যাংকগুলোর স্বল্পমেয়াদি প্রয়োজন মেটাতে একদিন মেয়াদি সেন্ট্রাল ব্যাংক রেপোর মাধ্যমে ৭ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা সরবরাহ করা হয়েছে। এই অর্থ ব্যাংকগুলো ১০ শতাংশ সুদে নিয়েছে। এর ফলে বাজারে তাৎক্ষণিক অর্থপ্রবাহ নিশ্চিত হয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকগুলোর জন্য বিশেষ সহায়তা : ইসলামী ব্যাংকগুলোর তারল্য সহায়তায় চালু থাকা ইসলামি ব্যাংকস লিকুইডিটি ফ্যাসিলিটির (আইবিএলএফ) আওতায় ১৪ ও ২৮ দিন মেয়াদে মোট ৭৪৪ কোটি টাকা সরবরাহ করা হয়। তবে আগের মেয়াদের কিছু অর্থ ফেরত আসায় এই খাত থেকে নিটভাবে প্রায় ৩৮৩ কোটি টাকা তারল্য কমে যায়।

অতিরিক্ত অর্থ জমা রেখে আবার ছাড় : একইসময়ে বাজারে অতিরিক্ত অর্থ জমা নিতে বাংলাদেশ ব্যাংক একদিন মেয়াদি স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটির আওতায় ১ হাজার ৭৫৭ কোটি টাকা নিয়েছে। তবে আগের মেয়াদ শেষে ৩ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা ফেরত আসায়, এই খাত থেকে নিটভাবে প্রায় ১ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা আবার বাজারে ফিরে আসে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ : সব কার্যক্রম মিলিয়ে নিটভাবে ৯ হাজার ১৭৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা বাজারে প্রবাহিত হয়েছে, যা ব্যাংকিং খাতের চলমান চাপ কমাতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে মেয়াদপূর্তির আমানত পরিশোধ, বেতন-ভাতা দেওয়া, এলসি নিষ্পত্তি ও দৈনন্দিন লেনদেনে ব্যাংকগুলো কিছুটা স্বস্তি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বাজারে অর্থপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতেই প্রয়োজন অনুযায়ী তারল্য বাড়ানো বা কমানো হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.