প্রশান্তি ডেক্স ॥ জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘বিচার আজকে টাকার বিনিময়ে বিক্রি হয়। গ্রাম আদালত থেকে শুরু করে উচ্চ আদালত পর্যন্ত। যদি না হয় তাহলে কীভাবে বড় বড় ঋণখেলাপি মনোনয়ন পায়। আমরা যদি ক্ষমতায় যেতে পারি দেশে শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে। একজন সাধারণ মানুষ অপরাধ করলে আইনে যে শাস্তি, একই অপরাধ যদি প্রধানমন্ত্রী-রাষ্ট্রপতি করেন একই শাস্তি হবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে। জাতি তাকিয়ে আছে সে বিচার দেখার জন্য।’

তিনি বলেন, ‘একটি দল কেয়ামত পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিল। কিন্তু পারে নাই। কেউ চাইলেও কেয়ামত পর্যন্ত থাকতে পারবে না। তারা মানুষকে ধরে নিয়ে গিয়ে আয়নাঘরে বন্দি করতো। তাদের ওপর নির্যাতন করতো। শেষ পর্যন্ত তাদের পতন হয়েছে।’
গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৪টায় নাটোর এনএস সরকারি কলেজ মাঠে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমি বলেন, ‘জামায়াতের একক কোনও বিজয় নেই, সব বিজয় দেশের ১৮ কোটি মানুষের। আমরা দেশকে রাজনৈতিক গ্যাঁড়াকলে ডুবাইতে চাই না। এজন্য আমরা ঐক্যবদ্ধ। আমাদের ে¯্ল্লাগান ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ। সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে। আর কাউকে ধর্মবর্ণ ভিত্তিতে এই জাতিকে বিভক্ত হতে দেবো না। চাঁদাবাজি আমরা করি না, চাঁদাবাজি আমরা কাউকে করতে দেবো না। দুর্নীতি আমরা পছন্দ করি না। বগলের নিচে দুর্নীতিবাজদের আশ্রয় দেবো না। ব্যাংক ডাকাতি আমরা করি না। কোনও ব্যাংক ডাকাতের সঙ্গে আমাদের আপস হবে না। মামলাবাজি আমাদের খাসলত নয়। নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত পর্যন্ত মামলা বাণিজ্য যারা করেছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আতীতে যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা নিজেদের পকেট পুরেছে। ব্যাংক বিমা লুট করেছে। বড় বড় মেগা প্রকল্পে মেগা দুর্নীতি করেছে। দুর্নীতির টাকা দেশে রাখতে পারেনি। সেই টাকা বিদেশে পাচার করেছে। ক্ষমতায় এলে এই চোরদের মুখে হাত ঢুকিয়ে পেট থেকে সব টাকা বের করে নিয়ে আসা হবে। এ দেশ আমাদের সবার। সবাইকে নিয়েই আমরা চলবো।’
নারীদের ঘরে ও কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘মায়েদের জন্য ঘরে, চলাচলে, কর্মস্থলে, সব জায়গায় মর্যাদা আর নিরাপত্তা এ দুটি জিনিস নিশ্চিত করা হবে। কোনও জালিম সাহস করবে না নারী জাতির কারও দিকে চোখ তুলে তাকানোর। সেই পরিবেশ তৈরি করা হবে।’ নাটোর জেলা জামায়াতের আমির ড. মীর নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, ১১ দলীয় জোটের সমন্বনয়ক রাশেদ প্রধান, চাকসুর ভিপি মোহাম্মাদ ইব্রাহিমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।