ক্ষমতা কি এবং কি করে?

ক্ষমতা একটি লোভ যার অপর নাম পাপ। তবে যদি ক্ষমতা হয় সৃষ্টির সেবায় নিবেদিত তাহলে ভিন্ন কথা। আর সেই ক্ষমতা একমাত্র সৃষ্টিকর্তা তাঁর নিজে এবং নিজের লোকদেরই দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আলোকে সৃষ্টিকর্তার তাঁর সৃষ্টি মানুষকে এই ক্ষমতা প্রদান করেছিলেন যা আজও বিদ্যমান। এর জন্য সৃষ্টিকর্তার কালাম থেকে কিছু অংশ তুলে ধরছি যাথে বুজতে পারি আসল উদ্দেশ্য ও দায়িত্ব। “আমরা আমাদের মত করে এবং আমাদের সঙ্গে মিল রেখে এখন মানুষ তৈরী করি। তারা সমুদ্রের মাছ, আকাশের পাখী, পশু, বুকে-হাঁটা প্রাণী এবং সমস্ত দুনিয়ার উপর রাজত্ব করুক। পরে আল্লাহ (সৃষ্টিকর্তা) তাঁর মত করেই মানুষ সৃষ্টি করলেন। হঁ্যা, তিনি তাঁর মত করেই মানুষ সৃষ্টি করলেন, সৃষ্টি করলেন পুরুষ ও স্ত্রীলোক করে। আল্লাহ্‌ তাঁদের আশির্বাদ করে বললেন, তোমরা বংশবৃদ্ধির ক্ষমতায় পূর্ণ হও, আর নিজেদের সংখ্যা বাড়িয়ে দুনিয়া ভরে তোলা এবং দুনিয়াকে নিজেদের শাসনের অধীনে আন। এছাড়া তোমরা সমুদ্রের মাছ, আকাশের পাখী এবং মাটির উপর ঘুরে বেড়ানো প্রত্যেকটি প্রাণীর উপরে রাজত্ব কর।

এরপর আল্লাহ বললেন, দেখ, দুনিয়ার উপওে প্রত্যেকটি শস্য ও শাক-সবজী যার নিজের বীজ আছে এবং প্রত্যেকটি গাছ যার ফলের মধ্যে তার বীজ রয়েছে সেগুলো আমি তোমাদের দিলাম। এগুলোই তোমাদের খাবার হবে। দুনিয়ার উপরের প্রত্যেকটি পশু, আসমানের প্রত্যেকটি পাখী এবং বুকে হাঁটা প্রত্যেকটি প্রাণী, এক কথায় সমস্ত প্রাণীর খাবারের জন্য আমি সমস্ত শস্য ও শাক-সবজী দিলাম। আর তা-ই হল।

আল্লাহ তাঁর নিজের তৈরী সব কিছু দেখলেন। সেগুলো সত্যিই খুব চমৎকার হয়েছিল। এইভাবে সন্ধ্যাও গেল সকাল. আর সেটাই হল ষষ্ঠ দিন। এইভাবে আল্লাহ তাঁর সৃষ্টি সবই দেখলেন এবং শেষে প্রতিক্রিয়ায় তিনি বললেন চমৎকার হয়েছে।”

এইখানেই ক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারনা দিয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে আমরা কি দেখছি? ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যাত-পাত বাছ-বিছার না করে আতাত করেছে এবং করে যাচ্ছে। আর ক্ষমতার প্রয়োজনে গালি দিচ্ছে, খুন থেকে ধরে সবধরণের বিরোধিতাই করে যাচ্ছে। একি খেলা? এই খেলার শেষ কোথায়? এযাবৎ কালে আমরা এই সবই দেখছি এবং কারো উপর শতভাগ আস্থা ও বিশ্বাস এবং নির্ভরতা স্থাপন করতে পারছি না। শুধু স্বল্প সময় আবেগে বা কথার ফুলঝুড়ে এমনকি মিথ্যা ছলনার মোহমায়ায় অথবা নিজের কোন লোভে ঐ প্রতারকদের খপ্পরে পড়ি। আর এতে দেশ ও দশের এমনকি নিজের বারোটা বাজে। এইভাবেই দেশ ও জাতি নিরবে নি:শেষ হয়ে যাচ্ছে। এই যদি হয় নিয়তি তাহলে কেনই বা এত বাগারম্বর।

আমরা দেখেছি ক্ষমতার জন্য কত প্রকার ছলনা করেছে এবং ক্ষমতা লাভ করে ঐসকল ছলনা ভুলেছে এবং নিজ কেন্দ্রীক ও আত্মীয় আর পরিচিত এমনকি কাছের মানুষ কেন্দ্রীক হয়ে জনতার কপালে চপেটাঘাত মেরেছে। শেষ পর্যন্ত জনতার ধৈয্যের সীমা লংঘিত হলে আন্দোলন এর বিস্ফোরনে বিতাড়িত হয়েছে। এই সকল উদাহরণ সকলের জন্য প্রযোয্য এবং এর বাইরে বর্তমানে কেউ নেই। দেশে ও বিদেশে এই একই কান্ড বার বার ঘটে যাচ্ছে। কিভাবে এর থেকে মুক্তি পাওয়া যায় বা প্রতিকার মিলবে তা এখন খুজে বের করতে হবে।

ক্ষমতা থেকে চলে গেলে বা বিতাড়িত হলে যত দোষ সবই ন্যায়-আন্যায় না দেখে চাপানো হবে। সবাই একবাক্যে ঘৃণা করবে, এই নৈরাজ্যময় দুমুখো অবস্থা থেকে বের হয়ে আসা যায় না।? এই জঘন্য ঘটনা একইভাবে একই কায়দায় বর্তমানেও চলছে এবং বিভক্তির রাজনীতি এবং বিভক্তিতে মহাজাগতিক ফ্যাসাদে এই জাতি নিমজ্জিত হচ্ছে। সামনি গভীর অন্ধকার অপেক্ষা করে আছে। এখনই সময় ঐ অন্ধকার থেকে বের হয়ে আসার ।

ক্ষমতাহীনরা নির্যাতনের শিকার হবে এবং পুনরায় আবার ক্ষমতায় এসে তারা আবার নির্যাতন করবে এটাই রীতি ও রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। মামলা ও হামলায় নির্যাতিত হবে। পুনরায় ক্ষমতা পেয়ে আবার মামলা হামলা দিয়ে তারা নির্যাতন করবে। এটাও একটি রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর মামলা আর হামলা; কিন্তু ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার পর ঠিক একই কাজের পুনরাবৃত্তি ঘঠানো হচ্ছে। প্রশাসন ক্ষমতা কেন্দ্রীক পরিচালিত হচ্ছে। ক্ষমতাশালীদের তোয়াজ করছে এমনকি ক্ষমতা চলে গেলে বিষোধগার ও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে সাজা দিয়ে রায় বাস্তবায়নে মনোযোগী হচ্ছে। ঠিক উল্টা ঘটনাও ঘটছে। কোন কারণে যদি ক্ষমতা ফিরে পায় তাহলে সকল সাজা মাফ করে যার যার সার্থ হাসিলে মনযোগী হচ্ছে। কিভাবে এটা সম্ভব। একই মুখে দুই আচরণ। আর এই দৃশ্য দেখতে দেখতে সবাই এখন রাজনীতিবিদ হচ্ছে এবং সবাই এখন নেতা হচ্ছে। তবে কর্মী ও সমর্থকের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই দশা থেকে উত্তরণের উপায় কি? কিভাবে এই জাতি এই মনুষ্য সৃষ্টি দুর্দশা থেকে মুক্তি পাবে? আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতি আজ কোনঠাসা অবস্থায় পরে শেষ নি:ষাশ ত্যাগের পূর্বে গলা ভিজাতে পানি খুজতেছে। এই পানিই পাওে মানুষ মুক্তি দিতে। শুনেছি পানির অপর নাম জীবন। আর জীবনদায়ী সেই ঝড়না থেকে পানি নিয়ে আসুন আপনি ও আমি হাজির হয় উপযুক্ত সময়ে। যেমন সমাজ ও সংস্কৃতি এবং মানুষজন স্বস্তি ফিরে পায় এবং চিরস্থায়ী শান্তি ও আনন্দ উপভোগ করতে পারে। আসুন আমরা ক্ষমতাকে সেবার কাজে ব্যবহার করি। সৃষ্টিকর্তার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.