১২ই ফেব্রুয়ারী ২০২৬ এর নির্বাচন নিয়ে নানান জল্পনা ও কল্পনার অবসান হয়ে গেলো এবং এই নির্বাচনের মাধ্যমে আগামী ৫ বছরের জন্য একটি সরকারও উপহার পেলো জাতি। এই নির্বাচন নিয়ে নানান কথা ও অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে এবং হবে। তবে প্রশান্তির টিম এবং আমি নিজে সমগ্রদেশ এবং ঢাকার বহুল পরিচিত বা হ্যভি ওয়েট প্রার্থীদের কেন্দ্র পরিভ্রমন এবং ভোট গণনা প্রত্যক্ষ করিলাম।

নির্বাচনী প্রচারণা থেকে ভোটপূর্ব রাত্র পরিভ্রমন এবং প্রত্যক্ষকরণের সময় বিশেষভাবে লক্ষ্যনীয় ছিল গ্রামে। গ্রামে মানুষ ঐ রাতে ঘরে ঘরে প্রবেশ এবং উপহার সামগ্রী বিতরণ এবং কিছু মহলকে উপঢৌকন দিয়ে নির্বাচনী বৈতরনী পারের চেষ্টা ছিল। আর টেলিভিশনে দেখানো মহড়ার সাথে বাস্তবের তেমন মিল ছিল না। তবে টেলিভীতির কারণে কিছুটা নমনীয় ছিল শহুরে ভোটরাত।
আমাদের গাড়ি সমগ্র ঢাকা পরিভ্রমণকারে কয়েটি স্থানে চেকিং পয়েন্ট এ সমগ্র গাড়ি চেকের শিকারে পরিণত হয়েছি। সাংবাদিক স্টিকার এবং সাংবাদিক পরিচয়পত্র যা স্বয়ং নির্বাচন কমিশনার কর্তৃক প্রদেয় ছিল। তবে অনেক আইন প্রয়োগকারী ব্যক্তিগণ এই বিষয়ে অনভিজ্ঞতারও পরিচয় বহন করেছেন। যা দৃষ্টিকটু। ঠিক একই কাজ করেছেন নির্বাচনের দিনও। বিশেষ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। অদূঢ় ভবিষ্যতে আশাকরি সম্মানসহ সাংবাদিকদের সঙ্গে আচরণ ও সুরক্ষা দেয়ার বিধান যুক্ত করতে নির্বাচন কমিশন সদয় সচেষ্ট থাকবেন।
ঢাকাসহ দেশের সকল প্রান্তেই আমাদের বিচরণে নির্বাচন সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে। ভোটার উপস্থিতিও সন্তোষজনক হয়েছে। মানুষের আগ্রহ এবং সদিচ্ছায় এই ভোট প্রদাণ একটি উৎসবে পরিণত হয়েছে। সকলেই দুইটি মার্কাকে ভোট দিয়েছে। একটি হলো ধানের শিষ এবং আরেকটি হলো দাড়িপাল্লা। পাশাপাশি গনভোট বিষয়টি মানুষ বুঝেনি। তবে জামাত সমর্থিত ভোটাররা এই গণভোট সম্পর্কে জেনেশুনে ভোট প্রদান করেছেন। কিন্তু বাকিরা না বুঝেই হঁ্যা ভোট প্রদান করেছেন। তবে এই গণভোট সম্পর্কে জনসচেনতার যথেষ্ঠ অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে।
নির্বাচনী দায়িত্বে দায়িত্বরত পুলিং, প্রিসাইডিং এবং প্রার্থীর এজেন্ট ও পুলিশ, আনসার, আর্মী এবং অন্যান্য বাহিনীর লোকজন স্ব স্ব দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছেন। ভোটার উৎসাহী আচরণ ও সহযোগীতা অব্যাহত রেখেছেন। সকল ৭.৩০ থেকে বিকেল ৪.৩০ পর্যন্ত ভোট কার্যক্রম আন্তরিকতা ও সততার সাথে স্বতস্ফুতভাবে সুসম্পন্ন করেছেন। ভোট গণনায় যথেষ্ঠ সচেতন হয়ে সৌহাদ্যপূর্ণ উৎসবমুখর পরিবেশে সুসম্পন্ন করেছেন। আমি আমরা যেসকল কেন্দ্রে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে ভোট গণনা প্রত্যক্ষ করেছি তার আলোকেই বলছি ভোট গণনায় স্বচ্ছতায় শতভাগ। আমাদের সকলের মতামতের মাধ্যমে গননা শুরু এবং গণনা শেষ হয়েছে।
পরবর্তীতে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে সকলের সম্মুক্ষ্যে এবং সকলের সহিসাক্ষর গ্রহণের মাধ্যমে। আমার দৃি্ষ্টতে এবং পরিভ্রমনের প্রত্যক্ষকরণের মাধ্যমে এই নির্বাচন সুষ্ঠ ও সফল নির্বাচন হিসেবে প্রতিয়মান হয়েছে। তবে বিভিন্ন অভিযোগ যা দৃষ্টিগোচর হয়েছে তা সমাধানকল্পে ইসির এগিয়ে আসা উচিত যাতে এই নির্বাচন নিয়ে কোন পক্ষের আকুতি বা আক্ষেপ ও অভিযোগ বা অনুযোগ না থাকে। তবে এই বিষয়ে সমাধান সহজ। যদি ভোট গণনাকালীন সময়ের সকলকে ডেকে প্রত্যক্ষ কলা বলে বিস্তারিত ফয়সালা করেন। তবে এতে বেশী সময়েরও প্রয়োজন নেই। কারণ ঐ উপস্থিতি সদস্যগণ মতামত দেবেন এবং সেই মতামত অনুসারেই ফয়সালা হবে।
তবে এই দ্বিমত ও অভিযোগ অনুযোগ অব্যাহত থাকার মাধ্যমেই গণতন্ত্রের সৌন্দয্য ও যাত্রা অব্যাহত থাকবে। পরিশেষে বলতে চাই এই সফল নির্বাচনটি আরো সৌন্দয্যমন্ডীত হতো এবং নিখুঁত হতো যাদি সকল দলের অংশগ্রহণে এই নির্বাচন হতো। তবে যারা আজ এই নির্বাচনের বাইরে তারাও একদিন এই একই নির্বাচন করে দাম্বিকতার স্বাদ আস্বাদন করেছিল। পরবর্তীতে যা হওয়ার তাই হলো। আজ আমি দোয়া করি যাতে এই নির্বাচন সেই নির্বাচনের মতো কোন ফাঁদে পা না দেয় এবং সেই স্বাদও আস্বাদন না করে। এই কামনা করে বিজয়ী দলের প্রতি অভিনন্দন ও শুভকামনা এবং পরাজিত দলের প্রতি সহমর্মীতা এবং আগামীর শুভকামনা অব্যাহত রেখে মহান খোদার নিকট এই নির্বাচনী সফরের সুসমাপ্তি কামনা করছি।