শ্রদ্ধা/ সম্মান

শ্রদ্ধা এবং সম্মান পাশাপাশিই বসবাস করে। এই শ্রদ্ধা এবং সম্মানকে উপেক্ষা করাই এখন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় রীতিতে পরিণত হয়েছে। তবে শ্রদ্ধা এবং সম্মান কাউকে ক্ষমা করেনি এমনকি বঞ্চিতও করেনি। এটাই এখন দেখার ও বুঝার বিষয়। বাস্তবিক অর্থে এই দুটো শব্দ বার বার গুরে আসে আমাদের চোখের সামনে। এটাও এখন দেখা ও বাঝার বিষয়। তাই চোখ কান খুলে দেখে ও শুনে এমনকি বাস্তবিকতার মাঝে নিজেকে নিয়ে অনুভুতি প্রকাশের মাধ্যমে আত্মউপলব্দিতে আনয়ন করে এই শ্রদ্ধা ও সম্মান সম্পর্কে সময়ের দাবীকে যোগপোযোগী করে তুলাই আপনার এবং আমার ঈমানী দায়িত্ব।

শেখসাদি একবার এই শ্রদ্ধ/সম্মান পরীক্ষা করেছিলেন। কিন্তু সেই শেখসাদির পরীক্ষা এখনও চলমান রয়েছে। সেই শ্রদ্ধা ও সম্মানের মাপকাঠি এখনও বহমান। তাই আসুন সম্মান ও শ্রদ্ধাকে তার জায়গায় ঠিক রেখে আমাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম পরিচালনা করি। একটি বিষয় স্বষ্ট যে, যখন কোন মানুষ পদায়ন বা ক্ষমতায়ন হয় তখন সম্মানের এবং শ্রদ্ধার স্তুপে পড়ে সকল অর্জন এবং বিসর্জন চাপাপড়ে যায়। পদ এবং ক্ষমতা চীরদিনের নয় বরং তা স্বল্প সময়ের কিন্তু শ্রদ্ধা এবং সম্মান সকল সময়ের জন্যই স্থায়ী।

আমাদের শৈশবে শিখেছি বড়কে শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করিতে হবেই। ছোটকে স্নেহ ও সেই স্নেহের শ্রদ্ধা এবং সম্মান করিতে হইবে। এই চর্চা পরিবার থেকে আমি যেমন পেয়েছি তেমনি করে বাকি সকলেই পেয়েছেন নিশ্চয়ই। এই ধারাবাহিকতায় ক্ষমতা এবং পদায়নে শ্রদ্ধা ও সম্মান একই কাতারে বহমান। কিন্তু এর বাইরে গিয়ে যে শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করা হয় তা অস্থায়ী এবং সাময়ীক স্বার্থের জন্য। এই বিষয়গুলো আমরা দেখি রাজনৈতিক নেতা মন্ত্রী, এমপি ও সরকারী কর্মকর্তাদের জীবনে। তবে ক্ষমতা বা পদায়নকালীন সময়ের সঙ্গে ক্ষমতা বা পদায়ন না থাকা কালীন সময়ের পার্থক্য তুলনা করলেই বুঝা যায় সবিস্তারে।

একটি উদাহরণ এখানে উল্লেখযোগ্য যে, বিগত পরাজিত সরকারের মন্ত্রী ও এমপিরা বর্তমানে যে সম্মান ও শ্রদ্ধা পাচ্ছেন তার দিকে একটু তাকান এবং যখন তারা ক্ষমতায় বা পদায়নকৃত অবস্থায় ছিল তখনকার সম্মান ও শ্রদ্ধার কথা ভাবেন। তাহলেই বুঝতে পারবেন শ্রদ্ধা ও সম্মান এর পালাবদলে কার কার ভুমিকা দৃশ্যমান। অপরদিকে বলতে পারি আজকের প্রধানমন্ত্রী এবং তার মন্ত্রীপরিষদ ও নেতাদের বিগত ১৭ বছরের ইতিহাস থেকে। সেখানে যারা যারা তাদেরকে সমালোচনা এবং অসম্মান ও অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছিল আজ তাদের বেশিরভাগই শ্রদ্ধা এবং সম্মানে ভাসিয়ে দিচ্ছে। একই মুখে দুটি আচরণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ হচ্ছে। এখানে বুঝা যায় শ্রদ্ধা / সম্মান এর স্থান কোথায়? তবে যদি সঠিক জীবনাচরণে মূল্যায়নে এবং শিক্ষায় স্ব ও সুশিক্ষিত হওয়া যায় এবং সেই অনুযায়ী চলা যায় তাহলে ঐসকল ব্যক্তিদের জীবনাচরনে শ্রদ্ধা এবং সম্মান দুটোই অমলিন ও অক্ষত অবস্থায় দৃশ্যমান থাকে। তবে এই সংখ্যা সমাজে ও পরিবারে খুবই নগন্য। তাই এই সংখ্যা বাড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রয়োজন নতুন নতুন কর্মসূচীর আওতায় চর্চারত রাখা জরুরী।

নতুন সরকারের কাছে এই বিষয়টি গুরুত্বের সহিত বিবেচনায় নিয়ে অগ্রসর হতে সবিনয় অনুরোধ রাখছি। সম্মান এবং শ্রদ্ধা সকল অবস্থায় এবং সকল সময়ই করা আমাদের মানবিক ও ধর্মীয় শিক্ষা। এই শিক্ষার আলোকেই আমরা আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখব। তবে কারো দোষ ধরার আগে নিজের দোষ খুজে বের করব। নিজেকে যদি নির্দোষ প্রমান করিতে পারি তাহলেই অন্যের দোষ খুজা বা ধরা এমনকি বলার চেষ্টা করব। তবে নিজের দোষ খুঁজে অগ্রসর হওয়ায় সবচেয়ে মহৎ এবং উত্তম কাজ বলে গণ্য হবে। মন্দ বা ভাল এই বিবেচনায় শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন না করে বরং সৃষ্টির সেরাজীব আশরাফুল মাখলুকাত ভেবেই শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করিতে হইবে। ক্ষমতা বা পদের জন্য শ্রদ্ধা বা সম্মান এবং কোন কিছু পাওয়ার আশায়ও শ্রদ্ধা বা সম্মান প্রদর্শন করা উচিত নয়। কারণ আজ তিনি আছেন কাল নাও থাকতে পারে অথবা যুগে যুগে পদের স্থায়ীত্বের অবস্থান পরিবর্তন হয় কিন্তু শ্রদ্ধা এবং সম্মান এর কোন পরিবর্তন নেই। তাই এই শ্রদ্ধা এবং সম্মান সকল সময়ের জন্য উন্মুক্তকরণ এখনই করতে হবে। আসুন আমরা চর্চায় শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনে নি:স্বার্থ্য ও নি:শর্ত হই এবং প্রত্যেককে প্রত্যেকের যোগ্য সম্মান ও শ্রদ্ধাটুকু দেয়াতে উদার হয়। ছোটবড় সকলকেই শ্রদ্ধা ও সম্মানে ভুষিত করি এবং অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন করে আগামীর ভবিষ্যতকে সাজাই। মহান সৃষ্টিকর্তা তাঁর ইচ্ছা ও অভিপ্রায় আমাদেরকে ব্যবহার করে পরিপূর্ণতার দিকে এগিয়ে নিক। এখানে বসয় ও শিক্ষা কোন বিষয় নয় বরং সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা ও অভিপ্রায়ই বড় বিষয়। ক্ষমতা ও পদায়ন এই দুটোই সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে আসে এবং এটার আসার কোন সুনিদিষ্ট বয়স নেই। তাই এই মুল্যবোধগুলোক কাজে লাগিয়ে আগামীর ভবিষ্যত সুন্দর করে সাজাই এবং নতুন বিশ্বে নতুন বাংলাদেশ উপভোগ করি এবং করতে সহায়তা করি। মহান খোদা (সৃষ্টিকর্তা) আমাদের সবাইকে নেক আমলের সহিত শ্রদ্ধা/ সম্মান বজায় রাখতে সহায়তা করুন…আমীন ॥

Leave a Reply

Your email address will not be published.