ব্যবহারে সংযত হওয়া জরুরী

ব্যবহারেই বংশের পরিচয় বলে কথিত কথাটিও আজ মিথ্যায় পরিণত হয়েছে। সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা হলো বা আদেশ হলো তুমি যে রকম আশা করো ঠিক সেইরকম আগে করে দেখাও। এই কথাটিকে পশ্চিমা বিশ্ব বলে থাকে গোল্ডেন রোল বা স্বর্ণের আইন। এই আইন মেনে যদি পৃথিবীর মানুষগুলো চলতো তাহলে হয়ত বিশ্ব আজ অন্যরকম হতে পারতো। তবে যে যেরকম আশা করে বা ব্যবহার করে ঠিক সেইরকমই প্রকৃতি তাকে শতভাগ বুঝিয়ে দেয়। কেউ কেউ আবার বলে থাকেন মৃত্যুর পর সবকিছুর হিসাব হবে; তবে এতটুকু বলতে পারি মৃত্যুর আগেও কিছু কিছু হিসাব সম্পন্ন হয় এবং সেই অনুযায়ী প্রত্যেকেই তার প্রাপ্যটুকু পায় বা পেয়ে থাকে। তবে মৃত্যুর পর সৃষ্টিকর্তার বিচার অবধারিত এবং সেই বিচারের মুখোমুখি হওয়ার আগে এই পৃথিবী থেকেই বিচারের ফয়সালা নিয়ে যেতে হবে। আর সেই ফয়সালা হলো সর্ত্যের ধর্ম। তবে স্ব স্ব ধর্মের মধ্যেও ফয়সালা নিহীত রয়েছে।

আমরা দেখেছি মানুষের ব্যবহারের ভিন্নতা। তবে অতি সাধারণের ব্যবহার সব সময়ই নম্র ও গ্রহণযোগ্য তবে এই নম্রতা ও গ্রহণযোগ্যতাকেও মানুষ কখনো কখনো স্বার্থের প্রয়োজনে অস্বিকার করে থাকে। রাজনৈতিক এবং ব্যাবসায়ীক আর ধর্মীয় চরিত্রও একই। কোন বৈচিত্র বা ব্যতিক্রম দেখা যায় না। সরকারে থাকলে আচরণ এক আর বিরোধীদল বা সরকারের বাইরে থাকলে আচরণ আরেক এই দুই বাস্তবতার কোন পরিবর্তন হয়নি। গত ২৪’র অভ্যুত্থান কোন কাজে আসেনি বা আসবে বলেও বিশ্বাস করা যায় না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে যেই লাউ সেই কদু। আমরা এখন নির্যাতনের বোঝা বয়ে বেড়ানো দিশাহীন যাত্রী হিসেবে পথপানে চেয়ে থাকা এক দিকভ্রষ্ট্র পথিক মাত্র। সরকারের শুরুতে সরকার প্রধানের নমনীয়তা ভাল কাজের ইঙ্গিত বহন করে কিন্ত তার মন্ত্রীসভার কারো কারো কথায় এখন থেকেই লাগাম টানা জরুরী। সেই পলাতক পরাজিত সরকারের কিছু আচরণ ইতোমধ্যেই প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ হয়েছে তাই সাবধান হউন।

ন্যায় এবং সাম্য আর ন্যার্যতায় পর্যবসীত হউন। নতুবা পরাজিতের তকমা নিজেদের গায়ে বা তিলকে আটতে পারে। শুকুন কিন্তু উড়ছে … সুযোগ বুঝেই ছু মারবে। তাই সাবধান। আমরা সবাই নির্যাতিতের পক্ষে, ন্যায়ের পক্ষে, সাম্যের পক্ষ্যে, আর সততার পক্ষ্যে তাই এই সবের সঙ্গে আপনারাও থাকেন। যাতে আমার ও আমাদের সমর্থন অব্যাহত রাখতে পারি। আমি নির্যাচিত ছিলাম আর এখনও সেই নির্যাতনের রেশ বয়েই বেড়াচ্ছি। মামলাতো চলমানই রয়ে গেল আর এখন নতুন করে বৈশম্যেরও স্বীকার। যা এই বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত বলল এবং তাঁর পরামর্শে প্রয়োজনীয় স্থানে নালিশ নিয়ে হাজির হবো। কিন্তু এই সরকার এবং তার স্থায়ীত্ব দীর্ঘায়িত হউক আর বাংলার জনগণ পাক তার অধিকার এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতায় ভরপুর নিশ্চয়তা। এই কামনায় করি। যেখানে যা প্রয়োজন তাই বলব এবং সেই অনুযায়ী ইতিবাচক সার্বজনীন কল্যাণের তরে কাজও করে যাব।

৩০০ আসনের এমপিগণ সবাই সুযোগ পেয়েছেন জনগণ দ্বারা নির্বাচিত হয়ে। তবে এই নির্বাচনেও কিন্তু একটি কিন্তু রয়েছে। সেই কিন্তু হলো কত ভাগ জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। কারণ সার্বজনীন অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়নি। বরং এক তরফা বলয়ের নির্বাচনই হয়েছে মাত্র। পরাজিত সরকার যাদের বাদ রেখে নির্বাচন করেছিল সেই তারাই এখন নির্বাচন করেছে পরাজিতদের বাদ রেখে। এই বাদ রাখার কৌশল এবং কিন্ত সবই উন্মুক্ত। তাই আচরণ এবং কাজ ও চিন্তার সমন্বয়ে মনযোগী হউন। সেবার মানুষিকতা এবং আচরণ উভয়ই নম্রতার সহিত সংযত হয়ে করুন। হামছে বড়া কন হে এই ধরনের মনোভাব ত্যাগ করুন। বড় নেতা হয়েছেন বা সুযোগ পেয়েছেন তাই এই সুযোগকে নিজের প্রয়োজনে নয় বরং জনতার কল্যাণের প্রয়োজনে ব্যবহার করুন। জনতাই কিন্তু মূল আর জনতাবিমুখ হয়ে পড়লে কি হয় তা কিন্তু পরাজিত সরকারের উদাহরণই যথেষ্ট।

সাম্যের আইন প্রয়োগে এবং প্রণয়ণে মনযোগী হউন। সাম্যাকে প্রাধান্য দিয়ে অগ্রসর হউন। নিজের ক্ষমতা আখের গোছাতে ব্যতিব্যস্ত না হয়ে বরং জনতার ক্ষমতায়ন এবং আখের গোছাতে নিজেকে নিয়োজিত রাখুন। সময়ই আপনাকে পাকাপোক্ত করবে আর সেই পাকাপোক্ত জনতা পানি সার হিসেবে নিয়ামক হয়ে কাজ করবে। যদি জনতার উপর বিভিন্ন বদনাম দিয়ে অথবা অভিযুক্ত করে শাস্তি দেয়া অথবা চাপে রাখার কৌশল নিয়ে অগ্রসর হউন তাহলে হিতে বিপরীত হয়ে জনতা আবার গর্জে উঠবে। সেই গজে উঠার আগেই নিজেদেরকে নিজেদের সীমারেখায় জনতার কল্যাণে নিয়োজিত রাখুন। সরকারী অফিস আদালতে ব্যবহারের প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখুন। জনতার সঙ্গে কি রকম ব্যবহার করতে হবে তা শিখানোর সময় এখন। যারা প্রয়োজনে যায় তাদের প্রয়োজন মিটিয়ে দিন এবং নিজেকে সেবকের ভুমিকা রাখুন। পরাজিত সরকারের আমলের চেয়ে বর্তমানের ভিন্নতা যেন হয় বিনয়ী এবং সেবাধর্মী। ক্ষমতা দেখানো এবং আইন দ্বারা বাধা দেয়ার মানুষিকতা পরিহার করুন। এই কাজটুকু পরাজিত সরকার করেই কিন্তু জনবিমুখতায় পরিণত হয়েছিল।

কেউ কেউ ভাবতে পারেন এই ক্ষমতা পরিবর্তনের মালিক ক্ষমতাধরা আর সেই ক্ষমতাধরদের খুশি করেই ক্ষমতায় আকঁড়ে থাকব। তা কিন্তু সম্পূর্ণই ভুল। তবে সাময়িক হিসেবে দেখা যায় জনতার পরিবর্তে ক্ষমতাইয় ক্ষমতাকে স্থায়ীত্ব দেয়। কিন্তু কতদিন? আর সেই কতদিনই এখন বড় প্রশ্ন। ক্ষমতা একমাত্র পরিবর্তন হয় সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় এবং জনতার অভিপ্রায়ে। আর সেই কাজটুকুই স্থায়ী হয়ে মানুষের দৃষ্টিগোচর হয়। এখন প্রশ্ন সৃষ্টিকর্তা ও জনতাকে কিভাবে খুশি করা যায়। তাই সৃষ্টিকর্তার অভিপ্রায় এবং জনতার প্রাপ্য এই দুটোই এখন হিসেবের অগ্রজে রাখতে হবে। কি প্রয়োজন আর কোনটি বেশী গুরুত্ব এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সৃষ্টিকর্তার দেয়া দায়িত্ব সুচারুরূপে পালন করাই এখন মুখ্য বিষয়। তাই ব্যবহারে সংযত হওয়া জরুরী। চিন্তা এবং কর্মের সংমিশ্রন ব্যবহারের মাধ্যমে প্রকাশ করুন। নম্র, ন্যায়পরায়নতায়, ক্ষমা ও ভালবাসায়, ঐক্য এবং সংযত ও সুমিষ্ট স্পষ্টভাষি হিসেবে। সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে আমরা পরের তরে। অথবা নিজের প্রতিবেশীকে নিজের মত মহব্বত করে। তাহলেই ভাষার সংযত আচরণ পাকাপোক্ত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.