প্রশান্তি ডেক্স ॥ গত বুধবার চাঁদপুর প্রেসক্লাবে এনসিপির আয়োজনে ইফতার মাহফিলে বক্তব্য দেন দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন সংবিধানের মৌলিক কাঠামোতে পরিবর্তন না আনলে জুলাই শহীদদের আত্মার শান্তি সুনিশ্চিত হবে না। বরং এই সংবিধান ছুড়ে ফেলার আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশে নাকি এখন পরিবর্তন চলছে। তবে পরিবর্তনটা শুরু করতে হবে সংবিধান পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে। মূল সমস্যা হলো এটি ভারতীয় সংবিধান, মুজিববাদী সংবিধান; এই ফ্যাসিবাদী সংবিধান আমরা চাই না। এই সংবিধানের কারণে জুলাইয়ে আমাদের অসংখ্য ভাই শহীদ হয়েছেন। এই সংবিধান কাউকে রক্ষা করতে পারেনি। এটি পরিবর্তন করতে পারলে শেখ হাসিনার মতো আর কেউ স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে পারবে না। আমরা বাংলাদেশের সংবিধান চাই। তারা পরিবর্তন না করলে এই সংবিধান ছুড়ে ফেলে দিতে হবে। না মানলে আমাদের হয়তো সংবিধান ছুড়ে ফেলার আন্দোলনে যেতে হবে।’ গত বুধবার (১৮ মার্চ) চাঁদপুর প্রেস ক্লাবে এনসিপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘এখন বাংলাদেশের সর্বত্র কোটার ভিত্তিতে নিয়োগ হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে একজন ঋণখেলাপিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যিনি ভক্ষক তাকে দেওয়া হয়েছে রক্ষকের দায়িত্ব। শেখ মুজিব রক্ষী বাহিনী গঠন করেছিলেন। আর বাংলাদেশে এখন তৈরি হচ্ছে ভক্ষক বাহিনী। তারা নদী-খালও ভক্ষণ করে চলছে। চাঁদপুর থেকে অনেকে মন্ত্রী হয়েছেন। কিন্তু চাঁদপুরের উন্নয়ন হয় না। নদী থেকে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে। বালুখেকোদের ঠেকানো না গেলে অসহায় মানুষের বসতভিটা নদীতে বিলীন হতে থাকবে।’
আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন বন্ধ করতে হবে জানিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘চাঁদপুর থেকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সরানোর কোনও অপচেষ্টা বা কচুয়াকে কেন্দ্র করে কোনও ষড়যন্ত্র হলে চাঁদপুরবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে আবারও রাজপথে নামবে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক মো. মাহবুব আলম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি শাহজাহান মিয়া, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, সাধারণ সম্পাদক এম এ লতিফ, এনসিপির চাঁদপুর সদর উপজেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী তামিম খান প্রমুখ।