‘জুলাই শহীদ ও আহতদের সন্তানদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা’

প্রশান্তি ডেক্স ॥ গণঅভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের সন্তান এবং আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী ‘জুলাই শিক্ষার্থী যোদ্ধাদের’ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে গত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর তিনি এ নির্দেশনা দেন। এ তথ্য সরকারি এক তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়েছে।

সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষামন্ত্রী নির্বাচনি অঙ্গীকার দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, শিক্ষা খাতে আধুনিকায়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে একাধিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ উদ্যোগ, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালু, বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা, ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি।

এছাড়াও বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও জুতা (কেডস) বিতরণ, বিদেশে উচ্চ শিক্ষার জন্য শিক্ষার্থী ঋণ সুবিধা এবং হাফেজে কুরআনদের সম্মান ও স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক প্রশিক্ষণের জট দূর করতে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। প্রয়োজনে একাধিক শিফটে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে দ্রুত সব শিক্ষকের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার কথাও তিনি বলেন। পাশাপাশি জাতীয়করণকৃত ৫০ বছরের ঊর্ধ্ব বয়সী শিক্ষকদেরও প্রশিক্ষণের আওতায় আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় মোট দুই লাখের বেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও কেডস বিতরণ করা হবে। পরবর্তীতে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সারাদেশের সব প্রাথমিক শিক্ষার্থীর জন্য এ সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে।

এছাড়া এক বছরের মধ্যে প্রাথমিক, কারিগরি, মাদ্রাসা এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের হাতে ট্যাব সরবরাহের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে উপজেলা পর্যায়ে গণিত অলিম্পিয়াড চালু এবং প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও বিতর্ক ক্লাব গঠনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।

শিক্ষামন্ত্রী ১৮০ দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এ কর্মসূচি দেশের মানুষের কল্যাণ এবং তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.