প্রশান্তি ডেক্স॥ চৈত্র সংক্রান্তিতে তিতা খাওয়ার প্রথা মূলত আমাদের উপমহাদেশের লোকাচার, ঋতুচক্র ও প্রতীকী ভাবনার সঙ্গে জড়িত। তিতা স্বাদ জীবনের কষ্ট, দুঃখ বা তিক্ত অভিজ্ঞতার প্রতীক। নতুন বছরে বা নতুন ঋতুর শুরুতে এই তিতা খেয়ে বোঝানো হয় জীবনের সব স্বাদ (মিষ্টি, টক, তিতা) গ্রহণ করার মানসিক প্রস্তুতি।

বিশ্বাস হচ্ছে না? তাহলে আরও যত প্রাকৃতিক কারণ আছে সেগুলোও জেনে রাখুন। সংক্রান্তি সময়টা শীত থেকে বসন্তে যাওয়ার পর্যায়। এ সময় শরীরকে ডিটক্স করতে তিতা খাবার (যেমন নিমপাতা) খাওয়ার প্রচলন আছে, যা হজম ও রোগ প্রতিরোধে সহায়ক বলে ধরা হয়।
আবার, গ্রামবাংলায় বিশ্বাস আছে, তিতা খাবার শরীরের “দোষ” কমায়, রক্ত পরিষ্কার করে এবং গরমের আগে শরীরকে প্রস্তুত করে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এ প্রথা সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধনও শক্ত করে সংক্রান্তির পাতে তিতা যেন ঐতিহ্যের অংশ।
বছরের শেষ দিন শহরের তুলনায় গ্রামে বেশি উদযাপিত হয়। নানা পদের খাবার তৈরি করে বছরকে বিদায় দেন গ্রাম-বাংলার নারীরা। চৈত্র সংক্রান্তিতে কী কী রান্না হয়? চৈত্রের শেষ দিন মেয়ে জামাইদের ডেকে খাওয়ানোরও চল আছে। সেঁচি শাক ভাজি, করল্লার ফোঁড়ন, সজনে ডাল, ছোট মাছের পেষা ভর্তা, পাট শাক ও ডালের চচ্চড়ি, টালা টমেটোর চাটনি, আলু কচু বেগুন, টমেটো কপির নিরামিষ সঙ্গে পাঁচ ফোঁড়নের বাগাড়।
এ সময় দিনটা চড়া থাকে বলে ডাল, টক, তিতা দিয়ে রুচি বাড়ানো হয়। এরজন্য মটর ডাল সেরা। লবণ ও হলুদ দিয়ে সেদ্ধ করে নিন। তেলে হলুদ ও লবণ দিয়ে করলা ভেজে আলাদা করে ডালের মধ্যে দিয়ে দিতে হবে। ডালের সঙ্গে অল্প করে আদা বেটে দিতে হবে। বাগারের সময় সামান্য আদা ছেঁচে, তেজপাতা ও শুকনা মরিচ দিয়ে ফুটিয়ে নামিয়ে নিতে হবে।