শিশুর লাশ নিয়ে বাড়ি যাওয়ার পথে জানানো হলো আইসিইউ ফাঁকা, মায়ের কান্না

প্রশান্তি ডেক্স॥ জন্মের পর থেকেই ঠান্ডাজনিত রোগে ভুগছিল পাবনার বেড়া উপজেলার ইয়াকুব আলীর মেয়ে নেহা। বয়স দুই মাস। গত রোজার ঈদের দিন তার শরীরে হাম দেখা দেয়। তারপর ২৩ মার্চ রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিশু বিভাগের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা চলছিল। গত মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে হাসপতালের পিআইসিইউতে (পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) নেওয়ার পরামর্শ দেন। স্বজনরা দ্রুত পিআইসিইউতে গিয়ে সিরিয়াল দেন। সিরিয়াল পড়ে ১২। পিআইসিইউর জন্য অপেক্ষাধীন থাকা অবস্থায় গত বুধবার (০৮ এপ্রিল) দুপুরে শিশুটির মৃত্যু হয়।

লাশ নিয়ে মা-বাবা যখন বাড়ির পথে তখন বিকালে পিআইসিইউ থেকে নেহার মা চামেলীর মোবাইল নম্বরে কল আসে। হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, ‘পিআইসিইউ ফাঁকা হয়েছে। শিশুটি পিআইসিইউতে নিয়ে আসেন।’ এই কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গে কান্না শুরু করেন মা। পরে তার কাছ থেকে ফোন নিয়ে শিশুটির বাবা হাসপাতালের লোকজনকে জানান, পিআইসিইউতে বেড না পেয়ে দুপুরেই নেহা মারা গেছে।

নেহার খালা মতিয়া খাতুন বলেন, ‘সময়মতো হাসপাতালে ভর্তি করেছিলাম। সময়মতো পিআইসিইউতে একটা বেড পেলে হয়তো বেঁচে যেতো নেহা।’

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নেহাসহ চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার সকাল থেকে গত বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে তাদের মত্যু হয়।

মারা যাওয়া অন্য শিশুরা হলো- কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের সুইট রানার ছেলে সামিউল (ছয় মাস), কুষ্টিয়া সদরের সাধন শেখের ছেলে সাইফান (নয় মাস) ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের রাফিউল্লাহর মেয়ে তাসফিয়া (এক মাস)। তারা তিন জনই হাসপতালের পিআইসিইউতে ভর্তি ছিল।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৭ জন ভর্তি হয়েছে। আর সুস্থ হওয়ায় ছাড়পত্র পেয়েছে ২৪ জন। বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১৩২ জন রোগী। হামের সংক্রমণ শুরুর পর এ পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ৪৭৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.