বরাবরের ন্যায় এবারও বাজেট প্রস্তাব পেশ হয়েছে। আগামীতে পাশও হবে। তবে এবারের বাজেট আশা নিরাশার দোলনচাপায় গনজোয়ারের ন্যায় অগ্রসর হওয়ার মত। তবে আশা আকাঙ্খা ও উদ্ধিপনা এবং সমালোচনা সবই আছে এই বাজেটে। গতানুগতিক বাজেটও বলার সুযোগ নেই। তবে সকলের আশা পুরুণ হউক এই বাজেটে এই কামনাই করি।
বাজেট বিশারদ নই বটে কিন্তু প্রতিবারই বাজেট নিয়ে কথা বলি বা লিখি। কিন্তু এই বলা বা লিখায় কারো যায় আসে বা যায় না বরং আমাদের মনের খোরাক প্রকাশ পায়। বাজেট আসে বাজেট যায় কিন্তু আমাদের রং বদলায় না। যে যেমন আছি সে তেমনই থাকি। বাজেট দিয়ে সাধারণ জনগণের কোন উপকার হয়েছে বলে কোনরকম দৃষ্টান্ত আজও দৃশ্যমন হয়নি। তবে এবারের বাজেটে সকলেরই জন্য আশা জাগিয়েছে কিন্তু তা কতটুকু বাস্তবসম্মত এবং কতটুকু বাস্তিবায়িত হবে তা এখন দেখার বিষয়। বর্তমান বাজেট ইতিহাসের আজ পর্যন্ত সর্বচেয়ে বড় বাজেট এবং এই বাজেট সকলেরই জন্য বলে প্রতিয়মান হয়েছে শোনা ও দেখার মাধ্যমে। তবে এরও বিরোধীতা চলছে এবং এবং এর বিরুদ্ধে চুলছেড়া বিশ্লেষণ প্রকাশ পাচ্ছে।
যেই সরকারই আসুক না কেন সবাই কিন্তু বাজেট দেয় জনগণের জন্য এমনকি রাষ্ট্রের কল্যাণের জন্য। এখন দেখার ও ভাবার বিষয় রাষ্ট্র এবং জনগণ কিভাবে এই বাজেট দ্বারা উপকৃত হয়। অতিতের আলোকে এবারের বাজেটও ঐ একই বাক্যে উচ্চারণ বা দেখার ও বলার কল্পকাহিনীর রূপ মাত্র। একটি হাস্যরসাত্মক বা ব্যঙ্গাত্মক কথা এই ক্ষেত্রে বলা যায়। শৈশবে এক মুরুব্বী আমাদেরকে নিয়ে মজা করত। প্রতিবারই শবে বরাত আসলে তিনি নির্ভার ঘুম ঘুমাতেন। সকালে অথবা বিকেলে অথবা শবে বরাতের পরের দিন ওনার সঙ্গে দেখা হলে বলতো কার ভাগ্যে কি লিখা হয়েছে জানো। আমি আগ্রহ নিয়ে বলতাম না তবে আমি রহমতের ফোটার নাগাল পাইনি। তখন ওনি রাত জেগে এবাদত করার কথা বলে বলতেন। সবই ভাল যে তোমরা সারারাত জেগে এবাদত করেছ। তবে আমি রাতে ভালোভাবে ঘুমিয়েছি। কারণ আল্লাহ হাতেগোনা কয়েকজনকে ভাগ্য পরিবর্তন করিয়ে দেয় তারপর তিনি বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই লিখে দেন ঐ। ঐ মানে আগের বছর যা ছিল তাই। আমাদের সমাজে সবেবরাতের পরে দেখা যায় সবার ভাগ্যেই ঐ লিখা থাকে। ভাগ্য পরিবর্তীত লোক পাওয়া খুবই কষ্টকর। তাই ঐ লিখার জন্য সারারাত কষ্ট করতে চাইনা। কারন এমনিতেও ঐ আছে আরা সারারাত এবাদত করলেও ঐ আসে। তবে এই হিসেবে বাজেটকে বলা যায় “ঐ”। মানে আগে যা ছিল তাই।
কঠিন এই দুর্যোগে সরকার অর্থনীতিতে লাগাম টানতে এবং গুনগত পরিবর্তন আনতে চেষ্টা করছে কিন্তু আমরা জনগণ সহযোগীতা না করলে তা সফল হবে বলে মনে হয়নি। কারণ বিগত দিনেও দেখেছি সহযোগীতা করার বেলায় কেউ নেই। সমালোচনা করার বেলায় সকলেই আছে। কেউ কেউ আছে ভুল ত্রুটি তুলে ধরতে কিন্তু ভুল-ত্রুটিহীনভাবে কিভাবে অগ্রসর হওয়া যায় তার কোন খেয়াল রাখছে না। তাই বলি ভাই আসুন আমরা নিজের চরকায় তেল দেয়। অন্যের চরকায় তেল দিতে গিয়ে নিজের এমনকি সকলের সর্বনাশ না ডেকে আনি।
বাজেটে অর্থ যোগানের জায়গাগুলোকে আরো স্বচ্ছ করতে হবে। ঐ জায়গায় ফেরেস্তা বসাতে হবে। কারণ যদি ঐ স্বচ্ছতা ও জবাবদীহিতা এবং ফেরেশতা দ্বারা পরিচালনা করা যায় তাহলে বাজেটের কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন শতভাগ সম্ভব। এই সম্ভবকে অসম্ভবেও সম্ভব’এ পরিণত করার জন্য কাজ করতে হবে। ফেরেশতা খুজতে হবে এবং ফেরেশতা দ্বারা কার্য সম্পাদন করিতে হবে। ফেরেশতা খোজা এবং ফেরেশতা তৈরী করায় মনযোগী হতে হবে। তাহলে হয়তো সরকারের আশা ও আকাঙ্খা এবং জনগনের উদ্দিপনা একত্রিত হয়ে একটি নতুন পরিবর্তীত সংস্কৃতি চালূ হবে।
সম্ভব এবং অসম্ভব এই দুটো শব্দই বিরাজমান রয়েছে। তবে একজন মানুষের ক্ষেত্রে এই দুটিতে সফলতা পেতে অসম্ভব। তবে সৃষ্টিকর্তার নিকট অসম্ভব বলে কিছু নেই সবই তাঁর কাছে সম্ভব। তাই আসুন সৃষ্টিকর্তার সাহায্য নিয়ে তাঁর অভিপ্রায় অনুযায়ী অগ্রসর হই। তাহলেই কাংখিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব। বাজেটকে স্বাগতম ও সাধুবাদ জানাই। বাজেট প্রণয়নে জড়িত সকলকে সাধুবাদ জানাই। বাজেট বাস্তবায়নে নিয়োজিত সকলের প্রতি রইল আন্তরিক অভিনন্দন ও দোয়া। প্রয়োজনে স্ব স্ব অবস্থান থেকে সহযোগীতা করার প্রতিশ্রুতি। যেন আগামীর কল্যাণ ত্বরান্বিত হয় এবং পরিবর্তীত ইতিবাচক বাংলাদেশ বিনির্মান হয়। সংস্কৃতির ধারাবাহিকতায় চ্ছেদ ঘটে। নতুন সংস্কৃতিতে নিজেদেরকে খাপখাইয়ে নিতে পারে। মানুষের মনের দোয়া ইউনূছ আতঙ্ক দূরুভীত হউক। তারেকামলের জয়জয়াকর হউক। এই কামনাই করি এবং এই বাজেট ও এর বাস্তবায়ন নিয়ে অগামী দিনে আরো ঘঠনমূলক লিখার প্রত্যাশা রেখে আজকের মত এই অভিপ্রায় সমাপ্ত করলাম।