ভজন শংকর আচার্য্য, কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি ॥ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা রেলওয়ে স্টেশনে এক বৃদ্ধ ব্যক্তিকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারানো দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তোফায়েলের পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নিতে এবং সমবেদনা জানাতে তার বাড়িতে যান কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম।

গত রোববার (৭ জুন ২০২৬) বিকেল ৩টায় ইউএনও নিহত তোফায়েলের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা ও খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন ২০২৬) সন্ধ্যায় কসবা রেলওয়ে স্টেশনে দ্রুতগতিতে ছুটে আসা সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের সামনে থেকে এক বৃদ্ধকে সরিয়ে দিতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করে তোফায়েল। তার এই বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগের ঘটনা স্থানীয়সহ দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে গিয়ে ইউএনও মো. ছামিউল ইসলাম বলেন, “অন্যের জীবন রক্ষায় নিজের জীবন উৎসর্গ করার এমন দৃষ্টান্ত সত্যিই বিরল। তোফায়েলের এই আত্মত্যাগ দীর্ঘদিন মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। আমরা তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, তোফায়েলের বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে কসবা উপজেলা ও স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তার নামে একটি স্মৃতিফলক স্থাপনের দাবি উঠেছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং তার স্মরণে একটি স্থায়ী স্মৃতিচিহ্ন নির্মাণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আলোচনা চলছে।
এ সময় কসবা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও), স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং এলাকার বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়দের মতে, মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী তোফায়েলের আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মকে সাহস, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার শিক্ষা দিয়ে যাবে। তার স্মৃতিকে ধরে রাখতে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং কসবা রেলওয়ে স্টেশনে একটি স্মৃতিফলক স্থাপনের দাবিও জোরালো হচ্ছে।