উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সকালের নাশতায় রাখুন এই ৪ খাবার

প্রশান্তি ডেক্স॥ উচ্চ রক্তচাপ (হাই ব্লাড প্রেশার) বর্তমানে বিশ্বজুড়ে একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিব্লউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রতি তিনজন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজন উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। সময়মতো এটি নিয়ন্ত্রণে না আনলে হৃদ্‌‌রোগ, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এমনকি মৃত্যুঝুঁকিও বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওষুধের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে সকালের নাশতায় পটাশিয়াম, ফাইবার, ক্যালসিয়াম ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার রাখলে উপকার পাওয়া যেতে পারে।

ফল ও শাকসবজি : নিয়মিত ফল ও শাকসবজি খাওয়া উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। কলা, আপেল, ডালিম, কমলা, আঙুর, লেবু ও বিভিন্ন ধরনের বেরিজাতীয় ফলে পটাশিয়াম, ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। একইভাবে ব্রকলি, টমেটো, ফুলকপি ও সবুজ শাকসবজিতে থাকা পুষ্টি উপাদান রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে।

কলা পটাশিয়ামের ভালো উৎস, যা শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে ডালিমের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও পলিফেনল হৃদ্‌‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে বিবেচিত হয়।

তরমুজ : গরমের সময়ে তরমুজ শুধু শরীরকে সতেজই রাখে না, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হতে পারে। এতে থাকা পটাশিয়াম শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। পাশাপাশি ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট প্রদাহ কমাতে এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।

ওটস : সকালের নাশতায় ওটস একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প। এতে রয়েছে ফাইবার, পটাশিয়াম ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। ফাইবার হজমে সহায়তা করে, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এবং হৃদ্‌‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এসব কারণে ওটস উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।

দই : দই পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস। পটাশিয়াম শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়ামের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে এবং রক্তনালিকে শিথিল রাখতে ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে ক্যালসিয়ামও স্বাভাবিক রক্তচাপ বজায় রাখতে সহায়ক। তাই নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে দই খাওয়া উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে উপকারী হতে পারে।

মনে রাখবেন: শুধু খাবারের ওপর নির্ভর করলেই হবে না। নিয়মিত শরীরচর্চা, লবণ কম খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম, ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ এসবও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের (এএইচএ) উচ্চ রক্তচাপবিষয়ক নির্দেশনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.