দুর্যোগ দুই প্রকারের। এক প্রাকৃতিক ও দুই মনুষ্যসৃষ্ট। এই দুই-ই কিন্তু মানুষের ক্ষতির জন্য এমনকি দৃষ্টান্ত ও শিক্ষার জন্য। দুর্যোগ মোকাবিলায় মানুষ প্রতিনিয়ত শিখে এবং আগামীর করনীয় ঠিক করতে উৎসাহ পায়। এই দুর্যোগ পৃথিবী সৃষ্টির পর থেকে ক্রমাগতভাবে পৃথিবীর উপর বর্ষিত হয়ে আসছে। বিভিন্ন সময় নবী ও রাসুলদের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে যা আজ আমাদের সামনে জাগ্রত। তবে এই দুর্যোগ সম্পর্কে ইতিহাসেও জানা যায়। কোন কোন দুর্যোগ সৃষ্টিকর্তা মনোসম্মতি দেন আবার কোন কোন দুর্যোগ সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে হয়ে থাকে। তবে সবই তিনি দেখেন এবং নিয়ন্ত্রণ করেন। তবে সব ক্ষেত্রেই তিনি তাঁর সৃষ্টির সেরা জীবদেরই ব্যবহার করেন।
পৃথিবীতে সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত দুর্যোগসমূহের মাধ্যমে জাতিকে নিয়ন্ত্রণ ও শিক্ষা দিয়েছেন এবং সেই জাতিদেরকে নিয়ে সৃষ্টিকর্তা সামনে এগিয়েছেন। সৃষ্টিকর্তার পরিকল্পনানুযায়ী শেষ সময়ের দিকে এগিয়ে যাওয়াই মূখ্য বিষয়। তবে যারা যারা সেই সৃষ্টিপূর্ব পরিকল্পনা থেকে বের হয়ে নিজস্ব ইচ্ছায় পরিচালিত হয়েছেন তাদের ক্ষেত্রেই জাগতিক এবং ইহজাগতিক দুর্যোগ বর্ষিত হয়েছে। তাই আজকের বিশ্বেও এই একই শ্রেণীর দুর্যোগ প্রবাহিত রয়েছে তবে তা সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত নয়। বর্তমান বিশ্বে যেসকল দুর্যোগ দৃশ্যমান হয় তার সবকয়টিই মনুষ্য সৃষ্টি। আর তা বুঝার জন্য বর্তমান ডিজিটাল উন্নয়ন ও অগ্রগতি আয়নার মত কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্বের সকল দুর্যোগই লোভ ও লাভ এই হিসেবের উন্নতিকল্পে। সুতরাং মানুষের চোখে ধুলো মেখে আর উন্নয়ন সাধন করা সম্ভব নয়। বরং ধুলোর পরিবর্তে ক্ষমতা ব্যবহার করে অন্যায় সাধনের মাধ্যমেই চলছে সাধারণে দুর্যোগ।
ক্ষমতার জন্য দুর্যোগ, অর্থের জন্য দুর্যোগ, জায়গা-জমির জন্য দুর্যোগ, সুন্দরের জন্য দুর্যোগ। এই সকল দুর্যোগগুলি বর্তমানে চলমান অবস্থায় রয়েছে। তবে এই দুর্যোগের বাইরেও আরো অনেক দুর্যোগ রয়েছে যা অদৃশ্যভাবে মহা দুর্যোগের সৃষ্টিতে প্রলংকরী ভুমি রাখতে পারে এবং রাখছে ও রাখবে। পৃথিবীতে যে সকল দুর্যোগ গত হয়েছে এবং যেসকল দুর্যোগ চলমান রয়েছে তার দিকে একটু গভির দৃষ্টি দিয়ে হিসেব নিকেস করলেই বুঝা যায় যে, এই দুর্যোগের মূলে কে এবং কি রয়েছে। কিসের জন্য এই দুর্যোগ এবং কারা করছে এই দুর্যোগ। সবই দৃশ্যমান ও বিবেক জাগ্রত। সবকিছুই মানুষের দ্বারা সৃষ্টি হয়েছে মানুষেরই ক্ষতির জন্য। একের ক্ষতি আর একের লাভ। এই দুই-ই হয় সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে। কারণ তিনি সকলেরই লাভ প্রত্যাশা করেন এবং সকলেরই জন্য সকল কিছু বিলিয়ে দেন। যা দেন তা সবই দেন বিনামূল্যে। কোনকিছুর বিনিময়ে নয় বরং বিনামূল্যে সকলের জন্যই তিনি বিলিয়ে দেন।
বন্যা ও ক্ষরা এই দুই দুর্যোগও বর্তমানে মনুষ্যসৃষ্টি। আর এতে করে ক্ষতিও হয় মানুষেরই। সৃষ্টিকর্তা মানুষের ক্ষতি করতে চান না বরং তিনি মানুষের উপকার করতে চান আর সবসময় তিনি মানুষের উপকারই করেন। তবে মানুষ দ্বারা মানুষেরই ক্ষতি হয় এবং মানুষই মানুষকে দুর্যোগে পতিত করেন। দুর্যোগের সংক্ষিপ্ত সারাংশ শেষের আগে শুধু সৃষ্টিকর্তার কতিপয় বাক্য উচ্চারন করেই শেষ করতে চাই। “সৃষ্টিকর্তা তাঁর মত করেই মানুষ সৃষ্টি করেছেন। হঁ্যা তিনি তাঁর মত করেই (সিফতে) মানুষ সৃষ্টি করেছেন”। সৃষ্টিকর্তা মানুষ সৃষ্টির পূর্বেই এই মানুষের জন্য একটি পরিকল্পনা করে রেখেছেন- আর তা হলো “তোমাদের জন্য আমার পরিকল্পনার কথা আমিই জানি, তবে তা তোমাদের উপকারের জন্য অপকারের জন্য নয়। বরং সেই পরিকল্পনার মধ্যদিয়েই তোমাদের ভবিষ্যতের আশা পূর্ণ হবে।” হ্যা তাই যেন হয়। আমিন\