বিভ্রান্তিতে অরাজকতা

জাতি এক বিভ্রান্তির মধ্যে দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। দেশীয় ও বিদেশী ষড়যন্ত্র এবং দ্রব্যমূল্য ও নির্তপন্যের অপ্রতুলতা আর উদ্ধমূখীতা এমনকি গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে হাবুডুবুসহ যাবতীয় কর্মকান্ডকে আরো উসকে দিচ্ছে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও ছিনতাই আর দখল ব্যবসার সাথে মৃত্যুর মিছিল। মানুষ আজ দিশেহারা। সরকারও দিশেহারা অবস্থায় নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা ভুলবাল বকে যাচ্ছে আর মিথ্যা বক্তব্য আওড়াচেছ। এই দশা দেখে মনে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর শত প্রচেষ্টা ব্যর্থতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। সকলে মিলে প্রধানমন্ত্রীকে ব্যর্থ প্রমানে মরিয়া হয়ে কাজ করছে। এই সকল বিভ্রান্তি এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে।

ইউনূছ গংদের অরাজকতায় এখন খাবুডুবু খাচ্ছো এই সদ্য ভুমিষ্ট হওয়া সরকার। তবে আন্তর্জাতিক চক্রান্তের কাছেও পরাস্ত এই সরকার। কুল রাখি না শ্যাম রাখি এই অবস্থায় দিন কাটছে জনআকাঙ্খার এই জনপ্রীয় জনসরকারের। একই মায়ের পেটের দুই ভাই বিভ্রান্তিতে লিপ্ত। শুধু ক্ষমতা ও সম্পদেুর লিপ্সায়। এক ভাই ক্ষমতায় আর এক ভাই ক্ষমতার বাইরে। তবে ক্ষমতার বাইরে রয়েছে পরাজিতরাও। এই সকল তালগুল পাকানো অবস্থায় দেশের মানুষ যেন বড় অসহায়।

সকল অরাজকতার মাঝে আবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনও চোখ ধাধানো নব্য এক অরাজকতা। যা মানুষকে চোখে ধুলা দিয়ে আই ওয়াস করে যাচ্ছে। সরকারী দলের প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত যেনেও বিরোধীদল প্রার্থী দিয়েছে যা এক হাস্যকর উপাদান হিসেবে মুখরুচক গল্পে পরিচিতি লাভ করছে। মির্জা ফখরুল সাহেব রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন যা দলের কাছ থেকে পাওয়া এক বিশাল উপহার। শেষ বয়সের শ্রদ্ধ ও ভালবাসার বিদায়। যা রাজনৈতিক অরাজকতার সামিল। দল ও পদ উভয় থেকেই আলবিদা বলা হয়েছে।

আমেরিকা না চিন এই দোটানায় এখন সরকার কাতরাচ্ছে। তবে মাঝপথে আবার ভারতও বাগড়া দিচ্ছে। এই ক্ষেত্রে পাকিস্থান এবং ভারত এই দুই প্রীতিময়তা কাজ করছে অর্ন্তদ্বন্ধের। তবে ইউরোপ ও ভারত এবং চিন এই তিনের গুটির চালে ধরাশায়ী বাংলাদেশ। শ্যাম রাকি না কুল রাখি এই যেন ত্রাহিসম অবস্থা। এইসকল কর্মকান্ডের ফলে বিভ্রান্তির বেড়াজালে আবদ্ধ জাতি।

কি হচ্ছে চারিদিকে ! ইউএনও পিটাচ্ছে বিএনপি নেতাকে; আবার প্রত্যাহারও হচ্ছে। পৌর প্রসাশক পিটাচ্ছে কর্মকর্তাকে আর ডিসির আশ্বাসও আছে প্রত্যাহারের। এক থানার পাঁচজন একসাথে অব্যাহতি পাচ্ছে এবং আরেক থানার ওসিকে কোর্টে তলব করা হচ্ছে। এইসকল দ্বিকবিদ্বিক বিভ্রান্তির আরাজকতায় আজ ভাসছে আমাদের প্রশাসন। এখান থেকে উত্তরণের কি কোন পথ আছে?

সরকার কি এই সকল বিভ্রান্তি ও অরাজকতার বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নিয়েছে বা নেয়ার সক্ষমতায় রয়েছে?  এখনই সময় সঠিকতায় ফিরে আসার। নতুবা ইউনুছাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী। যে বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে তার থেকে বের হতে হলে সরকারকে কঠোর ও দৃঢ়তা নিয়ে অগ্রসর হতে হবে। মাঝে মাঝে পরাজিত সরকারের ন্যায় আচরণও করতে হবে এবং সবকিছুকে ঠিকঠাক করে গোছালো রাষ্ট্রের উন্নতি সাধনে মনোনিবেশ করতে হবে। নতুবা বিপর্যয়ের শঙ্কা ঘণিভূত হয়ে রাষ্ট্রের অভূতপূর্ব ক্ষতি সাধিত হবে। সামগ্রীকভাবে বলতে গেলে বিভ্রান্তির অরাজকতায় ভরপুর দেশের সকল স্তর ও স্তম্ভ। এই আক্রান্তির পরিণতির শেষ কোথায় গিয়ে ঠেকবে তাই এখন দেখার বিষয়। সচেতন সকলকেই মিনতি করি ব্যক্তিস্বার্থ ও দলীয় স্বার্থ এবং গোষ্টিগত স্বার্থ আর সন্ত্রাসীদ্বারা আক্রান্ত স্বার্থ পরিহার করতে হবে। হ্যা এখনই করতে হবে আর প্রতিকারে নিতে হবে উপযুক্ত ব্যবস্থা। নতুবা অর্ধগলিত রাষ্ট্র পুরোটাই বিগলিত হয়ে অস্তিত্ব বিলিনের পর্যায়ে রূপান্তরিত হবে। আসুন আমরা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হই, দলের উদ্ধে দেশ, মতের উদ্ধে দেশ, ধর্মের উদ্ধে দেশ, আর সকল বিভেদের উদ্ধে দেশকে প্রাধান্য দিয়ে সকল কার্যক্রমে মনোনিবেশ করি। ধর্ম ও বর্ণ এবং শ্রেনিভেদে বিভাজিত না করে সৃষ্টির সেরাজীব মানুষ হিসেবে গণ্য করে সকলকে নিয়ে একসঙ্গে কাধে কাধ মিলিয়ে অগ্রসর হই তাহলেই কাংখিত লক্ষ্যে উপনিত হওয়া যাবে এবং সম্ভব যা ১৯৭১ সালে এই জাতি প্রমান করেছিল। সেই প্রমানের ধারাবিহকতায় অগ্রসর হই এবং কল্যাণকামী রাষ্ট্র হিমেবে মানবতার আশ্রয় ও প্রশৃয়ের কান্ডারী হিসেবে বিশ্বে নিজেদের স্থানা বা আসন পাকাপোক্ত করি। এই কামনায় সকল বিভ্রান্তির অরাজকতা বিতাড়িত হউক।

Leave a Reply

Your email address will not be published.