অনুমাননির্ভর কথাবার্তা ও টকশো একেবারেই অকার্যর। এই দুইয়ের কোন প্রয়োজনীয়তা নেই। এই দুই-ই সমস্যা বাড়ায় এবং সমাধানে অন্তরায় হয়। অনুমাননির্ভর কথাবার্তা না বলাই ভাল। কারণ অনুমানের উপর ভিত্তি করে পরিস্থিতি শান্ত বা অশান্ত অথবা বাহাবা কুড়ানোর প্রয়োজন নেই। ঠিক তেমনি করে টকশো আয়োজনেরও প্রয়োজনীয়তা নেই। কারণ টকশোতে যে সকল আলোচনা বা সমালোচনা হয় সেগুলোর কোন সারবত্তা নেই এমনকি এতে করে সমাজের ও রাষ্ট্রের কোন উপকারে আসে বলে মনে হয়না। তবে এতে করে পক্ষে ও বিপক্ষের মধ্যে দ্বন্ধ বা সমালোচনা এমনকি মতবিরোধ তৈরী হয় আর এই আলোচনার মাধ্যমে পরিবেশ উত্তপ্ত হয় এমনকি ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়।
সংশোধন ও সংযোজন এমনকি গঠনমূলক আলোচনায় পরামর্শ প্রদানমুলক অনুষ্ঠান প্রাচার করা যেতে পারে। এটা যদি টকশোর মাধ্যমে হয় হতে পারে তাতে কোন বাধা নেই। তবে বর্তমানে যেসকল টকশো এবং ব্যক্তিবর্গকে উপস্থাপন করা হচ্ছে তা জাতির প্রয়োজনে কোন কাজে আসবে না এমনকি অর্থ অপচয়ের ও সময় নষ্টের বিনিময়ে কিছুই মিলবে না। তাই এই বিষয়গুলো একটু ভাবনা চিন্তা করা প্রয়োজন। সময়ের দাবী ও প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্ব দেয়া জরুরী। নতুবা এই সকল অনুষ্ঠান একদিন কাঠগড়ায় দাঁড়াবে আর এই উপস্থাপক বা সঞ্চালক ও দাওয়াতীরা ফ্যাসাদে পড়বে। তাই সময় থাকতে সাবধান হউন।
এই বিষয়ে মহান খোদা তাঁর কালামে উল্লেখ করেছেন “ যাও, পর্যবেক্ষণ কর, নিজেথেকে কিছু বলো না, তাড়াহুড়া করো না বরং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পাকরূহের পরিচালনায় চাহিদানুযায়ী কথা বলো।” আমাদের এখন উচিত অপেক্ষা করা ও সময় নিয়ে পর্যবেক্ষণ করা। শোনা, দেখা ও বোঝা এই তিনের সমন্বয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া। অনুমাননির্ভর বা টকশোর প্রয়োজনে কথা বলার সময় এখন নয়। বরং ধৈয্য ধারণ করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময় এখন। প্রত্যেককে তাঁর কাজটুকু করতে সুযোগ দেয়ার সময় এখন। ভুল ধরা বা টুকধরার সময় এখন নয়। সামনে অনেক সময় আছে ভুল ধরা বা টুক ধরার। তাই অপেক্ষা করুন এবং ধৈয্য ধারণ করুন।
তবে যদি কোথাও কোন পরামর্শের প্রয়োজন হয় অথবা সহযোগীতা করার প্রয়োজন হয় তাহলে বিনীতভাবে বা বিনম্র চিত্ত্বে তা করুন। প্রতিবন্ধকতায় নয় বরং ইতিবাচক কল্যাণে গতিশীলতায় কাজ করুন। সরকার, বিরোধীদল, সাধারণ জনগণ, সরকারী ও বেসরকারী অফিসের সাধারণ ও অসাধারণ কর্মচারী এবং কর্মকর্তাগণ সকলেই এই একই পথ ও মত বা পন্থা অবলম্বন করুন। ইতিবাচক কল্যাণে সহযোগীতা গ্রহন ও প্রদানের মনোভাব পোষণ করুন।
অনুমানের উপর ভিত্তি করে কোন তথ্য উপস্থাপন করবেন না। অতীতের ন্যায় নিজেদেরকে বা নিজেদের সংস্থাকে আর ছোট করবেন না বা নীচে নামাবেন না। সাজানো নাটক বা গল্প বলে পরিবেশ অথবা সমাজকে উত্তপ্ত বা শান্ত করবেন না এমনকি করার চেষ্টাও করবেন না। খোদার কালামের আলোকে নিজেকে সাজান “যা সত্য যা উপযুক্ত যা সৎ যা খাঁটি যা সুন্দর যা সম্মান পাবার যোগ্য, মোট কথা যা ভাল এবং প্রশংসার যোগ্য সেই দিকে তোমরা মন দাও।” হঁ্যা তাই করুন।
চারিদিকে ছিনতাই, খুন, রাহাজানি, চাদাবাজি, দখল হরখামেশাই ঘটছে। এই বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনায় নিচ্ছেন না। স্বীকার করছেন না বরং বরাবরের ন্যায় অস্বিকার করে কাকের ভুমিকা পালন করছেন। কিন্তু জনগণ ও মিডিয়া এই দুই-ই কিন্তু দেখছে এবং বুঝছে আর ভাবছে আপনার সম্পর্কে। ঘৃণা ও অভিশপ্ত জীবনের অধিকারী হিসেবে গণ্য করছে আপনাকে। হয়তোবা প্রকাশ্যে ও সামনে বলছেনা কিন্তু বাস্তবে সবই ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে আর বৃহৎ সুযোগের অপেক্ষা করছে। আসুন এইসকল বিষয়গুলো স্বীকার করে আস্থায় এনে গুরুত্ব দিয়ে সমাধানের সঠিক পথ খুজে বের করি। আর সমাধানকল্পে নেয়া পদক্ষেপগুলো জনসম্মুক্ষে আনয়ন করে দৃশ্যমান রাখি। তবে প্রতিরোধ ও সচেতন করে আগামীতে না করার ব্যবস্থা উন্মোচন করি। এখানে স্পষ্ট বলা যায় যে, সাজা বা শাস্তিতে মুক্তি নয় বরং ক্ষমা এবং ভালবাসায় আর স্নেহময় পরিচর্যায়ই মুক্তি। এই মুক্তির জন্য নতুন করে সাজাতে হবে প্রশাসন এবং নিতি ও আদর্শ। এই মুক্তির পথে এগিয়ে যেতে হবে প্রতিটি মানুষকে। যারা সৃষ্টির সেরাজীব হিসেবে নীজেদেরকে দাবি করে এবং সমাজ সংস্কারক হিসেবে নিজেদেরকে পরিচয় দেন ও রাষ্ট্র মেরামতের জন্য নিয়োজিত রয়েছেন আর সরকার ও বিরোধী দলে এমনকি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে যুক্ত রয়েছেন সকলেই এই আদর্শকে আলিঙ্গন করে সকলকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। সমস্যা বা ফ্যাতনা সৃষ্টিকারী কথাবার্তা, অনুষ্ঠান, পরিকল্পনা এমনকি আচরণ পরিহার করতে হবে। বর্জন করতে হবে অনুমাননির্ভর কথাবার্ত এবং টকশোকে। মিডিয়ার উপর বিশ্বাস স্থাপন করা যাবে না তবে চোখ কান খোলা রেখে জ্ঞান ও বুদ্ধির ব্যবহার এবং প্রজ্ঞাদ্বারা সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে সম্পর্কউন্নয়ন করে সামনে এগুতে হবে। তবেই সার্থক হবে মানব জন্ম এবং এর ইতিহাস ও ঐতিহ্য।