চারিদিকে নৈরাজ্য বিরাজ করছে। আর সরকার এতে দিশেহারার মত আচরণে আসক্ত হয়ে পড়ছে। এই নৈরাজ্য দূরীকরণে ভূমিকা রাখার স্থলে নিজেরাই নৈরাজ্যময় অবস্থায় পর্যবসীত হচ্ছে। চারিদিকের হা হা কার এখন যেন সরকারকে হতবিহবল করে ফেলেছে। কিংকর্তব্যবিমূঢ় আচরণে অতিষ্ট হয়ে সরকার বিদেশী ও দেশী চক্রান্তকারীদের ফাঁদে পা দিচ্ছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বুদ্ধিপূর্বক দূরদর্শী চিন্তা এবং গভীর পরিকল্পনা নিয়ে এগুতে হবে। দুরদর্শীতার ক্ষেত্রে আপোষকামীতা চলবে না বরং এই দুরদর্শীতাকে সূদুরপ্রাসারী করে তুলতে হবে। কাউকে বুঝতে দেয়া যাবে না সরকারের দুরদর্শীতাকে অথবা ভবিষ্যতের কর্মপরিকল্পনাকে। তবে দৃশ্যমানতা যেন সবসময়ই চমৎকৃত করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয় সেইদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
সার নিয়ে নৈরাজ্য বন্ধ করা উচিত। সার বাণিজ্য বন্ধে ব্যবস্থা নেয়া জরুরী। তেল ও গ্যাস এবং বিদ্যুৎ বাণিজ্যেও লাগাম টানা উচিত। এখানে কোন প্রকার আপোষকামীতা চলবে না। বরং আপোষকামীই আগামীর পরাজয় সুনিশ্চিত করবে। তাই সাবধান হউন এবং এই সকল নিত্যপন্য পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করুন এবং প্রত্যেকের কাজে সহজলভ্য করে পৌঁছে দিন। নতুবা আগ্নেয়গীরির অগ্নোৎপাত অত্যাসন্ন। বিদেশী এবং দেশী মোড়লদেরকে এই আগ্নেয়গীরির অগ্নুৎপাতে সহায়তা করতে সুযোগ না দিয়ে বরং নিজেরা সুযোগ নিন আর সবাইকে এই সমস্যা মোকাবিলায় সংযুক্ত করুন। সবাই মিলে এই সমস্যার সমাধান করলে সুদুর অচিরে আর অগ্নুৎপাত দৃষ্টিগোচর হবে না।
যে সকল পরিকল্পনার কারণে আজ এই অবস্থা সেই সকল পরিকল্পনার বা অন্যের উপর দোষ চাপানোর সময় এখন নয় বরং এখন হলো সমস্যা চিহ্নিত করে আশু সমাধান করা। এই সমাধানের উপরই আগামীর স্থিতিশীলতা, নিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা বিরাজমান। সর্বোপরি এও বলা যায় সরকারের স্থায়ীত্ব এবং দেশের কল্যাণ নির্ভরশীল। তাই আমাদেরকে আর বিভেদ ও বিভাজনে নয় বরং ঐক্য ও সমন্বিত ঐক্যবদ্ধতায় মননিবেশ করতে হবে। সকল সংকটে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করে জাতিকে একটি সুনিশ্চিত গন্তর্ব্যে পৌঁছে দিতে হবে। নতুবা বাতাসে দোল খাওয়ানোর মত অবস্থা বার বার দৃশ্যমান হবে এবং জুলন্ত বা উড়ন্ত সেতুতে দন্ডায়মান অবস্থায় দোল খাওয়ার ভয়াভহতাকে সঙ্গি করে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হবে। জাতি এই বিষয়গুলো বার বারই প্রত্যক্ষ করেছে কিন্তু এর থেকে শিক্ষা নেয়নি এমনকি মনেও রাখেনি। এটাই হলো হতভাগ্য জাতির কপালে দুর্ভাগ্যের রসালো তিলক।
ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। স্বাধীন মত প্রকাশেরও কোন বিকল্প নেই। পরামর্শ ও সমালোচনারও কোন বিকল্প নেই। তাই আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই, বিন¤্র হই, নীতি ও আদর্শকে অনুসরণ করি। সততা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও দশে মিলে করি কাজকে সমাজে, পরিবারে ও রাষ্ট্রে মজবুত করি। বিগত সরকারগুলোর ভুলগুলোকে আর নিজেদের চর্চায় যুক্ত না করি। নিজেকে আর ক্ষমতার মালিক না ভাবি বরং একজন সেবকের ভুমিকায় অবতীর্ণ করি। রাগতস্বরে বা দাম্বিকতার স্বরে আর কথা না বলি। বরং নিজেকে সংযত করি আর নতস্বরে ও শীরে সেবার দায়িত্ব পালন করি। পুর্ববর্তীদের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে অগ্রসর হই। নমরুদ ও ফেরাউন যখন স্থায়ী হতে পারেনি তাই আর কেউ পারবেনা এই ভেবে পূর্ববর্তীদের অনুসারী না হই। করুণ পরাজয় ও পরাজিত হয়ে পালিয়ে বেড়ানোর চেয়ে বরং ন¤্র ও নত হয়ে সেবকের ভুমিকায় দৃশ্যমান অবতীর্ণ হওয়া অনেক উত্তম। উত্তম কাজের দিকে মনযোগী হই।
অনেক নৈরাজ্যের মাঝেও স্বর্গকে আলাদা করি এবং ঐ স্বর্গে সবাইকে নিয়ে বসবাস করি। আসুন আমরা স্বর্গের স্বন্ধানে উঠে পড়ে লাগি এবং স্বর্গকে আলিঙ্গন করি। স্বর্গের দ্বারে সবাইকে পৌঁছে দিতে কার্যকর ভুমিকা পালন করি। জয় হউক সবার এবং সবার সঙ্গে আমার ও আপনার সংযুক্ত হওয়া বৃদ্দি পাক এবং মজবুত হউক। এই কামনা করেই সকল নৈরাজ্যমুক্ত বাংলাদেশ ঘরে ঘরে উপভোগ করি। আমিন।