এনবিআর এখন বোকামীর কারখানায় পরিণত হয়েছে। তারা বিভিন্নভাবে করদাতাদের চিঠি দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে এবং নিরিহ করদাতা অথবা প্রয়োজনে টিন খোলাদের রিটার্নের উপর চিঠি পাঠানো হচ্ছে। ঐসকল করদাতা বা রিটার্ন জমাদানকারীদের কোন একাউন্টও নেই এমনকি ইনকামও নেই বরং তারা স্বামী বা পিতা-মাতার উপর নির্ভরশীল। তাই ঐ বোকামীর জন্য এত অর্থ ব্যয় করে তাদেরকে চাকরিতে রাখতে হবে কেন? দ্বিতীয়ত তারা জানে না কিভাবে কর ফাকি বা লুকানো সত্য উন্মোচন করতে হয়। বরং জানে আতঙ্ক বা হয়রানি করার কাজ। এই ঘটনাটি সত্য এবং আমার কাছে এইসকল বিষয়ের যথেষ্ট প্রমান রয়েছে।
সরকার ইদানিং উত্তেজিত বা গরম হয়ে বোকামীতে লিপ্ত হয়েছে। কথায় আছে রেগে গেলে তো হেরে গেলেন। চারিদিকে যা কিছু হচ্ছে সবই নিরবে সহ্য করে দৈনন্দিন কর্মকান্ড চালিয়ে যান এবং জনগণের কল্যাণে সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করুন। তাহলেই কাংখিত লক্ষ্যে পৌঁছা সম্ভব হবে। নতুবা বিপদ বাড়বে বৈ কমবে না। কথায় এও আছে ভেঙ্গুলের পাছায় আঙ্গুল দিতে নেই। তাই বলি সাবধানতার বিকল্প নেই বা মাইর নেই। তাই সাবধান থেকে অতি সাবধান হউন। কারো পামে ফুলবেন না এবং উত্তেজিতও হবেন না। স্বার্থ আদায়কারীদের কথায় কান দিবেন না। তাহলে সমুহ বিপদ আসন্ন।
ইদানিং সাংবাদিকদের পক্ষে ও বিপক্ষে সরকারের অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ। হয়রানি এবং হামলা ও মামলার স্বীকার পাশাপাশি সাংবাদিক এক্রিডিটেনশন কার্ড বাতিল কান্ডও ঘটেছে। তবে এইসকল যখনই ঘটে তখনই সরকারের অবস্থা ভাল নয় বলে বা মর্মে প্রতিয়মান হয়। পায়ের তলার নিচে মাটি সরা শুরু করলে এই অশুভন আচরণ পরিলক্ষিত হয়। তাই সরকার সচেতন হউন এবং গায়ে পড়ে ঝগড়া লাগা বন্ধ করুন। অন্যের দোষ বলা এবং অন্যকে নিয়ে গালমন্দও বন্ধ করুন। নিজেদের স্ব স্ব দায়িত্ব পালনে মনযোগী হউন এবং কোন গরম ইস্যু তৈরীর কাজ করবেন বা হতে দিবেন না। চোখ কান খোলা রাখুন।
রাজনীতির উত্থান ও পতন একই। আজ উত্থান কাল পতন। তাই রাজনীতির ক্রান্তিলগ্নে এসে ক্ষমতায় বসে অন্যকে নিয়ে তিরস্কার নয় বরং অন্যের অন্যায় থেকে শিক্ষা নিন। নিজেদেরকে বিন¤্র করে জনতার কল্যাণে নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করুন। আর নয় দুষিত রাজনীতি ও হানাহানি এবং মারামারি। বরং সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়–ন। আজকের ক্ষমতা আগামীকালের অক্ষমতা এই ভেবে পথ চলুন। ক্ষমতা নামক বস্তুটি চিরস্থায়ী নয় বরং এটি ৫/৭/১০/১৫ এই ছকেই অবদ্ধ এবং এর বেশীকিছু নয়। আজকে যারা ক্ষমতায় নেই বিগত দিনে ক্ষমতায় ছিল এবং ক্ষমতার দাপট দেখিয়েছে কিন্তু তাদের কি অবস্থা তা একটু নিজের বেলায় চিন্তা করুন। আগামী দিনে আপনার কি হবে তা নিয়ে ভাবুন।
বিগত দিনে যারা অন্যায় ও দুর্নীতির সাথে যুক্ত ছিল (সরকার এবং সরকারের বাইরে) তাদের কথা চিন্তা করুন। পরাজিত সরকার এবং ইউনুছ সরকার এর মধ্যে পার্থক্য কি বলতে পারেন? আদতে কোন পার্থক্যই নেই তবে পরাজিত সরকার জনগণের কথা ভাবত এবং জনগণের জন্য কাজ করত। কিন্তু ইউনুছ সরকার জনগণ এবং দেশের জন্য কোনকিছুই করেনি বরং নিজের আখের গুছিয়ে বিদেশীদের হাতে দেশকে তুলে দিয়ে বর্তমান সরকারকে বিপদে সোপর্দ করে গেছে মাত্র। এই বিপদ থেকে সরকার বের হয়ে আসতে সুচের ছিদ্র দিয়ে বেহেস্ত গমনের মত কঠিন পরিস্থিতির পরিক্রমা অতিক্রম করতে হবে। তবে মানুষ পারেনা এমন নয় তবে সরকার ধৈয্য ধারন করে সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে এগুলো এবং পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করলে সম্ভব হবে।
এই দেশের জনগণ সরকারকে সুযোগ দিতে চায় এবং সরকারের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চায়। এখন এই সুযোগ এবং ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার মধ্যে যে সমন্বয় সাধন তা নিখুতভাবে করতে পারলেই হবে। তবে এই ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ব্যবহার ও এর যোগসূত্রতা জরুরী। চিলে কান নিছে তাই কানে হাত না দিয়ে চিলের পিছনে দৌঁড়ালে চলবে না বরং কানে হাত দিয়ে করনীয় ঠিক করতে হবে।
বিরোধী দল, সাধারণ মানুষ ও সমালোচক এবং বিতারিত মানুষজনসহ সকলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সামনে এগুতে হবে। এই সবাইকে নিয়ে সামনে এগুনোর সময়। পিছপা হওয়ার বা বিভেদ সৃষ্টি করার সময় নয়। সরকারকে পাছে লোকে কিছু বলে এই দিকে কান বা দৃষ্টি না দিয়ে সামনে এগুতে হবে। কে কি বললো এতে সরকারের যায় আসে না বরং জনগনের প্রয়োজনের যোগান দিতে মরিয়া হয়ে চেষ্টায় ত্রুটি পরিলক্ষিত হলেই যায় আসে। তাই সাবধান হউন এবং জনকল্যাণে নিয়োজিত থাকুন। নিজের ঢোল নিজেই পিটানে যাবেন না। বরং অন্যকে একটু ঢোল পিটাতে দিন। আর সমালোচক ও গঠনমূলক পরামর্শকদের সুযোগ দিন কথা বলতে। দুমুখো সাপদেরকেও সুযোগ দিন। কারণ এখন মিডিয়া উন্মুক্ত এবং জনগণ সবই বুঝে আর জনরোষ ও আকাঙ্খা পুরণে নিয়োজিত মানুষদেরকেও চিনে। সরকার ও জনগণ এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে সম্মিলিতভাবে ঐক্যবদ্ধ করুন। এই দায়িত্ব সরকারের। সরকারের বিভিন্ন বিভাগগুলোকে আরো স্বচ্ছ ও জবাবদিহীর আওতায় আনয়ন করুন। প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্কউন্নয়নে আরো মনযোগী হউন। বোকামীর ফাঁদে আর পা দিবেন না। ইতোমধ্যে বোকামীতে নিমজ্জ্বিত হয়ে যে শিক্ষা হয়েছে তার থেকে বের হওয়ার ব্যবস্থায় গতিশীলতা আনয়ন করুন এবং তরুনদের সাথে অভিজ্ঞদের এমনকি বয়বৃদ্ধদের যুক্ত করুন। তাহলেই আমাদের আগামীর নিস্কৃতি। এই কামনায় সকলের জন্য।