প্রশান্তি ডেক্স॥ প্রবাসীদের বিদেশেই থাকার আহ্বানের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, আমরা ভিডিও মারফতে আপিল করেছিলাম যে, আপনারা যে যেখানে আছেন, আল্লাহর ওয়াস্তে কয়েকদিন থাকেন। অবস্থা ভালো হবে। গরম পড়ছে, ভালো হবে। কিন্তু তারা এটা শোনেননি। সেজন্য আমরা বাধ্য হয়ে বিভিন্ন দেশের ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়েছি। গত রোববার (১৫ মার্চ) রাজধানীর ইস্কাটনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিস (বিস) মিলনায়তনে এক সেমিনারে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। করোনাভাইরাসের বিস্তাররোধে কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশিদের সেদেশে প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে, বাংলাদেশও এমন কোনও সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কি-না, জানতে চাইলে ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ভারত বাংলাদেশের যাত্রীদের সেদেশে প্রবেশ বন্ধ করেছে। আমরাও সে অনুযায়ী ভারতের যাত্রীদের প্রবেশ বন্ধ করেছি। তিনি বলেন, যেসব দেশে করোনাভাইরাস বেশি আমরা সেসব দেশ থেকে ফ্লাইট বন্ধ করেছি। যেন বহিরাগত কেউ এসে ভাইরাস না ছড়ায়। এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে আমাদের জনগণকে সুরক্ষিত রাখার জন্য। যেসব দেশে করোনাভাইরাস অস্বাভাবিক মাত্রায় ছড়িয়েছে, সেসব দেশ থেকে আসা বন্ধ না হলেও যিনি আসবেন তাকে কোয়ারেন্টাইনে যেতে হবে। কিন্তু আমাদের বাঙালি প্রবাসীরা যখন আসেন, তারা এটাতে খুব অসন্তুষ্ট হন। কেউ কেউ আছেন, দেশে এলে নবাবজাদা হয়ে যান। ফাইভ স্টার হোটেল না হলে অপছন্দ করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের তো একটা দৈন্যতা আছে। এটা তো একটা বিশেষ অবস্থা, সেটা তো বুঝতে হবে। আমরা যাদের নিয়ে আসি, তাদের হজক্যাম্পে রাখি। এখন আমরা কয়েকটা হাসপাতাল রেখেছি। আমাদের ভয়, বেশি সংখ্যক আসলে আমরা কীভাবে রাখব? আমাদের ষোল কোটি লোক কয়েকজনের জন্য আক্রান্ত হোক, আমরা এটা চাই না। কারণ আমাদের বিভিন্ন ধরনের দুর্বলতা আছে। সমাজের দুর্বলতা আছে। সেজন্য আমরা ঠিক করেছি যে, ওদেরকে দূরে রাখার জন্য। এ কারণে আমরা জ্বর আসলে বলি, আপনারা বাড়িতে থাকেন ১৪ দিন। বাইরে-টাইরে বেশি যাবেন না। ইতালি থেকে আসা প্রবাসীদের আশকোনায় হজক্যাম্পে নেয়ার পর তাদের হট্টগোল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গতকাল যারা দেশে এসেছেন, ন্যাচারালি তারা কোয়ারেন্টাইনে যেতে চান না। দেশে আসছেন, সুতরাং সাথে সাথে বাড়িতে যাবেন, এই আগ্রহ থেকে আসছেন। তারপরে আমরা যেখানে রাখব, আগেও রেখেছিলাম ৩১২ জনকে। তারা এসে সেখানে থাকতে পছন্দ করেননি। বাংলাদেশে ফ্ল্যাট বাথরুম হয়, তারা কমোড বাথরুম ইউজ করেন। সুতরাং তাদের অসুবিধা হয়েছে। আমরা পর্যটন করপোরেশন থেকে খাবার দিয়েছি, তারা মনে করেন, সোনারগাঁও বা ফাইভ স্টার মানের হোটেল থেকে খাবার দেয়া উচিত। আমরা সেটা দিতে পারিনি। সেজন্য তারা অসন্তুষ্ট হয়েছেন। তাদের বিভিন্ন রকম অভিযোগ ছিল। আর তারা মনে করেন এগুলো খুব নোংরা। আমরা পাঁচ ফুট দূরে দূরে বেড রেখেছি, তারা এগুলো পছন্দ করেননি। তারা চাইছিলেন ভালো বেড-টেড। করোনাভাইরাসের কারণে বিভিন্ন দেশে স্কুল-কলেজ বন্ধের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, এ ধরণের হিড়িকের মধ্যে বন্ধ করলে তো আতঙ্ক সৃষ্টি হবে। আপনি যদি দেখেন, করোনাভাইরাসে যাদের মৃত্যু হয়েছে ১ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় জিরো এবং করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যাও প্রায় জিরো। আমাদের এখানে যেটা এসেছে, সেটা তো ইমপোর্টেড। সুতরাং আমাদের বাকি ছেলে-মেয়েরা তো অসুস্থ নয়। অসুস্থ হলে দেখা যেত।