বাজেটে জীবন-জীবিকা রক্ষায় অগ্রাধিকারের আহ্বান বিএনপির

প্রশান্তি ডেক্স ॥ করোনাভাইরাস মহামারীর প্রেক্ষাপটে আসন্ন ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিকে জোর না দিয়ে মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি।

গত মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজ বাসায় ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির বাজেট ভাবনা: অর্থবছর ২০২০-২১’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানান।

আগামী অর্থবছরের বাজেট সামনে রেখে তিনি বলেন, করোনা সংকটকালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিকে জোর না দিয়ে মানুষের জীবন রক্ষা ও জীবিকার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। করোনা সংক্রমণ রোধ করতে না পারলে কোনোভাবেই অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়। স্বাস্থ্যখাতে এহেন ঝুঁকি থাকলে অর্থনীতির স্বস্তির কোনো অবকাশ নেই।

বিএনপির পক্ষ থেকে ‘তিন বছর মেয়াদী পুনরুদ্ধার পরিকল্পনার আলোকে’ মহামারী পরিস্থিতি উত্তরণে মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোয় মুদ্রা ও রাজস্ব নীতির সমন্বয়ে নতুন ব্যবস্থা, অর্থনীতির সংকোচন রোধে কর্মসংস্থান ধরে রাখা, আয় সংকোচন রোধে ব্যবস্থা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সর্বোচ্চ জোর দেওয়ার সুপারিশ করেন দলটির মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা বিগত ৪ এপ্রিল জরুরি ভিত্তিতে নগদ সহায়তা প্রদান, তৈরি খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী বিতরণ, ছিন্নমূলদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা, গার্মেন্টস ও রফতানিমুখি শিল্প, প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক শিল্প, কৃষি খাত, খাদ্য সংগ্রহ এবং প্রবাসীদের জন্য আর্থিক সহায়তা সাপোর্ট প্রদান, স্বাস্থ্য খাতের জরুরি উন্নয়ন ও অপ্রত্যাশিত খাত ইত্যাদি ক্ষেত্রে ৮৭ হাজার কোটি টাকার যে জরুরি আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ প্রস্তাব করেছিলাম, সেটিকে আগামী বাজেট প্রণয়নের প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচনায় নিতে হবে।

প্রত্যেকের জন্য পারিবারিক চিকিৎসক, নার্স ও অবকাঠামোসহ স্বাস্থ্যখাতে সামগ্রিক ব্যয়ের জন্য বাজেটে জিডিপির পাঁচ শতাংশ বরাদ্দ দিয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্য ভাতার আওতায় আনার সুপারিশ তুলে ধরে তিনি বলেন, এ সংকটকালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিকে জোর না দিয়ে মানুষের জীবন রক্ষা ও জীবিকার বিষয়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। মন্দাকালীন বিনিয়োগ, ভোগ ব্যয় ও রপ্তানি কমে যাওয়ায় সামষ্টিক চাহিদা বাড়াতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, অর্থনীতি সংকুচিত হওয়ায় আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর কমবে, ফলে রাজস্ব আদায় আশানুরূপ হবে না। বাজেট ঘাটতি অর্থায়নের জন্য বিদেশি ঋণের ওপর জোর দিতে হবে। বাজেট ঘাটতি ও জিডিপির তুলনায় ঋণের অনুপাত সহনীয় কোঠায় রাখতে হবে। শুধু মুদ্রানীতি দিয়ে তারল্য যোগানের মাধ্যমে মহামারীর সংকট থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে না, প্রয়োজন সক্রিয় রাজস্ব নীতির।

করোনা মহামারী পরিস্থিতিতে বাজেট অর্থায়নে স্বাভাবিকের চেয়ে বাড়তি যে ঘাটতি হবে তা পূরণে বিএনপির পক্ষ থেকে একগুচ্ছ সুপারিশ তুলে ধরেন দলটির মহাসচিব।

এগুলো হলো- অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হ্রাস, বিদ্যুৎখাতে ক্যাপাসিটি চার্জ ও ভর্তুকি বাদ দেয়া, অতিরিক্ত জনবলের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া, দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় উৎস থেকে বিদেশি অনুদান বৃদ্ধি, স্বল্প সুদে ও গ্রেস পিরিয়ডসহ দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করা, অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ না নেওয়া, ট্রেজারি বিল ও সঞ্চয়পত্রের ঋণ পরিশোধে ব্যয় বাড়ানো, বৈদেশিক মুদ্রার আমদানি তহবিল গঠন, সহজে কর আদায়ের খাত বের করা, দেশে কর্মরত অনিবন্ধিত প্রায় আড়াই লাখ বিদেশির কাছ থেকে ওয়ার্ক পারমিট ও আয়কর বাবদ অর্থ আদায়, ট্রান্সফার প্রাইসিং সেল (টিপিসি) সক্রিয় করে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো থেকে কর বৃদ্ধি, কারেন্সি সোয়াপ, বার্টার ব্যবস্থা চালু, পুঁজিবাজার বর্হিগমন নিয়ন্ত্রণ ও মুদ্রাস্ফীতি পরিস্থিতি কঠোরভাবে মনিটরিং করার মাধ্যমে বাজেটে অর্থ সংকুলানের ব্যবস্থা করা।

আওয়ামী লীগ সরকারের জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নেই উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকারজনগণের ভোটের তোয়াক্কা করে না। একটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের কারণে সরকারের কোনো বৈধতা নেই। তারপরও এই মহাসংকটের সময়ে বৃহত্তর স্বার্থে আমরা দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ জাতীয় প্রয়াসের আহ্বান জানাচ্ছি। মহামারীর সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থতা ও সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক পরিণতির দায় সরকারকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব।

Leave a Reply

Your email address will not be published.