প্রশান্তি ডেক্স ॥ মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের (ডিএনসি) অতিরিক্ত মহাপরিচালক গোলাম আজম জানিয়েছেন, দেশের কোথাও বৈধ কোনও সিসা বার নেই। রেস্তোরাঁর আড়ালে অসাধু ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে এসব বার পরিচালনা করে আসছে।

গত মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে বিপুল পরিমাণ আইস, ইয়াবা, কুশ ও কোকেন উদ্ধারের ঘটনায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য দেন।
গোলাম আজম বলেন, “বনানীতে সিসা বারে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঢাকায় বৈধ কোনও সিসা বার নেই। তবে বনানীতে ২১টি সিসা বার রয়েছে। এছাড়া ধানমন্ডিতে একটি বার ছিল, যা অভিযান চালিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সিসায় যদি ০.২ শতাংশ নিকোটিন থাকে, তবে তা ‘খ’ শ্রেণির মাদক হিসেবে গণ্য হয়। আমরা সেক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। কিন্তু কিছু ব্যবসায়ী উচ্চ আদালতে রিট করে আমাদের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করেছিল।”
তিনি আরও বলেন, বনানীর ‘থ্রি সিক্সটি ডিগ্রি’ নামের প্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। এটি মূলত একটি রেস্তোরাঁ হলেও অবৈধভাবে বার চালাচ্ছিল। এর আগেও ‘অ্যারাবিয়ান কোজি’ নামে একই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ডিএনসি দুটি মামলা করে। নাম পরিবর্তন করে তারা একই অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছিল। বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১২টি মামলা রয়েছে।
রাজধানীতে একাধিক অভিযান : ডিএনসির তথ্য মতে, গত সোমবার (২৫ আগস্ট) আদাবর থানার বাইতুল আমান হাউজিং সোসাইটির একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে মো. খাইরুল ইসলাম রিয়ানকে (২৬) চার হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শেখেরটেকের একটি বাসা থেকে একাধিক মামলার আসামি মিলন মোল্লার কাছ থেকে ১ কেজি ৬০০ গ্রাম আইস উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় মূলহোতা সৌরভ ইসলাম শান্ত ওরফে তোফায়েল হোসেন শান্ত এবং ইয়াছমিন আক্তার আঁখি পলাতক রয়েছেন। এর মধ্যে সৌরভ ইসলাম শান্তকে ডিএনসির তালিকাভুক্ত গডফাদার বলা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।
অপরদিকে, একই দিনে পল্টন মডেল থানার পুরোনো ডাক ভবন থেকে ২৮০ গ্রাম টেট্রাহাইড্রো কুশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় মো. শহিদুল ইসলাম (৪৫) ও শুকুর মোহাম্মদ রিপন (৫০) নামে দুইজনকে গ্রেফতার হন।
বিমানবন্দরে কোকেনের বড় চালান : গত মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) ভোরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস ও ডিএনসির যৌথ অভিযানে গায়ানার নাগরিক কায়রান পেটুলার কাছ থেকে ৮ কেজি ৬০০ গ্রাম কোকেন উদ্ধার করা হয়। এটি দেশের ইতিহাসে এক অভিযানে উদ্ধার হওয়া সর্বোচ্চ কোকেন।
মূলহোতারা ধরা-ছোঁয়ার বাইওে : সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গোলাম আজম বলেন, “মাদকের মামলাগুলো সাধারণত যার কাছ থেকে উদ্ধার হয় তার বিরুদ্ধে হয়। মূল হোতাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া তুলনামূলক কঠিন। তবে তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা দেওয়া হয়। এখনও পর্যন্ত ১২টি মামলা হয়েছে এবং ২৭টি মামলা তদন্তাধীন।”
তিনি আরও জানান, বিমানবন্দর থেকে উদ্ধার হওয়া কোকেনের চালান বাংলাদেশে বাজারজাত করার জন্য আনা হয়েছিল কিনা, তা এখনও পরিষ্কার নয়। কোকেনটি ব্রাজিল থেকে নিউইয়র্ক ও দোহা হয়ে ঢাকায় আসে। বাংলাদেশে কোকেনের বাজার না থাকায় চালানের চূড়ান্ত গন্তব্য নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।