প্রশান্তি ডেক্স ॥ গত সোমবার সৌদি আরবের একটি ভবনে কাজ করতে গিয়ে মাথায় গ্লাস ভেঙে পড়ে মারা যান চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার যুবক মোহাম্মদ ওমর ফারুক (২৬)। তিনি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হাঙ্গারকুল কুইল্ল্যা বলির পাড়ার আব্দুস সালাম হাজির বাড়ির মোহাম্মদ ইউছুফের ছেলে।

সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আহমদ মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেন। মোহাম্মদ ওমর ফারুকের মরদেহ দেশে আনার চেষ্টা করছেন স্বজনরা। ওমর ফারুকের মতো প্রবাসে মারা যাচ্ছেন অসংখ্য রেমিট্যান্সযোদ্ধা।
চট্টগ্রাম জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুধু চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে গত আড়াই বছরে দেশে এসেছে ১০১৬ জনের মরদেহ। প্রতি মাসে ৩০ থেকে ৪০ জন প্রবাসীর মরদেহ আসছে এ বিমানবন্দর দিয়ে। এর মধ্যে চলতি বছর জুন পর্যন্ত মরদেহ এসেছে ১৯০ জন প্রবাসীর। ২০২৪ সালে এসেছে ৪১৭ জনের এবং ২০২৩ সালে এসেছে ৪০৯ জনের মরদেহ।
২০২৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারিতে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর দিয়ে প্রবাসীর মরদেহ এসেছে ৪৩ জনের, ফেব্রুয়ারিতে ৩৪ জনের, মার্চে ৩৫, এপ্রিলে ৪০, মে মাসে ৩৪, জুনে ৩৪, জুলাইয়ে ৫২, আগস্টে ২৬, সেপ্টেম্বরে ৩৩, নভেম্বরে ২২ এবং ডিসেম্বরে ৩৪ জন।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মহেন্দ্র চাকমা বলেন, ‘প্রবাসে শ্রমিক ভিসায় গিয়ে যারা মারা যান তাদের মরদেহ তিন বিমানবন্দর দিয়ে দেশে আনা হয়। এর মধ্যে একটি ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিলেট বিমানবন্দর। চট্টগ্রাম বিমানবন্দর দিয়ে প্রতি মাসে ৩০ থেকে ৪০জন প্রবাসী শ্রমিকের মরদেহ দেশে আসছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শ্রমিক ভিসায় প্রবাসে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মরদেহ পরিবহন এবং দাফনের জন্য ৩৫ হাজার টাকা করে তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বৈধ কর্মীর ক্ষেত্রে ওয়ারিশদের তিন লাখ টাকা প্রদান করা হয়।’
কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত মরদেহ দাফন ও পরিবহনের জন্য স্বজনদের ৫৬ লাখ ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালে দেওয়া হয়েছে এক কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ২০২৩ সালে এই অঙ্ক ছিল এক কোটি ২৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।
এ প্রসঙ্গে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বাসিন্দা সৌদিপ্রবাসী মো. ইকবাল বলেন, ‘প্রবাসে যেসব শ্রমিক মারা যান তাদের মরদেহ দেশে পাঠানো নিয়ে নানা ধরনের সমস্যা পোহাতে হয়। বিশেষ করে যাদের কাগজপত্র সঠিক নেই তাদের ক্ষেত্রে অনেক সময় লেগে যায়। আবার যাদের কাগজপত্র সঠিক রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এক সপ্তাহ মাসও লেগে যায়। একটি মরদেহ দেশে পাঠাতে যেসব বিমান বহন করে সেগুলোর দুই জন যাত্রীর টিকিট নিতে হয়। সব বিমান মরদেহ পরিবহন করে না। মৃত্যু পর মরদেহ হাসপাতালের হিমাগারে রাখতে হয়। এতে ব্যয়ের বোঝা আরও বেড়ে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার চাইলে দূতাবাসের মাধ্যমে প্রবাসীদের মরদেহ বিনা খরচে বা ভর্তুকি দিয়ে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারে। এতে অসংখ্য প্রবাসী পরিবারের ভোগান্তি কমবে। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, যেন এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।’
রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী গ্রামের বাসিন্দা ও দুবাইপ্রবাসী মো. রাশেদ বলেন, ‘বৈধপথে প্রবাসে যাওয়া ব্যক্তিদের মরদেহ দেশে আনতে তুলনামূলকভাবে কম জটিলতা থাকে। কিন্তু অবৈধপথে যাওয়া প্রবাসীদের ক্ষেত্রে নানা প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। এক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির মরদেহ দেশে আনতে এক মাসের বেশি সময় লেগে যায়। আবার অনেকের মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয় না