যত দোষ নন্দঘোষ

কে এই নন্দঘোষ। এখন জনগণ এই নন্দঘোষের ভুমিকায় অবতীর্ণ। রাজনীতিবিদদের কোন দোষ নেই। কালের পরিক্রমায় দোষ সম্মানে  বং ক্ষমায় পর্যবসীত হয়। আলেম-ওলামা-মাশায়েখ এবং ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর এমনকি এর সমর্থক এবং কর্মীদেরও কোন দোষ নেই। কালের পরিক্রমায় ছোট-বড় সকল অমার্জনীয় দোষও মার্জনায় এবং সম্মানের ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। সরকারী কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং সাধারণ শ্রেণী-পেশার মানুষেরও কোন দোষ নেই। তবে রাজনীতির বিবর্তনে ঐসকল দোষ কালের পরিক্রমায় হারিয়ে যায়। তবে দোষ হলো সাধারণ এবং অতিসাধারনের মোটকথা জনগণের। আর জনগণ ঐ দোষারুপের রোষানলে পড়ে

সবসময়ই সাতরিয়ে বেড়াচ্ছে। কুল-কিনারাহীন জীবনকে সঙ্গে নিয়ে পথ চলছে। তবে কখনো কখনো ঐ পথেই জীবনের যবনীকাপাত ঘটে আবার কখনো কখনো ঐ কঠিন পথেই কোন কোন চাপানো দোষাক্রান্তিতে জীবনের প্রদিপ নিভে এমনকি নিভু নিভু করে বিদায়

ঘন্টা বাজে। আগে আওয়ামী লীগের এবং এর নেতাদের বিচার হয়েছিল। এরপর জাতীয় পার্টির নেতা এমনকি সংশ্লিদেরও মামলা হামলা হয়েছে এমনকি প্রধান নেতার জেল-জুলুম হয়েছে। তারপর বিএনপি নেতাদের জেল-জুলুম হয়েছে, নির্যাতন হয়েছে, নিপিড়িন হয়েছে। প্রধান নেতা ও নেত্রী জেল খেটেছেন এবং দেশথেকে বিতাড়িত হয়েছেন। তারপর জামাত এবং যুদ্ধপরাধি ও মানবতা বিরোধীদের বিচার হয়েছে, রায় কার্যকর হয়েছে। সর্বশেষ সাংবাদিক ও সাধারণ জনগণ নির্যাতন এবং জেল-জুলুমের স্বীকারে পরিণত হয়েছে। এখন বিচার হচ্ছে আওয়ামী লীগ এবং সাধারণ কর্মী ও সমর্থকসহ নেতা কর্মীরা বিচারের আওতায় আছে এবং কারো কারো বিচার দ্রুত হচ্ছে এবং রায় ঘোষণাও হচ্ছে এবং রায় কার্যকরের প্রক্রিয়ায় রয়েছেন।

এই হল অতিত ও বর্তমান এবং ভবিষ্যতের হালচাল। কিন্তু এই হালচাল ভবিষ্যতে হুশিয়ারী দিয়ে ভাবাচ্ছে কঠিক ও কঠোর অশণীসংকেতের। কারো বিচারই স্থায়ী হয়নি এবং বরং বীরদর্পে সবাই রাজপথে পুর্ণবাসন হচ্ছে। তবে একমাত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হত্যা এবং মানবতা বিরোধী ও যুদ্ধপরাধীদের বিচার এবং রায় কার্যকর হয়েছে। এটা এক কালের বিবর্তনে ইতিহাসের পরিক্রমাই নেতি বা ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বহমান থাকবে। এর বাইরে কারো বিচারই স্থায়ী হয়নি এবং বিচারের রায় কার্যকরে কোন পদক্ষেপই ধোপে টিকেনি। বরং এই ইতিহাস মানুষকে আরো ইতি ও নেতিবাচকতায় সমৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করেছে। এই সকল কিছুর পরেই জতির তিলকে আটছে এক নতুন দোষারূপের অলৌকিক কাহিনী। সেই কাহিনীর মূল ভুমিকায় এবং চরিত্রেই রয়েছে যত দুষ নন্দঘোষ। এই চরিত্রের অধিকারীরাই হল আম জনতা বা জনগণ। আজ অবাক দৃষ্টিতে দেখতে হয় এবং জানতে এমনকি বলতেও হয় যে, আম জনতা কি পেয়েছে? আর কি পাবে? নেতা-নেত্রীরা আর তাদের সঙ্গীয় বাহিনীগুলো যা পেয়েছে এবং নিয়েছে তা দেখে ও শুনে জনতার চোখ চরখগাছে পরিণত হয়েছে। হায় হাসান ও হায় হোছেন মাতমে কাতরাচ্ছে। দেশ ও জনগণ আজ শর্য্যাশায়ী হয়ে এপাশ-ওপাশ করছে। কিন্তু মানবতা ও বিভেক এবং সচেতন মন ছটফটাচ্ছে। তাই অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে থেকেই জিবন বিপন্নে মনোনিবেশ করেছে এবং করছে। এই আভাগা জাতির কল্যাণ এবং ভবিষ্যত একমাত্র সৃষ্টিকর্তা দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হওয়ার আশার প্রখর গুনছে।

ইতিহাস শিক্ষা ও দিক্ষা দেয়। ইতিহাস তৈরী হয়, লিপিবদ্ধ হয়। কিন্তু দু:খের বিষয় হলো ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয়না, নেয়নি এমনকি নেয়ার চিন্তাও করেনা। তবে সকলেই ইতিহাস আওড়াই; ইতিহাস হতে চাই। কিন্তু ইতিহাস কি বলে সেইদিকে মনযোগ

দেয়নি। ’৫২. ’৬৯, ’৭১ কি আমাদের কোন শিক্ষা দেয়নি এবং অর্জনের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণাও দেয়নি। সেই একাত্তর থেকে ’২৪ পর্যন্ত বাঙ্গালী জাতি ইতিহাসই হয়েছে।

কিন্তু সেই ইতিহাস থেকে কোন শিক্ষা নিয়েছে বলে মনে হয়নি। বরং ইতিহাসকে বিকৃত করতে সকল আয়োজন সম্পন্ন করেছে। ইতিহাস আজ ক্ষতবিক্ষত, লজ্জিত এবং সুযোগ ও ক্ষমতা থাকলে চিরতরে বিলীন হতে চেষ্টায়রত। কিন্তু ইতিহাস লিখা হয়, বিকৃত হয় কিন্তু

চিরতরে নি:শেষ হয়না। তাই ইতিহাসের হিসাব নিকেশ বড়ই নিষ্ঠুর। ইতিহাস কখনো হিরো বানায় আবার ইতিহাস কখনো জিরোও বানায়। ইতিহাসের দোলনচাপায় পৃথিবী এখন পৃষ্ঠ হচ্ছে। যেমনি করে মৃত ব্যক্তিকে কবরে শোয়ায়ে বলা হয় মিনহা খালাকনাকুম

ওয়াফিহা ন্যূয়িদুকুম… নুখরীজুকম তারাতান উখড়া। খুজুরগণ বলে থাকেন কুলিল্লাহুম মালকিল মুলক, তুতিল মুলক, মিমমানতাসায়া… — …। এই সুরায় বর্ণীত কাহিনী হলো যা এমনকি নবীদের জীবনের কাহীনিতেও দেখা যায় একই বার্তা। সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে চললেই মুক্তি এবং ভক্তি বৃদ্ধি পায়। আর তাঁর বাইরে গিয়ে নিজস্ব ইচ্ছায় চললেই যবনীকাপাত ঘটে এমনকি মৃত্যুর মুখোমুখি অথবা বিপদ সংকুল জীবনে অধিষ্ঠিত হয়, হয়েছে এবং হবে। এটা প্রমানীত সত্য তবে এই সত্য বিশ্বাস করে কয়জনে। মানে ও জানে কয়জনে। এই সত্যের দৃষ্টান্ত অগনিত কিন্তু সেই দৃষ্টান্তে মানুষের আগ্রহ এবং দেখা ও বুঝার সময় কম। আর যাদের জীবনে ঘটেছে তারা তা তারাতারিই ভুলেগিয়ে নতুন ইতিহাস রচনায় ব্যস্ত। সেই ইতিহাস হউক নেতি বা ইতিবাচক। মানুষ এখন এই ইতিহাসের ঘুর্ণায়নেই আবর্তিত হচ্ছে। তাই মহান রবের দরবারে আকুতি ও মিনতি মানুষকে রক্ষা করো। আম জনতাকে রক্ষা করো। সকল মানুষের কল্যাণে তোমার শতভাগ ভালবাসাউজাড় করে দিয়ে পৃথিবীকে বেহেস্তী অভয়ারণ্যে সাজিয়ে তুলো। চারিদিকের যে উদ্মাদনা তা দেখে অশ্রুস্থাত চোখ ছলছলিয়ে ঘুরপাক খাওয়া ছাড়া আর কিইবা করার আছে। হ্যা একটি বিষয় আছে আর তা হলো দোয়া ও মোনাজাত করা, ক্ষমা করা,

ভালবাসা এবং স্ব স্ব অবস্থান থেকে প্রত্যেকে প্রত্যেককে সচেতন করে সৃষ্টিকর্তার কাছে নিয়ে যাওয়া। যদি এই কাজটুকুও করা যায় তাহলে পৃথিবীতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা এবং নিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা পু:ণ স্থাপিত হবে। আজ আমরা যে অবস্থানে এসে পৌছেছি তার থেকে

মুক্তির একামাত্র পথ হলো সৃষ্টিকর্তা। “তোমরা তোমাদের সমস্ত মন, সমস্ত (দিল) অন্তর দিয়ে তোমাদের সৃষ্টিকর্তাকে মহব্বত করো, তারপরের দরকারী হুকুম হলো তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মত মহব্বত করো।” এই দুটি হুকুমের চেয়ে বড় হুকুম আর নেই। এই মহব্বতের মাধ্যমেই জয় এবং নিশ্চয়তা ছিনিয়ে আনতে হবে। মহান সৃষ্টিকর্তার একটি কথায় আমাদেরকে নিশ্চিত জীবনের দিকে টানে। আর সেই কথাটি হলো “ তোমাদের জন্য আমার পরিকল্পনার কথা আমিই জানি, সেই পরিকল্পনা তোমাদের মঙ্গলের জন্য, অপকারের জন্য নয়। বরং সেই পরিকল্পনার মধ্যে দিয়েই তোমাদের ভবিষ্যতের আশা পূর্ণ হবে।” হা আমাদের ভবিষ্যতের আশা পূন্যের জন্য আল্লাহর সেই পরিকল্পনার উপর ভরসা করেই সামনে এগিয়ে যেতে চাই। আসুন আমরা সকল জনগণ এই প্রত্যাশার দিকেই অগ্রসর হই। আর এতে যদি “যত দুষ নন্দঘোষ” সাজতেও হয় তাতেও শান্তি ও স্বস্তি\

Leave a Reply

Your email address will not be published.