জনাব তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর পর নিজ দেশে ফিরে আসেন। তার বিরুদ্ধে মামলা এবং শাস্তি এমনক আন্তর্জাতিক বেড়াজালের মারপ্যাচে পড়ে দেশে আসতে না পাড়ায় তিনি হতাশাগ্রস্তই ছিলেন। বিশেষ করে মৃতশর্যায় থাকা মায়ের পাশে থাকতে না পাড়ার বেদনায় কাতর হয়ে বুদ্ধিদৃপ্ত হতাশা প্রকাশ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক মহলে সমন্বিত সমযোতায় গত ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে ১১টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্ধরে পা রাখেন। শুধু তিনি একা নন বরং তার স্ত্রী ও মেয়ে এই বাংলার মাটিতে পা রাখেন। এটা একটি মহা সাফল্য এবং ইতিবাচক দৃষ্টান্তও বটে।
দেশের মানুষ সেই আগমনকে স্মরণে রাখার জন্য একদিন আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে যার যার অবস্থানে জায়গা নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। প্রায় অর্ধকোটি মানুষ অধির আগ্রহে প্রীয় নেতাকে একনজর দেখার প্রত্যাশায় অপেক্ষারত ছিলেন। এই চলমান শৈত্য প্রবাহের কনকনে শীতে মানুষজন একরাত একদিন অপেক্ষার প্রহর গুনেছেন এবং শেষ পর্যন্ত তাদের প্রত্যাশা পুরণ হয়েছে তারেক রহমানকে দেখে এবং সম্বর্ধনা দিয়ে ও তার ১৫ মিনিটের গোছালো শব্দচয়নের দিকনির্দেশনা এবং আশার বানী শুনে। তিনি বর্তমানের সকল জঞ্জাল মুক্ত হয়ে দেশে এসেছেন এবং এই আসাতে বিভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হয়েছেন। তবে এই ক্ষেত্রে তিনি দেশবাসী এবং দলের নেতা নেত্রী ও সমর্থক এবং সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষদের সহযোগীতা চেয়েছেন।
তার রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন স্মরণ করিয়ে দেয় রাজনীতি বিদদের কোন অপরাধ নেই বরং তারা ধূয়া তুলসী পাতায় মোড়ানো এক পবিত্র আত্মা। তাদের উপর জেল-জুলুম, মামলা-হামলা ও অপবাধ আসবে এবং যাবে এই সবই করবে জনগণ। তবে সবচেয়ে বড় করা কুলিল্লাহুম মালিকুল মূলক্ তুতিল মুলক মিমমানতাশাআ বিয়াদিকাল খায়ের।—–। রাজনীতিবিদদের জীবন হয় রাজশীক এবং রাজার মতই যখন যেখানেই থাকুকনা কেন। জেল হউক বা প্রবাসে পলাতক অথবা নিজেকে আড়াল করে অন্যের আশ্রয়ে ও প্রশ্রয়ে থাকায়। তবে দেশবাসী যে আশা ও আকাঙ্কা নিয়ে প্রত্যাশার চাপ বৃদ্ধি করেছেন তা পূরণে মনোনিবেশ করলে তাহলে হয়তো আগামীর বাংলাদেশ হবে সুন্দর ও শান্তি এবং স্থিতিশিলতা আর নিরাপত্তা ও নিশ্চয়তায় ভরপুর।
এক তারেক রহমানকে নিরাপত্তা দিতে গিয়ে সরকার হিমসীম খাচ্ছে তাহলে হাজারো তারেক রহমানকে কিভাবে নিরাপত্তা দিবে। রাষ্ট্রিয় বা সরকারের কোন দায়িত্বে না থেকে যে নিরাপত্তা পাচ্ছে তা কি কোন কালে প্রশ্নের এমনকি প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে? যেহেতু তারেক রহমান জনতার নেতা এবং জনগণ তারেক রহমানকে ধারন ও লালন করে এমনকি এতদিন বয়ে নিয়ে এসেছে সেহেতু এই নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে কি জনতার নেতাকে জনবিচ্ছীন্ন করা হচ্ছেনা? তবে এইভাবে চলতে থাকলে একদিন এই জনতার নেতাও জনবিচ্ছিন্ন নেতা হিসেবে আভির্ভূত হবে। সেইদিকটি খেয়াল রাখা এখন থেকেই অতিব জরুরী। নেতাকে একনজর দেখতে জনতার যে কি ভোগান্তি তা টিভিতে দেখে আচ করা গেছে।
তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষ্যে জনজীবনে আশার সঞ্চার হওয়ার সাথে সাথে সমানতালে জনজীবনে দুর্ভোগও পোহাতে হয়েছে। অতি জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলো দীর্ঘক্ষণ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। স্বাভাবিক জীবন যাপনে দুর্বীসহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতাল, বিমানবন্ধর এবং গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাসকল (গুলশান, বনানী, বারিধারা ডিওএইচএস এবং বসুন্ধরা) যাতায়ত বন্ধ, চিকিৎসা বন্ধ, বাজার সদায় বন্ধ এবং বিদেশ যাতায়ত ও আগমন বন্ধ। সকাল ১০টায় রওয়ানা দিয়ে রাত্র ১০টায় গিয়ে এয়ারপোর্টে পৌঁছা হয়েছে। যাত্রী এবং বিমান উভয়েরই ক্ষতির সমূহ সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। তাই এইসকল কর্মসূচী হাতে নিয়ে জায়গা নির্বাচনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপুর্ণ এবং অতিগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জায়গা এবং রাস্তাসকল পরিহার করা বাঞ্চনিয়। নতুবা হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভবনা উকি দেবে।
আরেকটি কথা স্মরণে রাখতে হবে। জনাব ইউনূছ সাহেব যখন বাংলাদেশে এসেছিলেন তখনও কিন্তু এই জাতির সকলে মিলে ওনাকে অনেক প্রত্যাশা নিয়ে স্বাগত জানিয়ে দেশের সকল দায়িত্ব অর্পন করেছিল। কিন্তু আদতে কি দেখা গেল বা যাচ্ছে… সবই এখণ গুড়েবালি। এই হযবরল অবস্থায় আবার জনগণ তাদের চাহিদা ও প্রত্যাশার প্রয়োজনে জনাব তারেক রহমানকে আশাজাগা নিয়ে মনোনিত করেছেন। সেই থেকে ভয়েরও কারণ আছে। তাই অতি প্রত্যাশা পুরণ এবং পূরণকল্পে নেয়া পদক্ষেপ দ্রুত ফল বয়ে আনবে না বরং দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে ফল ভোগ করার জন্য। তাই এই দীর্ঘ সময় অপেক্ষার প্রহর গুনার সময় ও সুযোগ জনগণ থেকেই চেয়ে নিতে হবে। তবে এই চেয়ে নেয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। নতুবা আবারো জাতি হযবরল অবস্তায় দিশাহীন হবে।
সাপের যেমন খোলস পাল্টায় ঠিক তেমনি করে রাজনীতিরও খোলস বদলায়। কারো হাতেই ক্ষমতায় ও রাজনীতি চিরস্থায়ী নয়। বরং গূর্ণায়মান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজনীতি নিয়ন্ত্রীত হয় এবং ঘূর্ণায়মান থাকে। তাই এই ঘূর্ণায়মান রাজনীতির বেড়াজালে আবদ্ধ হওয়াই এখব বর্তমান ও ভবিষ্যতের একমান উপযুক্ত কাজ। এর বাইরে গেলে হয়ত সমস্যা এবং বিপদসংকুল জাতি আরো বিপদে পড়বে। তাই আসুন আমরা ইতিবাচকভাবে সকলকিছু গ্রহণ করি এবং নেতিবাচকতাকে বর্জন করি। ঘূর্ণায়মান রাজনীতি ও ক্ষমতাকে আলিঙ্গনে মিলেমিশে ভোগ করি এবং সেবার মানুষিকতাকে ব্যক্তি নয় বরং সামষ্টিক ও সামগ্রীক কল্যানে নিয়োজিত করি।
জনাব তারেক রহমান একটি গনতান্ত্রিক ঐক্য এবং ঐক্যবদ্ধ জাতি প্রত্যশা করেছেন এবং সকলের কাছে উদাত্ত আহবান রেখেছেন যেন এই জাতি আর বিভাজিত না হয় বরং ঐক্যের বদ্ধনে আবদ্ধ থেকে একে অন্যের পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারে। সকলের অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক রাজনীতি এবং নির্বাচন আপনার এবং আমার ও আন্তর্জাতিক মহলের চাওয়া ও পাওয়া। আর এই চাওয়া পাওয়ায় আমরা সকলে মিলে মিশে একযোগে একাকার হয়ে কর্ম সম্পাদনে মনোনিবেশ করি। দোষারূপের রাজনীতি এবং বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে ক্ষমা ও ভালবাসায় পূর্ণ হয়ে একে অপরকে গ্রহণ করে সামনে অগ্রসর হয়। দোষি চিহ্নিত করি এবং সন্দেহ ও আন্দাজ নয় বরং প্রমানসহ দোষীদের বিচারের আওতায় আনয়নে সকলের সহযোগীতা এবং ইতিবাচক মনোভাবকে কাজে লাগাই। বিভাজন এবং বিয়োগ নয় বরং যোগফলের প্রত্যাশায় জাতি একত্রিত হতে চায়। হাতের পাঁচটি আঙ্গুলও সমান নয় এবং একটি পরিবারের সকল সদস্যরাও একমত ও একত্র নয় বরং ভিন্নতা নিয়েই একসঙ্গে থাকে, কাজ করে এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে এগিয়ে যায়। আর এই বৃহৎ পরিবার এই দেশটিকে সাজিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। কারো প্রতি বিদ্ধেষ নয়, কারো প্রতি নেতিবাচক সমালোচনা নয়, কাউকে বিয়োগ বা বিসর্জন নয় বরং ঐক্যবদ্ধ যোগফলই হলো আগামীর কল্যাণ এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতিক। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে অগ্রসর হওয়া জরুরী। বর্তমানকে অতীতের শিক্ষার আলোকে মা এবং বাবার স্নেহ ও ভালবাসায় সাজিয়ে অগ্রসর হলেই দেশের কল্যাণ, জাতির কল্যাণ এবং উন্নতির সোপান প্রসারিত হবে, অবারিত হবে পথচলা এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা আর নিরাপত্তা ও নিশ্চয়তা। এই বিষয়গুলো নজরে এনে অতি সাবধানতায় অগ্রসর হউন। শুরুতে বা মাঝপথে ঠেকলে তিনমাথার কাছেও গিয়ে পরামর্শ নিয়ে অগ্রসর হউন। এই বিনীত আহবানে আজকের মত এখানেই ইতি।।