প্রশান্তি ডেক্স ॥ স্বাস্থ্যসেবা খাতের পরিধি বাড়াতে এবং তৃণমূলের মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে বেসরকারি সংস্থাগুলোকে (এনজিও) আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত “স্বাস্থ্য সেবায় এনজিও’র সম্পৃক্ততা” শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেন, “মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য, অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, প্রবীণ সেবা এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে এনজিওরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আমি আশা করি, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে তারা সরকারের পাশাপাশি অব্যাহতভাবে কাজ করে যাবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, “সারাদেশে, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে আমাদের এখনও দাইদের ওপর নির্ভর করতে হয়। তাই মাতৃ ও শিশুমৃত্যু রোধে দাইদের প্রশিক্ষিত করা জরুরি।” তিনি আরও বলেন, শুধু পরিবেশ নিয়ে আন্দোলন করলেই হবে না, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বৃদ্ধি করতে হবে।
স্বাস্থ্য সচিব মো. সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তারা মানসিক স্বাস্থ্য, চক্ষু চিকিৎসা এবং ইউনিভার্সেল হেলথ কাভারেজের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে ‘ফাস্ট ফুড’ দোকানের নিয়ন্ত্রণ এবং কেবল মেয়ে নয়, ছেলেদের বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। বক্তারা “ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫” প্রণয়নে বলিষ্ঠ ভূমিকার জন্য স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান।
সভাপতির বক্তব্যে স্বাস্থ্য সচিব মো. সাইদুর রহমান একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে ৩৫টি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, সেই বিশাল কর্মযজ্ঞে এখন থেকে এনজিওগুলোকেও সরাসরি সম্পৃক্ত করা হলো।
সভায় বাংলাদেশের ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন সেবার পথিকৃৎ, সিআরপি-এর প্রতিষ্ঠাতা ভ্যালেরি অ্যান টেইলরকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। সভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।