‘ভিসা নিয়ে সামনে আরও খারাপ সময় আসছে; আমাদের কাগজ কেউ বিশ্বাস করেনা’

প্রশান্তি ডেক্স॥ ভিসা প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, “এটা দেশের দায়। আমাদের পুরো সিস্টেমের দায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও না আমার ব্যক্তিগতভাবেও না। কারণ, পৃথিবীজুড়ে প্রচুর সুযোগ আছে। আমরা সেটা ব্যবহার করতে পারছি না নিজেদের দোষে। আপনাদেরকে এর আগেও কয়েকবার বলেছি, ভিসা যে দেয় না আমাদেরকে এ জন্য সম্পূর্ণভাবে আমরা দায়ী। আমাদের চিফ অ্যাডভাইজর নিজে বলেছেন, জালিয়াতিতে আমরা একেবারে সেরা। আপনি যখন জালিয়াতি করবেন আপনার কাগজ কেন বিশ্বাস করবে তারা।”

তিনি বলেন, “ভিসা বলুন বা অন্য যেকোনো কিছু বলুন, এডমিশন বলুন, সবকিছু কিন্তু কাগজের ভিত্তিতে নির্ধারিত। একজন নারী মেইডের চাকরি করতে গেছেন কোনও এক দেশে, সেখানে তার ভিসা হচ্ছে ফ্রন্ট অফিস ম্যানেজার হিসাবে ইন এ কোম্পানি। আপনি চিন্তা করুন, সেখানে কি পরিমাণ ধাপ্পাবাজি আমরা করেছি। আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত ঘর না গোছাবো এ সমস্যার সমাধান হবে না। আরও খারাপ সময় আসতে পারে। কারণ, আমাদের কাগজ দেখে কেউ বিশ্বাস করে না। আমরা সিস্টেম চালু করেছি, কিন্তু তারপরেও হচ্ছে না। হয়তো এটা আরও সময় লাগবে। আলটিমেটলি আমাদেরকে জেনুইন কাগজের দিকে যেতে হবে।”

গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব একথা বলেন। তৌহিদ হোসেন বলেন, “যুবক ডুবতে যাচ্ছিল ভূমধ্যসাগরে, তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তারপরে থেকেছে কোনও এক দেশে, সেটা লিবিয়াই হোক আর ইতালি হোক। তারপর তাকে ফেরত আনা হয়েছে। আমরা কিন্তু সাংঘাতিকভাবে সিম্প্যাথটিক তার প্রতি, হুইচ ইজ কারেক্ট। সে একজন ভিকটিম এতে কোনও সন্দেহ নাই। পাশাপাশি আমরা একটা জিনিস ভুলে যাই সে কিন্তু আইন ভঙ্গ করেছে। সে কিন্তু এই কাজেই গেছে। অথচ, গেছে সম্পূর্ণ অন্য অজুহাতে। আমি মনে করি, আমরা তাকে সিম্প্যাথি দেখাবো। তার রিহ্যাবিলিটেশনের চেষ্টা করবো। পাশাপাশি তাকে ব্যবহার করতে হবে এই র‍্যাকেট ভাঙ্গার জন্য। এটা যদি আমরা ভাঙ্গতে না পারি তাহলে আমাদের এই সমস্যা থেকে আমরা বের হতে পারবো না।”

বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আমি খুব লিমিটেড উত্তর দেবো, কারণ সরকারের সব চ্যালেঞ্জ তো আমার বিষয় না। তবে দুই একটা জিনিস যেটা বিদেশের সঙ্গে রিলেটেড আছে, একটা হলো যে আপনারা ইনভেস্টমেন্টের প্রশ্ন তুলছেন। আপনাদেরকে একটা কথা বলি, আমরা কিন্তু ইনভেস্টমেন্টের ব্যাপারে বাইরের লোকদের এনকারেজমেন্ট করেছি। তাদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। অনেক ক্ষেত্রেই কিছু রোডশো হয়েছে। কিন্তু আমি নিজেও মোটামুটি বিশ্বাস করতাম, আসলে আমরা খুব বেশি অর্জন এখানে করতে পারবো না। কারণ একটা জিনিস আমাদেরকে বুঝতে হবে, যারা বিনিয়োগ করবে তারা এক ধরনের নিশ্চয়তা ও স্ট্যাবিলিটি দেখবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের সরকার বাই ডেফিনিশন অস্থায়ী সরকার। পরবর্তী সরকারের অবয়ব কি হবে সেটা বিনিয়োগকারীদের জানা নেই। অনুমান হতে পারে কিন্তু অনুমান সত্য নাও হতে পারে। বিনিয়োগকারীরা অনেক কিছু চিন্তা করে করবে। সেই হিসাবে আমি এই কথা স্বীকার করতে পারি, বড় কোনও প্রোগ্রেস আমাদের হয়নি গত এক দেড় বছরে। আমি মনে করি, পরবর্তী সরকার নির্বাচনের পরে তাদের টার্ম হবে পাঁচ বছর। আমার বিশ্বাস, আসলে যেহেতু এখানে ইনভেস্টমেন্টের সুযোগ আছে অনেক। ইনভেস্টমেন্টের হিসাবটা খুব সহজ। যে যে দেশের ইনভেস্টরের হাতে টাকা আছে সে তার নিজের দেশের চেয়ে বেশি লাভ হবে এমন জায়গায় যাবে সবসময়।”

ইনভেস্টের জন্য বাংলাদেশ আকর্ষণীয় স্পট জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “যখন নতুন সরকার দায়িত্ব নেবে ইনভেন্টররা ঝাঁপিয়ে পড়বে না কিন্তু তারা আগাবে। আগামী দিনগুলোতে আমরা বাংলাদেশে আরও অনেক ইনভেস্টমেন্ট দেখতে পাবো। আমাদের মানব সম্পদের কিছুটা হলেও উন্নয়ন ঘটাতে হবে। আমাদের মানব সম্পদের অবস্থা খুবই খারাপ। আমাদের গ্র্যাজুয়েটরা অনেকেই লেখাপড়া জানে না। টেকনিক্যাল সার্টিফিকেট নিয়ে বের হয় দেখা গেল সে ওই কাজটা তেমন কিছু পারে না। এই জিনিস থেকে আমাদেরকে বের হতে হবে।” গাজায় ফোর্স পাঠানো প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আসলে সত্যি কোনও অগ্রগতি হয়নি। শুধু একটা ওপেন সম্ভাবনা আছে যে বাংলাদেশ এটার অংশ হতেও পারে। এর চেয়ে বেশি কিছু না। জিনিসটা এখনও ক্রিস্টালাইজও করেনি কয়েকটি দেশ।”

Leave a Reply

Your email address will not be published.