বাংলাদেশ এক কঠিন অধ্যায় অতিক্রম করে গনতান্ত্রিক নতুন সরকার ব্যবস্থার যাত্রা শুরু হয়েছে। তবে এই যাত্রায়ও রয়েছে নানান খুঁত। তবে সকল খুঁতকে পাশ কাটিয়ে এই যাত্রাকে অব্যাহতভাবে এগিয়ে নেওয়াই বড় কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফ্যাসিষ্ট বলি বা পরাজিত সরকার বলি এই দুই-ই কিন্তু দেশের জনগণের জানমালের ক্ষতি করেছে কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে শান্তিও দিয়েছিল। তবে পরাজিত সরকারের পরে যারা দেশবাসির অকুন্ঠ সমর্থন নিয়ে পরিবর্তনের লক্ষ্য ও কর্ম স্থির করেছিল সেই তারাও লক্ষ্যভ্রষ্ট এমনকি পথভ্রষ্ট হয়েছে। দেশকে গভীর এক সংকটের খাদে ফেলে রেখে কোনরকম জাননিয়ে বিদায় হয়েছে বা অদৃশ্যভাবে পালিয়েছে।
দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, আইন-শৃঙ্খলা এবং স্বাস্থ্য ও যোগাযোগকে একেবারে খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়েছে। এখান থেকে ফেরত আসায় এখন মহামুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন সরকার এক মহাউদ্যোমে মহা পরিকল্পনা নিয়ে এসেছে কিন্তু এই খাদের কিনারা থেকে উত্তোলন করে মহা পরিকল্পনা বাস্তাবায়ন বেসম্ভব হয়ে পড়েছে। তারপরও হাল ছাড়লে হবে না বরং আরো মজবুত করে হাল ধরতে হবে। তবে বিগত অন্তবর্তী সরকারের ব্যর্থতা এবং দুর্ণীতি ও লুটপাট জনসম্মুর্খে প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি ঐসকল সেবক নামের কলঙ্ক (উপদেষ্টাদের) বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার সম্পন্ন করতে হবে। নতুবা এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।
জনাব তারেক রহমান তার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন এবং সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী অগ্রসর হতে হলে দরকার অর্থ এবং দক্ষ ও আন্তরিক এবং সৎ জনবল। যেখানে ঘাটতি বিরাজমান সেখানে তিনি কিভাবে সামাল দেবেন এটাই এখন দেখার বিষয়। দীর্ঘ ১৭ বছর ঘুমহীন এবং কর্মহীন মানুষগুলোকে কিভাবে ঘুম এবং কর্মে নিয়োজিত করবেন তাও দেখার বিষয়। তবে ইতিবাচক কল্যানকামী চিন্তা ও কর্মের সঙ্গে ঐসকল নিদ্রাহীন এবং কর্মহীন মানুষগুলোকে নিয়োজিত করতে পারলে দেশের উন্নতি এবং সরকারের বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কে ঠেকায়? দলিয় শৃঙ্খলা এবং সততার নিষ্ঠা ও ন্যায়পরায়নতার মাধ্যমে দল সাজিয়ে এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সকল কাজে সম্পৃক্ত করতে পারলে সহজেই এই কঠিন পথ পারি দিতে সক্ষম হবে। যারা আজ সেবকের ভুমিকায় রয়েছেন তাদেরকে সেবকের ভুমিকায়ই রাখতে হবে। সেবক যেন কখনোই মালিক সেজে কর্মকান্ডে না জড়ায় এমনকি মালিক সব সময় মালিক না সেজে বড়ং সেবকের ভুমিকায়ও অবতীর্ণ হতে হবে। তাহলেই মালিক সেবক উভয়ে মিলেই সবার আগে বাংলাদেশকে সাজাবে এবং গুছাবে।
অতিউৎসাহি চিন্তা এবং কর্মকান্ড একদম বন্ধ করতে হবে। সরকারের চিন্তা ও পরিকল্পনার বাইরে কোন পদক্ষেপ নেয়া যাবে না বরং সরকারের চিন্তা ও কর্ম আর পরিকল্পনাকে প্রাধান্য দিয়ে অগ্রসর হতে হবে। তাহলেই সাফল্য সুনিশ্চিত। চোখ কান খোলা রেখে পদক্ষেপ নিতে হবে এবং এমনকি সেই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে হবে। সমস্যা যেখানে সেখানেই সমঝোতা ও সংযত আচরণ এবং ধৈয্য ধারণ করে আগ্রসর হতে হবে। উত্তেজনকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে শান্তি ও সহানুভুতি এবং ক্ষমা আর ভালবাসায়। তাহলেই সামনের দিনে কর্মচাঞ্চল্য এবং ঐক্যবদ্ধ মেলবন্ধন সুদৃড় হবে। ধীরস্থির হয়ে ঠান্ডামাথায় কর্মকান্ড পরিচালনা করতে হবে। যেরকম আশা করি সেইরকম আগে করিয়ে দেখাতে হবে। সেবা পেতে নয় বরং সেবা দিতে হবে। মুখে নয় বরং কর্মের মাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে। এটাই হবে এই সরকারের সাফল্যের মূল চালিকা শক্তি।
শত্রুর ছোবল থেকে নিজেকের এবং দেশবাসীকে রক্ষা করতে হবে। দেশীয় শত্রু এবং বিদেশী শত্রু উভয়ই মিলে একত্রিত হয়ে এই সরকারকে গলাটিপে মারার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেই সময় আসার আগেই ব্যবস্থা নিতে হবে। শত্রুর শত্রুতা শুরুর পূর্বেই ব্যবস্থা নিয়ে শত্রুতা ধ্বংস করতে হবে। বিরোধী দল এবং গুপ্তদল আর বিদেশী স্বার্থান্বেষী দলগুলো একত্রিত হওয়ার আগেই সকল কর্মকান্ডে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করতে হবে। শত্রুদের একত্রিত হতে দেয়া যাবে না। বরং শত্রুদের মধ্যেই নতুন শত্রুতা সৃষ্টি করে তাদেরকে ব্যতিব্যস্ত রাখতে হবে। শত্রুদের জীবনে শন্তি ফিরিয়ে আনার কাজে নিজেদেরকে নিয়োজিত রাখতে হবে। যাতে শত্রুরাও একদিন এই সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের অংশীদ্বার হয়। বিরোধী রাজনীতির দ্বার অবারিত ও উন্মুক্ত করে দিতে হবে। সকল দল ও মতকে সঙ্গে নিয়েই আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মান করতে হবে।
বৈষম্যহীন বাংলাদেশ, সবার আগে বাংলাদেশ, দল ও মতের উদ্ধের বাংলাদেশ, বিভাজনহীন ঐকব্যদ্ধ বাংলাদেশ এখন দৃশ্যমান রাখাই জরুরী। আর এই জরুরী কাজে যত তাড়াতাড়ি মনোনিবেশ করা যাবে ততই মঙ্গল হবে এই প্রথম বাংলাদেশের। তবে বদলী নতুন নিয়োগ ও পদায়ন এবং বিতারনেই কিন্তু নিস্কৃতি নয় বরং নিস্কৃতি হবে কাজে মনোনিবেশ এবং কার্যকর ভুমিকা ও বর্তমানের চাহিদা পুরনে আর আগামীর পরিকল্পনা দৃশ্যমানতায়। কারণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অভীপ্রায় এবং জনতার চাওয়ায় সেতুবন্ধন ও মেলবন্ধন সৃষ্টি করাই এখন মুখ্য বিষয়। তাই সকলকেই সজাগ দৃষ্টি দিয়ে অগ্রসর হতে হবে এবং এই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে বর্তমান সরকারকে সহযোগীতা করতে হবে এবং মাঝে মাঝে ইতিবাচক এমনকি গঠনমূলক সমালোচনাও করতে হবে। তাহলেই এই জাতির ভাগ্যকাশে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং নিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হবে।
একটি বিষয় বলতেই হয় যে, সকল দিকে মনযোগ বা হাত না নিয়ে করনীয়তে মনযোগ বা হাত দিন। স্বল্পদিনের পরিকল্পনা এবং মধ্যম পরিকল্পনা আর দীর্ঘ ও নাতিদীর্ঘ পরিকল্পনা স্থির করুন এবং সেই অনুযায়ী কর্মে নিয়োজিত হউন। একসাথে সবকিছু করতে যাবেন না বরং বর্তমানের প্রয়োজনের দিকে নজর দিন এবং সেই নজরে গুরুত্ব দিয়ে অগ্রসর হউন। একটি একটি করে প্রয়োজন চিহ্নিত করুন এবং সেই প্রয়োজনের যোগান দিন। একইভাবে দেশী ও বিদেশী সকল ক্ষেত্রেই এই পদ্ধতি অবলম্বন করুন। জনগণ চায়না এমন প্রয়োজন চিহ্নিত করে উপকার করতে যাবেন না বরং জনগণ যা চায় সেই দিকেই নজর দিন এবং জনগণের সঙ্গে থেকে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই প্রতিটি প্রয়োজনের যোগান সুনিশ্চিত করুন।
দলে ও সরকারের মধ্যে যারা দুষ্ট বা জনআকাঙ্খার বিপরীতের তাদেরকে চিহ্নিত করে স্বল্পদায়িত্ব নিয়োজিত রাখুন এবং তাদের দিকে সকল সময় দৃষ্টিনিবদ্ধন অবারিত রাখুন। যেন তারা জনআকাঙ্খার প্রতিফলনে নিজেদেরকে উপযুক্ত করে জনসম্পৃক্ত হতে পারে সেই ব্যবস্থা করুন। কাউকে বাদ দিয়ে নয় বরং সকলকে নিয়েই এই দেশটাকে গড়ুন। সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে আমরা পরের তরে এই কথা বাস্তবে এবং কাজে পরিণত করুন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন।