প্রশান্তি ডেক্স ॥ গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুতে সরবরাহ কমানোর পাশাপাশি, সার কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। হরমুজ প্রণালি বন্ধের কারণে বাংলাদেশের গ্যাস আমদানি ঝুঁকিতে থাকায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান বলেন, “আজ থেকেই সরবরাহ রেশনিংয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হয়তো একটি সার কারখানা খোলা রাখা হতে পারে।” সম্ভাব্য সরবরাহ সংকট মাথায় রেখেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্ল্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জানান, মার্চের চারটি এলএনজি কার্গো ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। তবে ১৫ ও ১৮ মার্চ নির্ধারিত দুটি কার্গো নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা কাতার গ্যাসকে চিঠি দিয়েছি। তারা এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। ফিরতি চিঠিতে চুক্তির জরুরি অবস্থার শর্ত যুক্ত হতে পারে বলে উল্লেখ করেছে। এতে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে।”
এই পরিস্থিতিতে দৈনিক ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে আগামী সাত দিনে এক হাজার ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সাশ্রয় সম্ভব হবে।
বর্তমানে সার উৎপাদনে দৈনিক ১৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। সেটি পুরোপুরি বন্ধ করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতে সরবরাহ ৮৭০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমিয়ে ৮২০ মিলিয়নে নামানো হবে।
১১ মার্চের মধ্যে যেসব এলএনজি কার্গো দেশে পৌঁছানোর কথা, সেগুলো ইতোমধ্যে হরমুজ অতিক্রম করেছে। ৩, ৫, ৯ ও ১১ মার্চ চারটি জাহাজ বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এসব কার্গো দিয়ে ১২ থেকে ১৫ দিন গ্যাস সরবরাহ সচল রাখা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।
মার্চ মাসে মোট ৯টি এলএনজি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৬টি কাতার এবং ২টি অস্ট্রেলিয়া থেকে আসার কথা। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি অনিশ্চিত থাকায় গ্যাস সরবরাহে রেশনিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।