ডিপো ভিত্তিক দৈনিক কোটা শিথিল করে সাপ্তাহিক কোটা চালুর দাবি পাম্প মালিকদের

প্রশান্তি ডেক্স ॥ ডিপোভিত্তিক দৈনিক কোটা পদ্ধতি শিথিল করে সাপ্তাহিক কোটা চালুর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির অভিযোগ, বর্তমান কোটা ব্যবস্থার কারণে সারাদেশে জ্বালানি সরবরাহে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। 

গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে সারাদেশে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্বাভাবিক চাপ তৈরি হয়েছে। গুজবের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্বাভাবিক চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত জ্বালানি কেনা শুরু হয়। এতে বাজারে হঠাৎ চাপ তৈরি হয়।” 

তিনি বলেন, “সংকটের সূচনা গুজব থেকে হলেও পরবর্তীকালে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জ্বালানি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই তড়িঘড়ি করে কঠোর বিপণন নীতিমালা আরোপ করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।” তার দাবি, এই সংকট প্রকৃত মজুদ ঘাটতির কারণে নয়, বরং বাজার ব্যবস্থাপনা, সরবরাহ কাঠামো ও নীতিগত ত্রুটির ফল। 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিপিসি প্রতিটি পেট্রোল পাম্পের ওপর কোটা আরোপ করে পূর্ববর্তী সময়ের গড় উত্তোলনের ভিত্তিতে প্রায় ২৫ শতাংশ কম সরবরাহের নীতি গ্রহণ করেছে। তবে পাম্পগুলো বাস্তবে সপ্তাহে সর্বোচ্চ পাঁচ দিন এবং মাসে গড়ে ২০ থেকে ২২ দিন জ্বালানি উত্তোলন করে। কিন্তু মাসকে ৩০ দিন ধরে দৈনিক কোটা নির্ধারণ করায় কাগজে ২৫ শতাংশ কমানো হলেও বাস্তবে সরবরাহ আরও বেশি কমে গেছে।

নেতারা আরও দাবি করেন, “এজেন্ট ও ডিলার পর্যায়ের সরবরাহ বন্ধ থাকায় মোট মিলিয়ে প্রায় ৪৫ শতাংশ জ্বালানি বাজারে কম আসছে। এতে অনেক পাম্পের বরাদ্দ এতটাই কমে গেছে যে ৫ থেকে ৯ হাজার লিটার ধারণক্ষম ট্যাংক লরি পূর্ণ লোডে ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। আংশিক লোডে তেল উত্তোলন করলে পরিবহন ব্যয় ডিলারদের কমিশনের চেয়েও বেশি হয়ে যাচ্ছে।” 

তারা বলেন, “ডিপোতে মজুদ থাকা সত্ত্বেও বিপণন কোম্পানিগুলোর ওপর দৈনিক সরবরাহসীমা বেঁধে দেওয়ায় প্রয়োজন অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা যাচ্ছে না। ফলে অনেক স্থানে দীর্ঘ লাইন, অসন্তোষ এবং পাম্পকর্মীদের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে।” 

এ পরিস্থিতিতে ডিপোভিত্তিক দৈনিক কোটা পদ্ধতি শিথিল বা প্রত্যাহার করে অন্তত সাপ্তাহিক কোটা চালুর দাবি জানান সংগঠনের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের জয়েন্ট কনভেনার মিজানুর রহমান রতন, আবু হিরণ এবং সদস্য সচিব মীর আহসান উদ্দিন পারভেজসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.