দ্বীচারিতা (দ্বীমুখী আচরণ)

মহান রব বলেছেন “তোমার কথার হ্যা যেন হ্যা হয় এবং না যেন না হয়।” আজ আমাদের সমাজে ও পরিবারে এমনকি রাষ্ট্রে অথবা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে এমনকি রাজনীতিতেও এই দ্বিচারিতা বা দ্বীমুখী আচরণ বিরাজমান রয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে ধর্মীয়ভাবে একে মোনাফেকিও বলা হয়ে থাকে। তবে এই এই দ্বিচারিতার বেড়াজাল আরো বিস্তৃতি লাভ করছে। সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের এমনকি মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রের জাল আর বিস্তৃতি লাভ করছে। নতুন সংসদ অধিবেশনেও এর কিছু আলামত পরিলক্ষিত হয়েছে। কেউ হাসছেন আবার কেউবা মনোকষ্টে চেহারা কুচকাচ্ছেন অথবা কেউ নিরবে সমর্থন দিচ্ছেন অথবা মেনে না নিয়ে ঘোমড়ে ঘোমড়ে শিখরে উঠছেন। এই দৃশ্যও দেখার ছিল বৈকি।

এই দ্বিচারিতা পূর্বথেকেই বিরাজমান ছিল কিন্তু জাতির প্রত্যাশা ছিল এইবার অন্তত এই দ্বিচারিতামুক্ত সংসদ এবং বাংলাদেশ পুনপ্রতিষ্ঠিত হবে। দ্বীমুখী আচরণ এই বাংলাদেশ থেকে বিতারিত হবে। কিছুই হয়নি তবে পুর্বের সকল কিছুরই পূনঃধ্বনীত হচ্ছে। তবে এখান থেকে সাবধান হওয়া উচিত এবং শিক্ষা নেয়া উচিত। নতুবা আগেই ভালো ছিলাম রেওয়াজে আওয়াজ উঠবে। তবে সরকারী দল ও বিরোধীদল এই উভয়েই কিন্তু যাত্রারম্ভে কিছু ভূল করেছেন যা জাতির প্রত্যাশা বা আকাঙ্খা নয়। তাই নিজেরাই শিক্ষা নিন এবং সেই শিক্ষার দিক্ষায় সামনে অগ্রসর হউন। আমি বলতে চই সবভাল যার শেষ ভাল তার। তাই যেন হয় আগামীতে। এই প্রত্যাশা এবং আকাঙ্খাই আমাদের জন্য অবারিত থাকুক।

রাষ্ট্রপতি ও সংবিধান দ্বারাই এই সরকার এবং বিরোধীদল ও সাবেক অন্তর্ববর্তীকালীন সরকার এর সুচনা বা যাত্রা হয়েছিল। এর বাইরে কোন সুযোগ ছিলনা। তাই ঐ রাষ্ট্রপতি এবং সংবিধানকে তোয়াক্কা না করা এমনকি অপমান করার অধিকার কাউকেই বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র ও এর অস্তিত্ব সংবিধান দেয়নি। তাই একটু সচেতন হউন এবং সেই সচেতনতার আলোকে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মান করুন, রাজনীতি করুন এবং গঠনমূলক সমালোচনা ও ভুলত্রুটি সংশোধনে সহায়তা করুন। কাউকে ক্ষেয় বা দোষারূপের জন্য এই লিখা নয় বরং সকল জ্ঞানি ও গুনিজনের সম্মান বৃদ্ধিকল্পেই এই লিখা।

মহামান্য রাষ্ট্রপতি যে কেউ ই হউন না কেন তাকে বা তার ঐ চেয়ারটাকে বা পদটাকে সম্মান করাই আমাদের সকলের নৈতিক ও ঈমানি দায়িত্ব। সুতরাং সংযত হউন এবং সেই দায়িত্ব পালন করুন। ক্ষমতা এবং সুযোগ আসে উপর থেকে (সৃষ্টিকর্তা)। আর এই সৃষ্টিকর্তার দেয়া নিয়ামত ভোগ করতে সকলে সদয় হউন এবং সকলকে সবা প্রদান ও গ্রহন করতে আগ্রহী হউন এবং ইতিবাচকতায় মনোনিবেশ করুন। কারো ভুলের জন্য তাকে দোষারুপ না করে বরং ঐ ভুলকে দোষারোপ করুন। ভুল সংশোধনের সুযোগ দিন। অপসারণ করতে মরিয়া হবেন না কারণ অপসারণ হবে উপরওয়ালার ইচ্ছায়।

রাষ্ট্রপতির ভাষন একটি রেওয়াজ। আর এই রেওয়াজ পূর্ব থেকেই পালিত হয়ে আসছে। তবে এইবারও এর ব্যতিক্রম নয়। বরং জাতি আশা করেছিল যে, রাষ্ট্রপতি পুতুল না না নেচে নিজের স্বকীয়তা এবং স্বাধীনতচেতা মনোভাবের উদয় ঘটাবেন। এই ক্ষেত্রে এই ভাষণের বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসে একটি সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য ভাষণ উপহার দিবেন। যেহেতু রাষ্ট্রপতি পদটি কোন দলের নয় বরং এই পদটি রাষ্ট্রের সকলের। তাই তার এই বিষয়টি উত্থাপন করে ব্যবস্থা নেয়া জরুরী ছিল। আর যদি কোন ঐক্যমত্ত্বে পৌঁছা না যেত তাহলে হয়তো তিনি নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে অপাংতেয় মনে করে পদত্যাগ করে উদাহরণ সৃষ্টি করে আগামীর দৃষ্টান্ত হতে পারতেন। ভয়-ভীতির উদ্ধে উঠে এইকাজটুকুই জাতির প্রত্যশা এবং রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন এবং গঠনমূলক পরামর্শে জাতিকে এগিয়ে নিতে কাজ করাই আগামীর বলিষ্ট প্রত্যাশা।

সমালোচনা করতে গেলে বিষয় সম্পর্কে জানতে হয় এবং সেই অনুযায়ী সমালোচনা করতে হয়। তবে না জেনে ও না বুজে এমনকি সময় না নিয়ে যেসকল সমালোচনা হচ্ছে তা অজ্ঞাত হিসেবেই ধরে নিয়ে নেতিবাচকতায় ফেলে কাজে অগ্রসর হওয়া জরুরী। নেতিবাচক সমালোচনা ধ্বংস ডেকে আনে আর ইতিবাচক সমালোচনা বা গঠনমূলক সমালোচনা সমৃদ্ধি ডেকে আনে। তাই সকলেই সাবধান হউন। ঐক্যবদ্ধ হউন। সকলের অংশগ্রহণের ব্যবস্থায় ফিরে আসুন। সকলে নিয়েই দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে মনোনিবেশ করুন। সন্তান জন্ম হওয়ার পরেই বলতে পারেন না সেই কি হবে আর কি করবে। তবে সন্তানকে লালন পালন করে কিছু করার উপযুক্ত করুন এবং সুযোগ দিন যেন সে নিজেকে প্রমান করতে পারে। কিছু একটা করার সুযোগ দেয়া উচিত। ঘরবন্দী বা ক্যামেরা বন্দি এবং মিডিয়া বন্দি করে অথবা নেতিবাচকতায় বন্দি করে কোন লাভ নেই বরং আখেরে আপনার আমার সকলেরই ক্ষতি। এই ক্ষতি আর করবেন না বরং ক্ষতি থেকে দেশকে সুরক্ষা দিন বা করুন।

আশা করি আমরা আমাদের দ্বিচারিতা এবং দ্বীমুখী আচারণগুলো খুজে বের করে সামনে অগ্রসর হবো। আর নিজেদেরকে সংশোধন করে আগামী কল্যাণে নিজেদেরকে নিয়োজিত রাখব এই আশা এবং প্রত্যাশা আর শুভ কামনা এবং দোয়া মোনাজাত অব্যাহত রাখব।

Leave a Reply

Your email address will not be published.