শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি…শিবিরের

প্রশান্তি ডেক্স ॥ রাজধানীসহ দেশের সব মহানগরের স্কুল ও কলেজে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন সশরীরে ক্লাস নেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটি এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছে।

গত মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাতে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতি দেন শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ।

বিবৃতিতে তারা বলেন, এ হঠকারী সিদ্ধান্ত দ্রুত প্রত্যাহার করে প্রয়োজনে বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে নিয়মিত সশরীরে পাঠদান চালু রাখতে হবে।

বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেন, ৩১ মার্চ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় ঢাকাসহ সব মহানগরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অদূরদর্শী। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী দেশে জ্বালানি সংকট নেই, অথচ একই সঙ্গে জ্বালানি সংকটের অজুহাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস চালু করা হচ্ছে যা পরস্পরবিরোধী এবং জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।

তারা প্রশ্ন তোলেন, দেশে যদি সত্যিই জ্বালানি সংকট থাকে, তবে তার চাপ কেন শিক্ষার্থীদের ওপর দেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রের অন্য সব খাত সচল রেখে শুধুমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্ত করা হলে তা জাতিকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখা যেতে পারে।

করোনাকালীন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে শিবির নেতারা বলেন, অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থার কারণে শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়। উচ্চ ইন্টারনেট খরচ ও ডিভাইস সংকটে অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং শেখার ঘাটতি তৈরি হয়। পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত স্মার্টফোন ব্যবহারের ফলে ডিভাইস আসক্তি ও নৈতিক অবক্ষয়ের ঝুঁকিও বাড়ে। শ্রেণিকক্ষভিত্তিক পাঠদান ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনার অভ্যাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তারা আরও বলেন, জ্বালানি সংকট বা যানজট নিরসনের অজুহাতে শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিক্ষা অধিকার খর্ব করার সুযোগ নেই। শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দায়িত্বশীল ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, অন্যথায় এর দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে।

বিবৃতিতে অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে সব শিক্ষার্থীর জন্য নিয়মিত সশরীরে পাঠদান নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.