জ্বালানি সাশ্রয়ে অফিস সময়ে পরিবর্তন, সন্ধ্যা ৬ টায় সকল মার্কেট বন্ধ

প্রশান্তি ডেক্স ॥  মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সূচি পরিবর্তনসহ একগুচ্ছ কৃচ্ছসাধন ও ব্যয় সংকোচনমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সব ধরণের অফিস শুরু হবে সকাল ৯টায়, যা শেষ হবে বিকাল ৪টায়। এছাড়া সন্ধ্যা ৬টার পর সব বিপণিবিতান ও মার্কেট বন্ধ রাখতে হবে।

গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “আজকের বৈঠকটি বিশেষ পরিস্থিতিতে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টা কাজ করছেন এবং যাতায়াতের সময় বাঁচাতে ও যানজট এড়াতে এখানেই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।”

অফিস ও ব্যাংকের নতুন সময়সূচি : সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী কার্যদিবস থেকে সকল সরকারি ও বেসরকারি অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে। অর্থাৎ, অফিসের সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া ব্যাংকগুলো চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকাল বেলা ৩টা পর্যন্ত। তবে, আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করতে বিকাল ৪টায় ব্যাংক বন্ধ হবে।

বাজার ও বিপণি-বিতান : জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সন্ধ্যা ৬টার পর দেশের সকল মার্কেট, দোকানপাট ও শপিংমল বন্ধ রাখতে হবে। তবে, কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকান এবং খাবারের দোকানের মতো জরুরি সেবাগুলো এই নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে। এটি কঠোরভাবে মনিটর করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পরিবহন : নাসিমুল গনি জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আলাদা নির্দেশনা দেবে, যা আগামী রবিবার থেকে কার্যকর হতে পারে। এছাড়া স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমাতে এবং যানজট নিরসনে শুল্কমুক্ত সুবিধায় ইলেকট্রিক বাস আমদানির সিদ্ধান্ত হয়েছে। যেসব স্কুল এই উদ্যোগে অংশ নেবে তারা বিশেষ সুবিধা পাবে।

বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও নতুন ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তবে, কোনও পুরোনো বাস আনা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

ব্যয় সংকোচন : সরকারের জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতের বাজেট থেকে ৩০ শতাংশ ব্যয় কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন মাস পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনও নতুন গাড়ি (সড়ক, নৌ বা আকাশযান) এবং কম্পিউটার সামগ্রী কেনা যাবে না। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের সকল বিদেশ ভ্রমণ এবং অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের ৫০ শতাংশ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সভা-সেমিনারের আপ্যায়ন খরচও ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে।

আলোকসজ্জায় নিষেধাজ্ঞা : মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, জ্বালানি সংকটের এই সময়ে কোনও ধরনের বেসরকারি বিয়ে বা উৎসব-অনুষ্ঠানে আলোকসজ্জা করা যাবে না।

আইন সংশোধন : মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘পাবলিক এক্সামিনেশন অফেন্সেস অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট’র খসড়া অনুমোদিত হয়েছে। ১৯৮০ সালের এই আইনটি সংশোধন করে পাবলিক পরীক্ষায় অপরাধের বিচার আরও কঠোর করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি সরবরাহ : মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তেলের সরবরাহ লাইন কিছুটা ইনসিকিউর হয়ে পড়ায় সরকার বিকল্প উৎসের সন্ধান করছে। ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং কাজাখস্থান থেকে তেল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সচিব জানান। তিনি বলেন, “সরকার সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখছে এবং এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published.