আজ নীতি আদর্শ ও ঈমানী আমলগুলো নিভু নিভু প্রদীপের মত করে নি:শেষ হয়ে যাচ্ছে। এই আমলগুলোকে ফিরিয়ে আনতে এখন খোদায়ী চেতনায় উদ্ভুদ্ধ হতে হবে। সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা এবং এর ব্যবহার বৃদ্ধিকল্পে চর্চায় গুনগত মানোন্নয়ন করা জরুরী। আমাদের জীবন ও কর্মে এই গুণগত মানোন্নয়নে কি কি পরিবর্তন আনয়ন জরুরী তা খুজে বের করা এখন ফরজে অইনে পরিণত হয়েছে। এই পর্যন্ত পর্যালোচনা এবং জীবনের গতি প্রকৃতি নিয়ন্ত্রণ করে দেখা যায় যে, সৃষ্টিকর্তার দেয়া নীতি ও আদর্শ এবং ঈমানী আমলগুলোতে যথেষ্ট অভার পরিলক্ষিত হচ্ছে।
যেমন কথা দিয়ে কথা না রাখা। অন্তরে এবং বাহিরে একমত না হওয়। চিন্তা এবং কর্মের সমন্বয় না করা। জীবন চলার পথে জীবিকা নির্বাহ এবং কর্মসম্পাদনে নিয়ম ও নীতির তোয়াক্কা না করা। এই সবই এখন গতানুগতিক রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। ব্যবসা পরিচালনায় ক্রেতা বিক্রেতার যোগাযোগ সম্বন্ধে অবনতি। সততার ঘাটতি। নীতি ও আদর্শের চর্চার অভাব। কথায় ও কাজে মিল না রাখা। দেখালো একটি ভালো সামগ্রী এবং দেয়ার সময় গুণগতমান সঠিক না করে ক্রেতাকে ঠকানো। সব সময় মোনাফা অর্জনে সকল কিছু বিসর্জনে মত্ত্ব থাকা। এইগুলো এখন সমাজের রীতিতে পরিণত হয়েছে।
সরকারী দায়িত্ব পালনেও ঐ একই অবস্থার পুনরাবৃত্ত্বি দৃর্শমান হচ্ছে। এবার যে যেখানে যে দায়িত্ব্ই পালন করুক না কেন সবখানেই ঝামেলা সৃষ্টি করা যেন একটি মহৎ রেওয়াজ হিসেবে প্রতিষ্ঠীত হয়েছে।
এইসকল ক্ষেত্রে সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত্ব নীতি-আদর্শ ও ঈমানী দায়িত্ব পালনে অপারগতা যেন সামাজিক ব্যাধি হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। তাই আসুন যার যার ধর্মানুযায়ী সৃষ্টিকর্তার দেয়া বিধানাবলী অনুসরণ করি। নীতি ও আদর্শ এবং ঈমানী দায়িত্বকে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির আঙ্গিকে নিরুপন করে স্ব স্ব কাজে আরো গতিশীলতা নিয়ে এগিয়ে যায়।
যে যেই ধর্মই করিনা কেন মাবুদ আল্লাহ, খোদা (সৃষ্টিকর্তা) কিন্তু এক। তাওরাত শরীফের একটি আয়াত এই ক্ষেত্রে উল্লেখ করছি-“বণিইসরাইলরা শোন; তোমাদের মাবুদ আল্লাহ এক। তোমরা প্রত্যেকে তোমাদের সমস্ত দিল, সমস্ত প্রাণ ও সমস্ত শক্তি দিয়ে তোমাদের মাবুদ আল্লাহকে মহব্বত করবে।” এখানে পবিত্র কোরআন থেকে আরো একটি আয়াত উল্লেখ করছি “বল, হে কিতাবীগণ! তাওরাত, ইঞ্জিল ও যাহা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ হইয়াছে তোমরা তাহা প্রতিষ্ঠিত না করা পর্যন্ত তোমাদের কোন ভিত্তিই নাই।”
হ্যা মানবকুলের প্রতি বা সৃষ্টির সেরাজীবের প্রতি সৃষ্টিকর্তার বক্তব্য কিন্ত একটিই এবং তিনি এক ও অদ্বিতীয় আর তাঁর কোন শরীক নেই। তাঁর কাছ থেকেই আগমণ আবার তাঁর কাছেই প্রস্থান। এর বাইরে কান গতি নেই এই সৃষ্টির সেরা জীবদের। তাই আসুণ আমরা সকলেই নীতি-আদর্শ ও ঈমানী আমলকে আরো শক্তিশালী করি এবং সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে আরো গভীর সম্পর্কের ক্রমোন্নয়ন সাধন করি। যেন তাঁর কাছে ফিরে গিয়ে শান্তি আনন্দ এবং গর্ববোধ করতে পারি। তাঁর সঙ্গে চিরস্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারি। যার যার অবস্থান থেকে ধর্মীয় অনুভূতিগুলো এবং রীতি ও নীতি-আদর্শগুলো অনুসরণ ও অনুকরণ করে সামনের জীবনে অগ্রসর হই।
এই ক্ষেত্রে আমাদের আচরণ প্রতিবাদি নয় বরং সেবা ও মহত্ব আর ক্ষমা ও ভালবাসায় সাজিয়ে অগ্রসর হওয়া। এইক্ষেত্রে আরও একটি আয়াত উল্লেখ করে বোঝাতে চায় আমাদের করণীয় কেমন হওয়া উচিত। “তোমাদের সঙ্গে যদি কেউ খারাপ ব্যবহার করে তার সঙ্গে কিছুই করো না; বরং যে কেউ তোমার ডান গালে চড় মারে তাকে অন্য গালেও চড় মারতে দিও।” এই ভাবেই জীবনকে সাজিয়ে সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত্ব শান্তি, স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও নিশ্চয়তা এবং শতভাগ সফলতায় এগিয়ে চলি। সৃষ্টিকর্তা আমাদের সকলকে সহায়তা করুন যেন সকলেই প্রকারান্তরে আপনার ন্যায় হতে পারে। আপনার দেয়া গুণ ও জ্ঞানকে ব্যবহার করে আপনার সঙ্গে থাকতে পারে। এই প্রত্যাশাই করি। আমীন॥