শেখ হাসিনার পরিবারসহ ১০শিল্প গ্রুপের ৭৬হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ

প্রশান্তি ডেক্স॥ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবার এবং ১০টি শিল্প গ্রুপের দেশি-বিদেশি মোট ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা  হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। সংস্থাটি বলছে, অবৈধ সম্পদ অর্জন, কর ফাঁকি ও অর্থপাচারের অভিযোগে পরিচালিত যৌথ তদন্তের অংশ হিসেবে এসব সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বিএফআইইউ’র বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান সংস্থাটির প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন।

তিনি জানান, জব্দ করা মোট সম্পদের মধ্যে দেশের অভ্যন্তরে থাকা ৫৭ হাজার কোটি টাকার সম্পদ এবং বিদেশে থাকা ১৯ হাজার কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।

বিএফআইইউ প্রধান বলেন, ‘‘দেশ থেকে যে সম্পদ চুরি হয়ে গেছে, তা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। আশা করছি চলতি বছরের শেষ নাগাদ এ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি বা সুখবর দিতে পারবো।’’

অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘তদন্ত ও আর্থিক গোয়েন্দা কার্যক্রমে কোনও রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হয় না। সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন বা অর্থপাচারের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়।’’

তার ভাষায়, ‘‘আমরা দলমতের দিকে তাকাই না। সন্দেহজনক হলেই ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়। অন্তবর্তী সরকারের কেউ যদি এমন কর্মকান্ডে জড়িত থাকেন, সেটিও তদন্তে উঠে আসবে।’’

বিএফআইইউ জানায়, অন্তবর্তী সরকারের সময় শেখ হাসিনার পরিবার এবং ১০টি শিল্প গ্রুপের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, কর ফাঁকি ও অর্থপাচারের অভিযোগ তদন্তে একটি যৌথ তদন্ত দল গঠন করা হয়। তদন্তের আওতায় থাকা গ্রুপগুলো হলো এস আলম, বেক্সিমকো, নাবিল, সামিট, ওরিয়ন, নাসা, বসুন্ধরা, ডা. ইকবালের প্রিমিয়ার গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ এবং সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদের আরামিট গ্রুপ।

বিএফআইইউর তথ্য অনুযায়ী, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সম্পদ জব্দের পাশাপাশি একাধিক মামলা দায়ের, বিদেশে থাকা সম্পদ ফেরত আনতে আন্তর্জাতিক আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা নেওয়ার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, অর্থপাচারের মাধ্যমে বিদেশে সরিয়ে নেওয়া সম্পদ শনাক্ত ও পুনরুদ্ধারে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বছরের শেষ নাগাদ এ বিষয়ে আরও অগ্রগতি দৃশ্যমান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে বিএফআইইউ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.